করোনায় বিকল্প আয়ের চেষ্টা খুলনায়

Send
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:০৮, জুলাই ১৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:১২, জুলাই ১৬, ২০২০

স্টুডিওতে বিক্রি করা হচ্ছে ডিম ও গ্যাস সিলিন্ডারকরোনার কারণে খুলনার সাধারণ ও নিম্ন আয়ের লোকজন কষ্টের মধ্যে রয়েছেন। হতদরিদ্ররা সামান্য সরকারি ত্রাণেই সন্তুষ্ট ছিলেন এতদিন। ১ জুলাই থেকে সেই ত্রাণ কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় বিকল্প আয়ের সন্ধানে নেমেছেন অনেকে।

সেলুনে বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও স্প্রে-বক্স। স্টুডিওতে বিকল্প আয়ের আশায় তোলা হচ্ছে ডিম ও গ্যাস সিলিন্ডার। কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকায় সেখানে শুরু হয়েছে গ্যাসের ব্যবসা। রিকশা চালাতে না পেরে অসহায় বৃদ্ধ চাকার ওপর বক্স তৈরি করে সকাল-সন্ধ্যা ভ্রাম্যমাণ সিঙ্গাড়া বিক্রির কাজ করছেন। এভাবেই পরিবর্তন আসছে খুলনার বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের আয়ের উৎসে।

মহানগরীর গোবরচাকা প্রধান সড়কের হাসান সেলুনের মো. হাসান জানান, করোনার কারণে সেলুন খোলা যাচ্ছিল না। সে অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হলেও সেলুনে মানুষ তেমন আসছেন না। সেলুন খোলা থাকলেও কাজের সংকট। এ অবস্থায় বিকল্প আয়ের চিন্তা থেকেই সামান্য পুঁজি নিয়ে করোনা প্রতিরোধী মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও স্প্রে-বক্স বিক্রি শুরু করেছি। গত ৪-৫ দিন এ ব্যবসা থেকে ভালোই লাভ হয়েছে। বিক্রি অব্যাহত থাকলে সেলুন বন্ধ রেখে এসব সামগ্রী আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।

সেলুনে তোলা হয়েছে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও স্প্রে বক্স



















লিটন স্টুডিওর মো. লিটন জানান, করোনা পরিস্থিতে স্টুডিওর কাজ বন্ধ। প্রথমদিকে দোকান মালিক ভাড়ার জন্য চাপ না দিলেও এখন দিচ্ছে। সংসার চালানোর জন্যও টাকা দরকার। দোকান থাকার ফলে সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ পেতেও অসুবিধা। কিন্তু জীবন তো আর থেমে থাকে না। তাই গত সপ্তাহ থেকে ডিমের ব্যবসা শুরু করেছি। দুই দিন ধরে গ্যাস সিলিন্ডারও বিক্রি করছি। বাজার দরের চেয়ে একটু কম দাম রাখায় আশপাশের দোকানের লোকজনও কিনতে আসছে। বিকল্প আয়ের এ ব্যবসায় আশার আলো দেখছেন বলেও জানান তিনি।

অ্যামিটি কোচিং সেন্টারের স্বত্বাধিকারী আশরাফুল ইসলাম বলেন, সরকারি নির্দেশনার কারণে এখানে সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ। ফলে শিক্ষার্থীরা বেতন দিচ্ছে না। কিন্তু ঘর ভাড়া, খাওয়ার খরচ তো থেমে নেই। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ পেতে কিছু গ্যাস সিলিন্ডার এনেছি। কোচিংয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অনুরোধ করেছি তারা যেন তাদের প্রয়োজনীয় গ্যাস আমার কাছ থেকে নেন। পাঁচ দিনের এ ব্যবসায় সাড়াও মিলছে বেশ। আশপাশ থেকেও অনেকে আসছেন।

সকালে ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে করে সিঙ্গাদা বিক্রি করতে দেখা যায় বৃদ্ধ আজমত মিয়াকে। জানতে চাইলে জানান, রিকশা চালাতেন। ব্যাটারি রিকশা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শারীরিক দুর্বলতার কারণে রিকশার প্যাডেল ঘোরাতে পারেন না। করোনায় রিকশা ভাড়াও কমেছে। তাই বুদ্ধি খাটিয়ে এই গাড়ি বানিয়ে ঘুরে ঘুরে সিঙ্গাড়া বিক্রি করছেন। ছোট সাইজের সিঙ্গাড়া তিনি ১০ টাকায় ৪ পিস দিচ্ছেন। বিভিন্ন সড়কে তিনি এগুলো বিক্রি করছেন। সকালে বের হওয়া দিনমজুর, ভ্যানচালক, রিকশাচালকসহ সাধারণ মানুষ এগুলো কিনছেন। শুরুতে কম সিঙ্গাড়া নিয়ে নেমেছিলেন। বিক্রি ভালো হওয়ায় এখন ভ্যান ভরে সিঙ্গাড়া নিয়ে বের হন। 

খুলনা জেলার ত্রাণ কর্মকর্তা আজিজুল হক জোয়ার্দার বলেন, ৩০ জুন পর্যন্ত সরকারিভাবে ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। এ সময় পর্যন্ত ৫ হাজার ২৯৮ মেট্রিক টন খাদ্যসামগ্রী ও ১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ৪ হাজার ৮৩৩ মেট্রিক টন খাদ্যসামগ্রী ও ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। ১ জুলাই থেকে পরিবেশ স্বাভাবিক ধরে নিয়ে ত্রাণ কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।

/আরআইজে/এমওএফ/

লাইভ

টপ