পাঁচ বছর ধরে বৃষ্টি হলেই পানিবন্দি দুই শতাধিক পরিবার

Send
জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৭:১১, আগস্ট ০৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:১১, আগস্ট ০৫, ২০২০

বর্ষার পানিতে ডুবে গেছে জয়পুরহাটের এই সড়ক জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পশ্চিম কুজাইল ও চক-নয়াপাড়া গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধ অবস্থায় জীবনযাপন করছেন প্রায় পাঁচ বছর ধরে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হলেই গ্রামের চলাচলের সড়ক ডুবে যায়। জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে দুই শতাধিক বাড়িঘর।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে উপজেলার পশ্চিম কুজাইল ও চক-নয়াপাড়া গ্রামের বৃষ্টির পানি পাশ্ববর্তী ক্ষেতলাল উপজেলার সীমানা দিয়ে অপসারিত হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। কিন্তু ক্ষেতলাল সীমান্তে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে এক ব্যক্তি বাড়ি নির্মাণের পর থেকে এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ করা হলেও কোনও সুরাহা হয়নি। ফলে সেই থেকে বর্ষা এলেই জলে বসবাস করতে হয় গ্রাম দুটির দুই শতাধিক পরিবারের প্রায় সহস্রাধিক মানুষকে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় বৃষ্টির পানিতে ডুবে আছে পশ্চিম কুজাইল ও চক-নয়াপাড়া গ্রামের যোগাযোগের একমাত্র সড়ক। ডুবে গেছে বেশ কিছু বাড়িঘরও। এছাড়া সারা বছর ঘর গৃহস্থালীর অপসারণ করা পানি প্রবাহের নর্দমাগুলোও ডুবে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পশ্চিম কুজাইল সালাফিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষাদানে ঘটছে চরম ব্যাঘাত। সড়ক ও মাদ্রাসা জলাবদ্ধতার কারণে বর্ষা মৌসুমে শিশু শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসায় আসতে পারে না। দীর্ঘ সময় পনিবন্দি হয়ে থাকার ফলে ওইসব পরিবারের সদস্যরা পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সড়ক ডুবে থাকায় উৎপাদিত ধান, আলু ও অন্যান্য কৃষি পণ্য হাট-বাজারে নিয়ে যেতে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে গ্রামের কৃষকদের।

এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে গ্রামবাসসীর পক্ষ থেকে কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ করা হলেও কোনও সমাধান মেলেনি। পরে স্থানীয় জিন্দারপুর ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করার পর চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিয়া কয়েক দফা চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।
পশ্চিম কুজাইল সালাফিয়া মাদ্রাসার পরিচালক তাজমহল হোসাইন বলেন, পানি নিষ্কাশন না হওয়ার কারণে বর্ষা মৌসুমে গ্রামের সড়ক ও মাদ্রাসা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসায় আসতে পারে না। গ্রামের পল্লী প্রাণি চিকিৎসক নবীর উদ্দিন বলেন, পানি প্রবাহের পথ ভরাট করে পাশ্ববর্তী ক্ষেতলাল উপজেলা সীমান্তে জনৈক ব্যক্তি বাড়ি নির্মাণ করায় আমরা দুই গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ জলমগ্ন হয়ে পড়েছি। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বিষয়টি সুরাহার জন্য দরবার বসিয়েও কোনও লাভ হয়নি।

আনিছুর রহমান, কোহিনুর বেগম ও সালামত আলীসহ কয়েকজন গ্রামবাসী বলেন, আগে যে জমি দিয়ে দুই গ্রামের বর্ষার পানি নিষ্কাশন হতো সেই জমি ভরাট করার ফলেই তাদের এই ভোগান্তি। বর্ষার পানিতে গ্রামের সড়কসহ তাদের বাড়িঘরও ডুবে আছে। এ অবস্থায় প্রশাসনের ওপর মহলের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সুরাহার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রামবাসী।
স্থানীয় জিন্দারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিয়া গ্রামবাসীদের কষ্টের কথা স্বীকার করে বলেন, গ্রাম দুটি কালাই উপজেলার হলেও পানি নিষ্কাশনের পথটি ক্ষেতলাল পৌরসভা সীমানার মধ্যে। এ বিষয়ে ক্ষেতলাল পৌরসভা মেয়রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও সহযোগীতা না করায় বিষয়টি সুরাহা করা সম্ভব হয়নি।
ক্ষেতলাল পৌরসভার মেয়র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ওই গ্রামগুলোর পানি নিষ্কাশনের আগের যে পথ সেটির জমি ভরাট করে এখন তারা যে পথে পানি নিষ্কাশন করার কথা বলছেন, সেখানে বাড়িঘর নির্মাণ হয়েছে। বাড়ি-ঘর ভেঙে দিয়ে কি পানি নিষ্কাশনের পথ বের করা সম্ভব?।  
কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোবারক হোসেন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে অপরিকল্পিতভাবে ঘরবাড়ি নির্মাণ করার ফলেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/আরআইজে/

লাইভ

টপ