চাঁদপুরে মেঘনার পানি ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ : বহু গ্রাম প্লাবিত

Send
ইব্রাহীম রনি, চাঁদপুর
প্রকাশিত : ০০:২০, আগস্ট ০৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:২৪, আগস্ট ০৬, ২০২০

নিরাপদ আশ্রয়ে ছাগল নিয়ে যাচ্ছেন এক নারী  উজান থেকে নেমে আসা বানের পানিতে প্লাবিত হয়েছে চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন এলাকা। গত কয়েক দিন ধরে মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে থাকলেও বুধবার (৫ আগস্ট) তা ছিলো সর্বোচ্চ ৭৯ সেন্টিমিটার। এতে করে জেলার বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট, বাড়ি-ঘরে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। হাইমচর উপজেলার চরভাঙ্গা এলাকায় চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কিছু অংশ ভেঙেও পানি ঢুকছে। এছাড়া সদর উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের বহু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাণিজ ফাতেমা বলেন, সদর উপজেলার নদী তীরবর্তী ৮ টি ইউনিয়নের মধ্যে রাজরাজেশ্বর, ইব্রাহীমপুর, হানারচর, চান্দ্রা এবং লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন

জোরালেভাবে প্লাবিত হয়েছে। বিষ্ণুপুর, তরপুরচন্ডী এবং কল্যাণপুর এলাকার আংশিক প্লাবিত হয়েছে। তিনি বলেন, ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মানুষকে নিরাপদ রাখার জন্য স্কুল ভবন এবং ইউনিয়ন পরিষদগুলো খুলে দিতে বলেছি।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বিকাল থেকেই পানিতে ভাসছে চাঁদপুর শহরের জেএম সেনগুপ্ত রোড, পালবাজার এলাকা, লেকেরপাড়, মহিলা কলেজ রোড, তালতলাসহ কয়েকটি এলাকা।  

এদিকে আকস্মিক জোয়ারের পানিতে হাইমচর উপজেলার মহজমপুর, চরভাঙ্গা, এলাকায় চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে সেচ প্রকল্পে জোয়ারের পানি প্রবেশ করছে। এতে সেচ প্রকল্প এলাকার ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিপাকে পড়েছেন স্থানীয়রা। এছাড়া বেড়ীবাঁধের বাইরে থাকা ঘরবাড়ি, ফসলী জমি, মাছের ঘের, ঝিল, পুকুর, হাট-বাজার এবং বিভিন্ন সড়ক প্লাবিত হয়েছে।











হাইমচরের সাহেদ হোসেন দিপু বলেন, আমাদের ঘরে কখনও পানি ওঠে না। কিন্তু আজ উঠেছে। এ উপজেলার বেড়িবাঁধের বাইরে অধিকাংশ বাড়িতেই পানি। তিনি জানান, বিকেল ৩ টা থেকে পানি বাড়ায় হাইমচরের জালিয়ারচর হতে বাংলাবাজার পর্যন্ত বেড়িবাঁধের বাইরের পুরো এলাকায় পানি ঢুকে গেছে। এছাড়া মহজমপুর, চরভাঙ্গা এলাকার কালাচৌকিদার মোড় এলাকার বাঁধের ওপর দিয়ে পানির স্রোত বইছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম জানান, আকস্মিক এবং অস্বাভাবিকভাবে জোয়ারের ফলে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হাইমচর মহজমপুর, চরভাঙ্গা স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙে সেচ প্রকল্প এলাকায় জোয়ারের পানি প্রবেশ করছে। ভাঙন এলাকায় বাঁধ নির্মাণে আমরা জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বাবুল আখতার বলেন, এ বছরের মধ্যে বুধবার মেঘনা নদীতে পানির লেভেল সর্বোচ্চ। এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত মেঘনার চাঁদপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে। তিনি বলেন, জোয়ারের সময় পানি বাড়লেও সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর থেকে আবার কমতে শুরু করেছে। তবে এখন যে পরিমাণ পানি বইছে তা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
তিনি বলেন, আলগী দক্ষিণ ইউনিয়নের চরভাঙ্গা এলাকায় বাঁধে একটি ব্রিজ আছে। ব্রিজের নিচে ছিদ্র। তা বস্তা এবং মাটি দিয়ে বন্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু পানির চাপে সরে যাওয়ায় সেখান দিয়ে পানি ঢুকছে। বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যেই ওই স্থানের কাজ শুরু করবো।

/আরআইজে/

লাইভ

টপ