সুবর্ণচরে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা, ইউপি সদস্যসহ আটক ৩

Send
নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৬:২৩, আগস্ট ০৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৬:২৬, আগস্ট ০৭, ২০২০

 হত্যা
বয়স্ক ভাতার কার্ড চাওয়ার জের ধরে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে এক কৃষককে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। নিহতের নাম আবদুল মান্নান (৫৫)। নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চর জব্বার ইউনিয়নের কাঞ্চন বাজারে বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

এসময় সন্ত্রাসীদের হামলায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছে। এ ঘটনায় এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যসহ ৩ জনকে আটক করেছে চর জব্বার থানা পুলিশ।

নিহত কৃষক আবদুল মান্নান উপজেলার পশ্চিম চর জব্বার গ্রামের মজিবুল হক এর ছেলে।

আহতরা হলেন, পশ্চিম চর জব্বার গ্রামের নূর আলমের ছেলে পল্লী চিকিৎসক আবুল কাশেম (৩০), মো. রাসেল (২২) ও জয়নাল আবেদিন এর ছেলে হেলাল উদ্দিন (৩৬)।

নিহতের ছোট ভাই সফিকুর রহমান জানান, পূর্বশত্রুতার জের ধরে আমার ভাতিজা মঞ্জুকে খুঁজে না পেয়ে আমার ভাই আবদুল মান্নানসহ আমাদের আত্মীয় স্বজনদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করেছে ইউপি সদস্য বাহার উদ্দিন ও মজিবুল হক মাঝির ছেলে ফজলুল হক ফজলুর নেতৃত্বে ১৫-২০ জন সন্ত্রাসী। হাসপাতালে আমার ভাইকে নিলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে সফিকুর রহমান বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাহার উদ্দিন বৃদ্ধ মফিজুর রহমানকে বয়স্ক ভাতা প্রদানের জন্য তার কাছ থেকে ১ হাজার টাকা ঘুষ নেয়। এর কিছুদিন পর ওই বৃদ্ধ ইউপি সদস্য বাহার উদ্দিনকে ভাতা অথবা ঘুষের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করলে, বাহার মফিজুর রহমানকে মারধর করে। ওই ঘটনায় আমার চাচাতো ভাই মঞ্জু প্রতিবাদ করলে, বাহারের ছেলে বেন্ডা ও স্থানীয় মজিবুল হক মাঝির ছেলে ইসমাঈলের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তাকে পিটিয়ে আহত করে। ওই ঘটনায় গত ১০ এপ্রিল মঞ্জু বাদী হয়ে চর জব্বার থানায় মামলা দায়ের করে।

এর জের ধরে গতকাল বুধবার রাতে স্থানীয় কাঞ্চন বাজারে ইউপি সদস্য বাহার উদ্দিন ও মজিবুল হক মাঝির ছেলে ফজলুল হক ফজলু এর নেতৃত্বে ইসমাঈল হোসেন, আনিছ, আবুল কালাম, আবদুল আলী ও  আজাদ হোসেনসহ ১৫/২০ জন সন্ত্রাসী মঞ্জুকে না পেয়ে, বাজারে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে এবং আমার বড় ভাই আবদুল মান্নান ও আমাদের আত্মীয়-স্বজনের উপর হামলা চালিয়ে এবং এলোপাতাড়ি কুপিয়ে দোকান-পাট লুট করে চলে যায়। পরে, স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আমার ভাই আবদুল মান্নান, আবুল কাশেম, মো. রাসেল ও হেলাল উদ্দিনকে উদ্ধার করে  নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করলে, কর্তব্যরত চিকিৎসক আবদুল মান্নানকে মৃত ঘোষণা করেন।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম বলেন আবদুল মান্নানকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। এছাড়া, আহত তিন জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

চর জব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহেদ উদ্দিন জানান, দু’পক্ষের সংঘর্ষে একজনের মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে, স্থানীয় ইউপি সদস্য বাহার উদ্দিনসহ তিন জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। 

/টিএন/

লাইভ

টপ