২২৫ টাকার টিকিট ১৫শ’ টাকায় বিক্রি

Send
জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০:২২, আগস্ট ০৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৪৪, আগস্ট ০৭, ২০২০

জামালপুরের ইসলামপুর রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি হচ্ছে কলোবাজারে। আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ও ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি টিকিটের মূল্য ২২৫ টাকা । কিন্তু সেই টিকিট এখন ১২শ থেকে ১৫শ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। উপায় না দেখে বাধ্য হয়েই যাত্রীরা চড়া দামে এসব টিকিট কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
ইসলামপুর বাজার স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সীমিত পরিসরে ট্রেন চলাচলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন সরকার। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা রেল পথের জন্য দুটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা হয়। ইসলামপুর বাজার স্টেশনে আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের ৪৯টি আসনের মধ্যে শোভন চেয়ার ৩০টি প্রতিটি টিকিটের মূল্যে ২২৫ টাকা, এসি চেয়ার ১৫টি প্রতিটি টিকিটের মূল্যে ৪২৬ টাকা এবং ৪টি কেবিন রয়েছে যার প্রতিটির মূল্যে ৫১২ টাকা ও ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের আসন রয়েছে শোভন ৬০টি যার প্রতিটির মূল্যে ১৮৫ টাকা ও শোভন চেয়ার রয়েছে ৭টি যার প্রতিটি মূল্যে ২২৫ টাকা।

রেলের টিকিট অনলাইনে ওপেন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজসে খবর পাচ্ছে কালোবাজারিরা। এত করে টিকিট আগে থেকেই প্রতিদিন মোবাইল অ্যাপস এর মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কেটে নিচ্ছে তারা। পরবর্তীতে বিভিন্ন কারসাজিতে অতিরিক্ত দামে এসব টিকিট চড়া দামে বিক্রি করছে। প্রভাবশালী হওয়ায় কালোবাজারিদের নাম বলতে সাহস পাচ্ছে না কেউ।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে ইসলামপুর বাজার রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে জানা যায়, গন্তব্যের উদ্দেশে প্লাটফর্মে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছেন হাজারও যাত্রী। অধিকাংশ যাত্রীদের কাছে ট্রেনের টিকিট নেই। যাদের কাছে রয়েছে, তারাও কিনেছেন চড়া দামে।

ইসলামপুর পৌর শহরের মোশারফগঞ্জ এলাকার বাবুল মিয়া নামে এক গার্মেন্টস কর্মী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'টিকিট যেন সোনার হরিণ হয়ে গেছে, আমি একটা টিকিট কিনেছি ১২শত টাকায়। এই টিকিটের মূল্যে দেওয়া আছে ২২৫ টাকা। চাকরি বাঁচানোর তাগিতেই এই টিকিট কিনেছি আমি।'

ইসলামপুর উপজেলার পচাবাহলা এলাকার মোয়াজ্জেম হোসেন নামে এক রিকশা চালক বলেন, 'অনলাইন কি আমি বুঝি না, এখানে আসার পরে এক টিকিটের দাম কেউ ১২শ টাকা চায় আবার কেউ ১৫শ টাকা চায়। আমার এত টাকা দিয়ে টিকিট কেনার মতো সাধ্য নাই, তাই আমি ঢাকা যাওয়া বাতিল করে বাড়িতে ফিরে গেলাম।'

একই এলাকার গুঠাইল গ্রামের শাহজাহান মিয়া ও জলভাশা নামে দুই নারী গার্মেন্টস কর্মী আনেছা ও শিল্পি বেগম বলেন, 'সব টিকিট কালোবাজারিরা অনলাইনে কিনে রাখে। আমরা কেনার সুযোগই পাই না। শুক্রবার থেকে আমাদের ঈদের ছুটি শেষ। তাই আমাদের ঢাকায় যেতেই হবে। বাধ্য হয়ে আমরা ২২৫ টাকার টিকিট ১২শ টাকায় কিনলাম।'

এ ব্যাপারে ইসলামপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'ট্রেনের টিকিট তো অনলাইনে বিক্রি হয়। তাই আমাদের তো এখন আর কিছু করার নেই। যদি কেউ প্লাটফর্মে এসে টিকিট বিক্রি করে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেবো।'

এ ব্যাপারে ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, 'টিকিট এখন অনলাইনে বিক্রি করা হয়। আমাদের কিছু করার নেই।' এর প্রতিকার সম্বন্ধে অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'কোনও কালোবাজারি ট্রেনের টিকিট বিক্রি করলে আমরা মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।'

 

 

/এএইচ/

লাইভ

টপ