বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, ক্ষতিগ্রস্ত বসতভিটা নিয়ে বিপাকে দুর্গতরা

Send
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:০৯, আগস্ট ০৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:০৯, আগস্ট ০৯, ২০২০

BT-Newকুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ভোগান্তির শেষ হয়ানি দুর্গতদের। চরাঞ্চলসহ প্রায় সব এলাকার ঘর-বাড়ি থেকে পানি নেমে গেলেও কাদা আর বন্যার পানির তোড়ে ভেঙে যাওয়া ঘরবাড়ি নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বানভাসিরা। পাশাপাশি হাতে কাজ না থাকায় অপ্রতুল ত্রাণে খাদ্যকষ্টে রয়েছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বন্যা দুর্গতদের অনেকের বাড়িঘর বানের স্রোতে ভেসে গেছে। নদীভাঙনে বিলীন হয়েছে শত শত পরিবারের ভিটেমাটি। ফলে যারা ঘর-বাড়ি ছেড়ে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়ে কষ্টে দিন যাপন করছেন তাদের অনেকে ঘরে ফিরতে পারছেন না।

খাদ্য সংকটের পাশাপাশি চিকিৎসা সেবার সংকটে ভুগছেন বানভাসিরা। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ৮৫ টি মেডিক্যাল টিম গঠনের দাবি করা হলেও বানভাসি এলাকার মানুষদের অভিযোগ, তারা হাতের নাগালে কোনও স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না। পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও স্বাভাবিক রোগ চিকিৎসায় বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ বানভাসিদের।

উলিপুর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের আমিনুল ইসলাম জানান, ঢাকায় কাজ করতেন তিনি। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে বাড়িতে ফিরে প্রায় তিন মাস ধরে বেকার জীবন যাপন করছেন। এর মধ্যে বন্যায় এলাকায় কাজ না থাকায় পরিবারে সদস্যদের প্রতিদিনের খাবার জোটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এলাকায় প্রায় সবার অভাব থাকায় কারও কাছে আর ধার করতেও পারছেন না। কেউ ত্রাণ সহায়তাও দিচ্ছে না। চরম বিপাকে পড়েছেন তিনিসহ তার গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার।

ওই গ্রামের লাল মিয়া বলেন, ‘বানের পানিতে বাড়িঘর ভাঙি গেছে। ঘর ঠিক করমো সেই ট্যাকাও হাতত নাই। তিন বেলা খাবারও জোটে না। কাইয়ো সাহায্য না করলে আর চলব্যারে পাবার লাগছি না।’ একই চিত্র ওই গ্রামের প্রায় সব পরিবারে।

একই উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের গোলাম মেম্বারের চরের বাসিন্দা কাইয়ুম জানান, প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্যা আর ভাঙনের শিকার হয়ে তার গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছে। বেসরকারি পর্যায়ে কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ত্রাণ সহায়তা পেলেও তারা এখনও কোনও সরকারি ত্রাণ পাননি বলে অভিযোগ করেন কাইয়ুম।

তিনি বলেন, ‘চারপাশে ব্রহ্মপুত্র বেষ্টিত দ্বীপচর হওয়ায় আমাদের গ্রামে কোনও মেম্বার-চেয়ারম্যান আসে না। গ্রামের শতাধিক পরিবার ভাঙনের শিকার হলেও তাদের পুনর্বাসনে এখনও কোনও সহায়তা করা হয়নি।’

সাহেবের আলগা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিদ্দিক আলী মণ্ডল জানান, বন্যায় যে পরিমাণ ত্রাণ পাওয়া গেছে তা দিয়ে সব দুর্গত পরিবারে সহায়তা করা সম্ভব হয়নি। আরও বরাদ্দ পেলে বঞ্চিতদের সহায়তা দেওয়া হবে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলায় এ পর্যন্ত ৩শ’ মেট্রিকটন জিআর চাল ও ১৩ লাখ টাকা ক্যাশ উপ-বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে যা বিতরণ চলমান রয়েছে। এছাড়াও ৮ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, শিশু খাদ্যের জন্য ৬ লাখ এবং গো খাদ্যের জন্য ৯ লাখ টাকা উপ-বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে ঈদের আগে ভিজিএফ প্রকল্পে চার লক্ষাধিক পরিবারের মাঝে আরও ৪ হাজার ২৮৫ দশমিক ২৫ মেট্রিকটন চাল বণ্টন করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

/এমএএ/

লাইভ

টপ