মুঠোফোনে প্রেমের ফাঁদ: ধর্ষণের পর স্কুলছাত্রীকে হত্যা

Send
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৩:৪৫, আগস্ট ০৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫৯, আগস্ট ১০, ২০২০

নারায়ণগঞ্জে দিশা মনি (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে শীতলক্ষ্যা নদীতে বেড়াতে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় কথিত প্রেমিক আব্দুল্লাহ (২২), নৌকার মাঝি খলিল (৩৬) ও অটোচালক রকিবকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ও খলিল দিশা মনিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে।

রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ঘটনায় জড়িত ৩ আসামি স্বীকারোক্তি দেয়। এদিকে, ধর্ষণের পর হত্যার শিকার কিশোরী লাশ এখনও পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, দিশা মনি গত ৪ জুলাই বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরে ৬ আগস্ট তার বাবা জাহাঙ্গীর মেয়ে নিখোঁজের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করে। খুন হওয়া দিশা মনি দেওভোগ এলাকার একটি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

দিশা মনির সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার সূত্র ধরে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশ বন্দর উপজেলা থেকে গত ৭ আগস্ট কথিত প্রেমিক আব্দুল্লাহ এবং তার বন্ধু রকিবকে গ্রেফতার করে। ওই দিনই পুলিশ আসামিদের আদালতে উপস্থিত করলে তাদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। পরে আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নৌকার মাঝি খলিল মিয়াকে গ্রেফতার করে সদর মডেল থানা পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) শামীম জানান, দিশা মনির সঙ্গে মুঠোফোনে প্রেমের সর্ম্পক ছিল বন্দর উপজেলার আব্দুল্লাহ নামের ২২ বছর বয়সী যুবকের। সে দিশা মনিকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বন্দর এলাকায় বেড়াতে নিয়ে যায়। রাতে শীতলক্ষ্যা নদীর ৫ নম্বর ঘাট এলাকায় নৌকায় করে বেড়াতে নিয়ে প্রথমে আব্দুল্লাহ ধর্ষণ করে। পরে নৌকার মাঝি খলিল ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেয়।

এদিকে, খুন বা ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত না থাকলেও অটোচালক রকিবের মোবাইল ফোন দিয়ে প্রেম করায় আব্দুল্লাহর সহযোগী হিসেবে রকিবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা তিন জনই আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, অপহরণ মামলা তদন্ত করতে গিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে দুই আসামি আদালতে ওই কিশোরীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। হত্যার পর লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দিয়েছে বলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধারের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে।

/এনএস/এমওএফ/

লাইভ

টপ