ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ৬৫ কিলোমিটার অংশের বিভিন্ন স্থানে 'টিউমার'

Send
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০:৩৪, আগস্ট ১০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৩৯, আগস্ট ১০, ২০২০

ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের বগুড়া দক্ষিণে চান্দাইকোনা থেকে উত্তরে রহবল পর্যন্ত ৬৫ কিলোমিটার অংশ দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় অসংখ্য 'টিউমার' (উঁচু-নিচু) সৃষ্টি হয়েছে। অনেকস্থানে সৃষ্টি হয়েছে ১০ ইঞ্চি গর্ত। বিভিন্নস্থানে ধসে গেছে মহাসড়কের পাড়। এতে ওসব গর্তে পড়ে যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্ঘটনা ঘটছে। ভুক্তভোগীরা মহাসড়কটি সংস্কার করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বগুড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আশরাফুজ্জামান এ বেহাল দশার বিষয়ে বলেন, মহাসড়কের গর্ত পূরণের কাজ চলমান আছে। আর বর্ষা শেষ হলে মিলিং মেশিন এনে টিউমারগুলো কেটে ফেলা হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বগুড়ার দক্ষিণে শেরপুর উপজেলা থেকে উত্তরে শিবগঞ্জ উপজেলার রহবল পর্যন্ত ৬৫ কিলোমিটার মহাসড়কটি দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত সংস্কার হচ্ছে না। এতে মহাসড়কের অনেকস্থানে কার্পেটিং উঠে উঁচু ঢিবির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এ অবস্থাকে ‘মহাসড়কের টিউমার’ বলেন। কোনও কোনও স্থানে সৃষ্টি হয়েছে ছয় থেকে ১০ ইঞ্চি গর্ত। এছাড়া বিভিন্নস্থানে ধসে গেছে মহাসড়কের পাড়। মহাসড়কটিতে শুধু বড় যানবাহন নয়; নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে থ্রি হুইলার, হিউম্যান হলার, সিএনজি অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ভটভটির মতো অবৈধ যানও চলাচল করে। মাঝে মধ্যে মহাসড়কের গর্তে ও টিউমারে ধাক্কা লেগে এসব যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। বিভিন্ন সময় মোটরসাইকেল থেকে আরোহী পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। মহাসড়কের এসব মরণফাঁদে পড়ে প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। অনেকে পঙ্গু হয়ে যাচ্ছেন। ভেঙে যাচ্ছে যানবাহনগুলোর মূল্যবান যন্ত্রাংশ।

বগুড়া সদরের ছিলিমপুর, তিনমাথা, চারমাথা, মাটিডালি, শাজাহানপুরের বনানী, মাঝিড়া, বি-ব্লক, আড়িয়াবাজার, নয়মাইল বাসস্ট্যান্ড, শেরপুর এলাকায় মহাসড়কের এ বেহাল দশা। শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদের সামনে, থানা ভবন এবং মাঝিড়া মাছের আড়ৎ থেকে ক্যান্টনমেন্টের এমপি চেকপোস্ট পর্যন্ত উভয়পাশে মহাসড়কের পাড় ভেঙে গেছে।

এছাড়া মহাসড়কের অনেক স্থান দেবে ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বগুড়া-ধুনট ও বগুড়া-শেরপুর সড়কে চলাচলকারী বাসচালক আশরাফ আলী, সুপারভাইজার মিজানুর রহমান, সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক সৈকত, বি-ব্লক এলাকার অটোরিকশা চালক মুরাদ অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কের সংস্কার কাজ হয় না। মাঝে মধ্যে বড় গর্ত ইট দিয়ে মেরামত করা হয়। টিউমারের সঙ্গে ধাক্কা ও গর্তে পড়ে যানবাহনে প্রচণ্ড
ঝাঁকুনি হয়। একটু অসতর্ক হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কাও থাকে। তাই তারা মহাসড়কে অনেক ধীর গতিতে চলাচল করেন।

তারা আরও জানান, মহাসড়কের টিউমারের কারণে অনেক মোটরসাইকেল থেকে চালক ছিটকে পড়েন। এ অবস্থায় সামনের গাড়ি অতিক্রম করা সম্ভব হয় না।

মহাসড়কে অবৈধভাবে থ্রি-হুইলার চলাচল প্রসঙ্গে বগুড়ার গাড়িদহ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আশরাফ আলী জানান, এসব অবৈধ যান আটক অব্যাহত রয়েছে। তিনি দাবি করেন, থ্রি-হুইলার চলাচলের কারণে কোনও দুর্ঘটনা ঘটে না।

বগুড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুজ্জামান জানান, অতিরিক্ত মালামাল বোঝাই গাড়ি চলাচল করায় মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে উঁচু-নিচু হয়ে গেছে। এসব কেটে মহাসড়ক সমতল করার জন্য মিলিং মেশিন প্রয়োজন। প্রতিদিন এ মেশিনের ভাড়া দুই লাখ টাকা। তারপরও বর্ষার পর মিলিং মেশিন এনে মহাসড়কের ওইসব অংশ কেটে ফেলা হবে। তিনি আরও জানান, মহাসড়কে গর্ত মেরামত চলমান রয়েছে।

  

/টিটি/

লাইভ

টপ
X