রাজশাহীতে সংক্রমণ বাড়লেও অবহেলিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি

Send
দুলাল আবদুল্লাহ, রাজশাহী
প্রকাশিত : ১১:২৯, আগস্ট ১১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৫৩, আগস্ট ১১, ২০২০

BT-Newরাজশাহীতে বেড়েই চলেছে করোনা সংক্রমণ, অথচ দিন দিন কমছে সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা। সরকারি-বেসরকারি অফিস, দোকানপাট, হাট-বাজার খোলা থাকায় নগরীর অলিগলিতে মানুষের যাতায়াত বেড়েছে। নগরীসহ গ্রামের মোড়ে মোড়েও জমে উঠছে আড্ডা। এসব জায়গায় অধিকাংশ মানুষই স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি অবহেলা করছেন। করোনা সংক্রমণ রোধে সর্বস্তরে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে (২১ জুলাই) পরিপত্র জারি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। রাস্তার হকার, রিকশা-ভ্যানচালক থেকে শুরু করে গণপরিবহন এবং অফিস-আদালতে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলেও তা নিশ্চিত হচ্ছে না।

রাজশাহী নগরীর কোর্ট বাজার, লক্ষ্মীপুর, উপশহর, সাহেব বাজার, নিউমার্কেট, রেলগেট, ভদ্রাসহ মোড়গুলোতে মাস্ক ব্যবহার না করেই অধিকাংশ মানুষকে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। অটোরিকশাসহ রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসগুলোতেও ড্রাইভার, হেলপারসহ অধিকাংশ যাত্রী মাস্ক ব্যবহার করছেন না। যারা মাস্ক ব্যবহার করছেন তারাও সঠিক নিয়ম না মেনে নাকের নিচে রাখছেন।

অটোরিকশা চালক আরিফ হোসেন জানান, করোনার শুরু থেকেই তিনি মাস্ক ব্যবহার করেন। কিন্তু অনেক সময় যাত্রীরা মাস্ক পরতে চান না। মাস্ক না পরলে পুলিশ সদস্যরা অনেক সময় গাড়ি থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। কয়েকবার ধমকও খেয়েছেন তিনি। কিন্তু গরমের কারণে তিনিও সব সময় মাস্ক পরে থাকতে পারেন না। কখনও নাকের নিচে আবার কখনও মাস্ক খুলে রেখে কিছুটা বিশ্রাম নেন। কেননা সব সময় মাস্ক পরে থাকতে অস্বস্তি বোধ হয়।

নগরীর বিপণিবিতান, খাবার হোটেল, ওষুধ ফার্মেসি, বাজারগুলোতেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের অধিকাংশই মাস্ক ব্যবহার করছেন না। কাঁচাবাজারগুলোতেও তৈরি হচ্ছে জটলা। এছাড়া লক্ষ্মীপুর এলাকায় প্রশাসনিকভাবে বাড়তি সচেতনতা অবলম্বন করার কথা বলা হলেও অধিকাংশ ফার্মেসিতে মাস্ক ছাড়াই বিক্রয়কর্মীদের কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। এখানে খাবার হোটেলগুলোতেও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার পরিবেশন করতে দেখা গেছে।

গগগরাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী আমেনা বেগম বলেন, ‘আমি মেডিক্যালে চিকিৎসা নিতে এসে ভেবেছিলাম করোনাকলে লক্ষ্মীপুর এলাকার পরিবেশ ভালো হবে। কিন্তু এখানে অধিকাংশ মানুষকেই অসচেতন অবস্থায় চলাফেরা করতে দেখেছি। ফার্মেসিগুলোতেও তেমন বাড়তি সচেতনতা নেই। এছাড়া এখানকার খাবার হোটেলগুলোও অস্বাস্থ্যকর।’

এদিকে, নগরীর পদ্মাপাড়ে বিনোদনপ্রেমীদের ভিড় জমলে এখানেও স্বাস্থ্যবিধি কিংবা বাধ্যতামূলক মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিত হয়নি। অধিকাংশ মানুষই মাস্ক ছাড়াই পদ্মাপাড়ে ঘুরছেন। ঘুরতে আসা সজীব জানান, তিনি করোনার মধ্যে বাড়তি সচেতনতা অবলম্বন করছেন। কিন্তু মুক্ত বাতাসে ঘুরতে এসে সব সময় মাস্ক ব্যবহার করা হয়নি।

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম জানান, করোনা সংক্রমণ রোধে তারা সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে করছেন। মাস্ক বিতরণও করা হচ্ছে। তবে মানুষ সচেতন না হলে এটা নিশ্চিত করা কঠিন। তাই করোনা সংক্রমণ রোধে আত্মসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। 

এই প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল জানান, মানুষকে সচেতন করার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বাধ্যতামূলক মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের দুটি টিম প্রতিদিনই কাজ করছে। জরিমানাও করা হচ্ছে। এ সময় তিনি প্রত্যেককে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, ১০ আগস্ট পর্যন্ত সরকারি নির্দেশ অমান্য করা, সংক্রমণ রোগের বিস্তার ও তথ্য গোপন করাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২২টি মামলা হয়েছে। এ সময় ২২ জনকে ৯ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সেইসাথে ২০০টি মাস্ক বিতরণ করা হয়।

রামেকের উপাধ্যক্ষ ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. বুলবুল হাসান জানান, রাজশাহীতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৩ হাজার ৬৭১ জন (১০ আগস্ট সন্ধ্যা পর্যন্ত)। এর মধ্যে এক হাজার ৮৮০ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। আর মারা গেছেন ৩০ জন।

/এমএএ/

লাইভ

টপ