মাস্কের ব্যবহার ছেড়ে দিয়েছে নিম্ন আয়ের মানুষেরা

Send
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৩:২৯, আগস্ট ১১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৩৪, আগস্ট ১১, ২০২০

মাস্ক ছাড়াই দোকানে আড্ডা দিচ্ছেন তারাবগুড়া শহরে জনগণ স্বাস্থ্যবিধি কিছুটা মেনে চললেও গ্রামে তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলেও ইদানিং শহরে মাস্ক ব্যবহার কমছে। আর গ্রামে মাস্ক ব্যবহার নেই বললেই চলে। সেখানে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা ১০টার দিকে শহরের ব্যস্ততম বড়গোলা মোড়, দত্তবাড়ি, হাকির মোড়, টিনপট্টি, কাটনারপাড়া ও নামাজগড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ মানুষের মুখে মাস্ক নেই। অনেকে মাস্ক কানে ও থুতনির সঙ্গে ঝুঁলিয়ে রেখেছেন। আবার কেউ কেউ জরিমানার ভয়ে পকেটে রাখছেন।

মাস্ক নেই কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে শহরের আটাপাড়ার ব্যবসায়ী মোকসেদ সরকার জানান, এখন করোনা কমে গেছে। আর মাস্ক পরলেই শ্বাসকষ্ট হয়। তাই মাঝে মধ্যে ব্যবহার করি। মাস্ক থুতনির সঙ্গে রাখার কারণে জানতে চাইলে সিএনজি অটোরিকশা চালক জমির উদ্দিন জানান, মাস্ক পরে কী হবে? পুলিশ ধরে তাই সঙ্গে রেখেছি।

বেলা ১১টার দিকে শহরের দত্তবাড়ি এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডে চালক আবদুর রহমান, সদরের নামুজার কৃষক ফরিদ মিয়া, চাঁদমুহার কসাই লোকমান হোসেন, মহাস্থানের সবজি বিক্রেতা মো. নিজাম, গোকুলের মুরগি ব্যবসায়ী সিরাজ শেখ, মাটিডালির মুদি দোকানি মোকসেদ আলী প্রমুখের সঙ্গে কথা হয়। এ করোনাকালে মুখে মাস্ক নেই কেন? এমন প্রশ্নে প্রায় সবাই বিরক্ত হন। তারা জানান, গরিবের করোনা হয় না। আর গ্রামে কোনও করোনা নেই। তাই আমরা মাস্ক ব্যবহার করি না।





নামাজগড় বাজারে ইন্টারনেট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের লাইনম্যান সোহেল রানা, মাছ বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক কামরুল আহসান জানান, মাস্ক ব্যবহার করলে শ্বাসকষ্ট হয়। এছাড়া মাস্ক ব্যবহারে নিঃশ্বাসের কারণে চশমা ঘোলা হয়ে যায়। তাই তারা মাস্ক ব্যবহার করেন না।
মাাস্ক না পরে, থুতনিতে রেখে চলছেন কেউ কেউমাস্ক পকেটে কেন? এর উত্তরে তারা জানান, মাঝে মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেট জরিমানা করছেন। পুলিশও বকা দেয়, তাই সঙ্গে রাখি। কয়েকদিন আগে সারিয়াকান্দি উপজেলার চন্দনবাইশা গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, জনগণ চা স্টল, হোটেল ও বিভিন্ন স্থানে বসে আড্ডা দিচ্ছেন। এদের অধিকাংশেরই মুখে মাস্ক নেই।

কথা হয় হোটেল ব্যবসায়ী সেকেন্দার আলীর রহমানের (৬৫) সঙ্গে। হোটেলে বসে থাকা ক্রেতাদের মুখে মাস্ক নেই কেন? তিনি জানান, গরিরের করোনা হয় না। গ্রামে করোনা নেই। তাই আমরা মাস্ক ব্যবহার করি না।
বগুড়া শহরের রাজাবাজার এলাকার সচেতন মনিহারি ব্যবসায়ী কিয়াম সরকার জানান, আগে অনেকে মাস্ক ব্যবহার করলেও এখন এর ব্যবহার অনেক কমে গেছে। দেশে করোনার প্রভাব কমতে থাকায় জনগণও মাস্ক ব্যবহার ছেড়ে দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ বাড়ির বাহিরে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করলেও অসচেতন জনগণ তা অগ্রাহ্য করছেন। তিনি মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য অধিক সংখ্যক ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।


জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এটিএম কামরুল ইসলাম জানান, বাড়ির বাহিরে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলেও অনেকে তা মানছেন না। এ জন্য তারা ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জরিমানা অব্যাহত রেখেছেন।

নবাগত জেলা প্রশাসক জিয়াউল হকের নির্দেশে জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মনে চলতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। মাঝে মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে ফ্রি মাস্ক। গ্রামে মাস্ক ব্যবহার কম প্রসঙ্গে তিনি জানান, উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) রয়েছেন। মাত্র দু’জনের পক্ষে নজরদারি করা সম্ভব হয় না। জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসতে হবে।
এদিকে বগুড়ার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার ডা. ফারজানুল ইসলাল নির্ঝর জানান, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ৩২ নারী ও ছয় শিশুসহ আরও ৯০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ সময় সুস্থ হয়েছেন ১৯৬ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্ত হয়েছেন পাঁচ হাজার ৩৯২ জন। মারা গেছেন ১২২ জন, আর সুস্থ হয়েছেন চার হাজার ১৮২ জন।

/আরআইজে/

লাইভ

টপ