শীতলক্ষ্যা থেকে দুই কিশোরের লাশ উদ্ধারপূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যা দাবি করে মামলা, গ্রেফতার ৬

Send
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০২:৪২, আগস্ট ১২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:৪৭, আগস্ট ১২, ২০২০

নদীতে ডুবে মারা যাওয়া দুই কিশোর (সংগৃহীত ছবি)

নারায়ণগঞ্জ বন্দরের ইস্পাহানী এলাকায় শীতলক্ষা নদী থেকে যে দুই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে তাদের জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে এক কিশোরের পরিবার। এ ঘটনায় মঙ্গলবার দায়ের করা হত্যা মামলায় ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর আগে ধারণা করা হয়েছিল, কিশোর গ্যাংয়ের দুগ্রুপের সংঘর্ষের কারণে ওই দুই কিশোর নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিল।

নিহত দুই কিশোরের নাম মিহাদ ও জিসান। শীতলক্ষ্যা নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিখোঁজের সাতঘণ্টা পর সোমবার তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

তবে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) পুলিশ ও নিহতদের পরিবার দাবি করে  কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষে নয় পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে জমি সংক্রন্তি বিরোধের জের ধরে পানিতে ফেলে তাদের হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ ঘটনায় নিহত জিসানের বাবা ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও সাতজনকে আসামি করে বন্দর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো মোক্তার হোসেন, আলী আহমেদ, কাসেম, আলবি, আনোয়ার হোসেন ও শিপলু।

পুলিশ ও নিহদের পরিবারের দাবি, বন্দরের ইস্পাহানী এলাকার স্থানীয় সাংবাদিক কাজিম উদ্দিনের সঙ্গে একই এলাকার মোক্তার হোসেন, আলী আহমেদ ও কাসেমের জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জের ধরেই গত সোমবার বিকেলে  বন্দরের বিএম ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী জিসানকে তার খালাত ভাই ও বন্ধুরা বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বতীরে ইস্পাহানী ঘাট এলাকায় বিকেলে স্থানীয় শামীম ও শাকিল নামের দুই কিশোর দলের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এসময় দুইপক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় সেখানে উপস্থিত মিহাদ এবং জিসান ভয় পেয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে ঝাঁপ দেয়। তবে নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় তারা তীরে উঠতে পারেনি। রাতে নদীতে জেলে দিয়ে জাল ফেলে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে উদ্ধার হয় নিখোঁজ জিসান ও মিহাদের নিথর দেহ।

খবর পেয়ে বন্দর থানা পুলিশ গিয়ে লাশ দুটি ময়না তদন্তের জন্য সদরের ১শ’ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। আজ মঙ্গলবার  দুপুরে তাদের ময়না তদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নিহত জিসানের বাবা কাজিম উদ্দিন দাবি করেন, পূর্বপরিকল্পিত ভাবে তার ছেলে জিসানসহ মিহাদকে বাসা ডেকে ডেকে নিয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন মারধর করে পানিতে ফেলে হত্যা করেছে। তার দাবি কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষে নয়, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মোক্তার হোসেন, আলী আহমেদ, কাসেমসহ অন্য আসামিরা হত্যা করেছে।  তিনি বলেন, তার একমাত্র ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

এদিকে বন্দরের  কদমরসুল কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র  মিহাদকে হারিয়ে শোকে মাতম করছে তার পরিবারের সদস্যরা। মিহাদের বাবা নাজিম উদ্দিন খান দাবি  করেন, জিসান ও মিহাদ বন্ধু ছিল। জিসানকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার সময় তার সঙ্গে ছিল মিহাদ। ফলে তার ছেলেও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

মিহাদের মা  মাবিহা বেগম বিলাপ করে কাদতে কাঁদতে ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে বলেন, যারা আমার নিরীহ ছেলেকে হত্যা করেছে আমি তাদের ফাঁসি চাই। যাতে আর কোনও মায়ের বুক এভাবে খালি না হয়।  

/টিএন/

লাইভ

টপ