সড়ক দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদ-মিশুক মনির নিহতের ৯ বছর

Send
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৭:২৯, আগস্ট ১৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৪১, আগস্ট ১৩, ২০২০

আজ থেকে ৯ বছর আগে ২০১১ সালের এই দিন সকালে 'কাগুজের ফুল' সিনেমার শ্যুটিং স্পট দেখে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার শালজানা গ্রাম থেকে ঢাকা ফেরার পথে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ, বিশিষ্ঠ সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ প্রডাকশন সহকারী ওয়াসিম, জামাল এবং মাইক্রোবাস চালক মুস্তাফিজুর রহমানসহ পাঁচ জন নিহত হন। আহত হন মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিল্পী ঢালী আল মামুন ও তার স্ত্রী দেলোয়ারা বেগম জলি।

জানা যায়, ২০১১ সালের ১৩ আগস্টের সকাল ১০টার দিকে মুষলধারে বৃষ্টির হচ্ছিলো। তখন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঘিওর উপজেলার জোকা নামক এলাকায় তাদের বহন করা মাইক্রোবাসটি পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে সংর্ঘষ হয়। এসময় মাইক্রোবাসটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মারা যান প্রখ্যাত চলচিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ, বিশিষ্ঠ সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ পাঁচ জন।

পরে স্থানীয় উদ্যোগে দুর্ঘটনাস্থলের পাশেই নির্মিত হয় স্মৃতিফলক। ২০১১ সালের পর থেকে প্রতিবছর ওই স্মৃতি ফলকে ফুল দিয়ে নিহতদের স্মরণ করছে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১১টায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও বিশিষ্ট সাংবাদিক মিশুক মনির স্মরণে স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মানববন্ধন-আলোচনাসভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নেওয়া হয়।

মিশুক মনির ও তারেক মাসুদ

ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট দীপক ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শোক সভায় বক্তব্য রাখেন তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীর চলচ্চিত্র সংসদ মানিকগঞ্জ জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইকবাল হোসেন কচি, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব চক্রবর্তী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, মিশুক মুনীর ও তারেক মাসুদ স্মৃতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রিপন, সাংবাদিক সমিতির মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সাবেক সভাপতি মতিউর রহমান, সহকারী অধ্যাপক ডিএম নাসিম, বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল ঘোষ, বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘের মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সাংবাদিক পারভেজ বাবুল প্রমুখ ।

মানিকগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গাউসুল হাসান মারুফ জানান, ২০১১ সালেও ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরপরই দুর্ঘটনা কবলিত স্থানে রাস্তা প্রশস্তকরণ, ডিভাইডার নির্মাণ করা হয়েছে। অপরদিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ইতোমধ্যে ফোর লেনের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। এই সড়কটি ফোর লেন হলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে যাবে।


 

/এএইচ/

লাইভ

টপ