‘আন্তর্জাতিক আইন না মেনে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করেছে ভারত’

Send
হিলি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৮:৪১, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৪৫, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০

হিলি বন্দর দিয়ে আসা পেঁয়াজ (ফাইল ছবি)আন্তর্জাতিক আমদানি-রফতানি আইন অনুযায়ী কোনও পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করতে পারে না বলে জানিয়েছেন হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা। দেশটির এমন সিন্ধান্তের ফলে পণ্য আটকে পড়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন আমদানিকারকরা। অন্তত যেসব পেঁয়াজ ট্রাকে লোডিং অবস্থায় দেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতের বিভিন্ন সড়কে দাঁড়িয়ে রয়েছে, সেগুলো রফতানির অনুরোধ ব্যবসায়ীদের। এদিকে ভারতীয় রফতানিকারকরা বলছেন সরকারি ওন স্পট সিন্ধান্তের কারণে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারতীয় কাস্টমস। এক্ষেত্রে তাদের কিছুই করার নেই।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ হারুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সম্প্রতি দেশের বাজারে পেঁয়াজের ঊর্ধ্বমূল্য দেখে পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য ১০ হাজার টনের মতো এলসি খোলা হয়। একইসঙ্গে দেশে প্রবেশের অপেক্ষায় আরও ২৫০ পেঁয়াজবাহী ট্রাক ভারতের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সড়কে দাঁড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু ভারত সরকার অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের সংকট দেখিয়ে সোমবার থেকে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়। যা কোনোভাবেই আন্তর্জাতিক আমদানি-রফতানি নীতি অনুযায়ী করা যায় না। আন্তর্জাতিক আমদানি-রফতানি নীতি অনুযায়ী কোনও পণ্যের এলসি খুললে ও এলসি রিসিভ করলেই পণ্য দিতে হবে। তারা হঠাৎ করে এই পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ফলে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম যেমন বাড়ছে, তেমনি আমরাও ব্যাপকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছি।’

তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিবছরই ভারত এ ধরনের কাজ করছে। গতবছরও ঠিক একইসময়ে পেঁয়াজের রফতানি বন্ধ করে দিয়েছিলো ভারত। আমরা ভারতীয় রফতানিকারকদের সঙ্গে পণ্যের দরদাম নিশ্চিত করার পরে তাদের দেওয়া প্রফর্মা ইনভয়েস অনুযায়ী ব্যাংকে এলসি খুলি, এর পরে সেই কপি পাওয়ার পরে ৫০/৬০ দিনের মধ্যে সেই পণ্য রফতানির নির্দেশনা রয়েছে। পণ্য রফতানির পর রফতানিকারকরা সেই পণ্যের বিপরীতে তাদের ব্যাংকে বিল সাবমিট করবে এরপর আমরা সেই মূল্য পরিশোধ করি। সরকারি নির্দেশনার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে আমরা ভারতীয় ব্যবসায়ীদের এলসির সেই শর্তগুলোর কথা জানিয়েছি, সে অনুযায়ী তারাও তাদের কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করছে বলে আমাদের জানিয়েছে।

এদিকে ভারতীয় রফতানিকারক অনিল ঠাকুর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে যে পণ্য তারা আমদানি করতে চায়, সেই পণ্যের নমুনা দেখে পছন্দ করার পরে দরদাম চূড়ান্ত হয়। আমরা তাদের প্রফর্মা ইনভয়েস দেই, সে মোতাবেক তারা এলসি খুললে তাদের দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এলসির কপি ভারতের নির্ধারিত ব্যাংকের কাছে আসে। পরে আমরা কার্যাদেশ অনুযায়ী পণ্য ক্রয় করে যতদ্রুত সম্ভব তা রফতানির জন্য ট্রাকে লোড করি। এর পরে সমস্ত ডকুমেন্টস নিশ্চিত করে তা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের কাছে দেওয়া হয়। এর পর তারা কাস্টমসে সেই পণ্যের বিলঅবএন্ট্রি দাখিল করে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে পণ্য বাংলাদেশে রফতানি করে।

তিনি বলেন, একই প্রক্রিয়ায় পেঁয়াজের ক্ষেত্রেও আমরা যেসমস্ত এলসি পেয়েছিলাম সে অনুযায়ী পেঁয়াজ ক্রয় করে তা রফতানির জন্য ট্রাকে লোড দিয়ে রেখেছি। যা বিভিন্ন সড়কে দাঁড়ানো অবস্থায় রয়েছে। দুই-একদিনের মধ্যে এসব পেঁয়াজ বাংলাদেশে রফতানি হওয়ার কথা ছিল। তবে বিভিন্ন প্রদেশে বন্যা হওয়ার কারণে পেঁয়াজের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ভারতের বাজারে দাম ঊর্ধ্বমূখি হয়। এ অবস্থায় অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ও দাম নাগালের মধ্যে রাখতে সোমবার দুপুর থেকে কাস্টমসের নিকট ওনস্পট সরকারি আদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের নির্দেশনা আসে। এ কারণে রফতানির জন্য ট্রাকে লোড দিয়ে রাখলেও এমনকি টেন্ডার পাশ হওয়ার পরেও কোনও পেঁয়াজ রফতানির অনুমতি দেয়নি কাস্টমস। পরে রাতে এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এ অবস্থায় অন্তত যেসব পেঁয়াজ রফতানির জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে, সেগুলো রফতানি করা যায় কিনা এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।

/টিটি/

লাইভ

টপ