সময় বাড়িয়েও ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্য পূরণ হয়নি

Send
জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১১:৫২, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৫৪, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০

চাতালে কাজ করছেন শ্রমিকরা



সময় বাড়িয়েও জয়পুরহাটে সরকারি খাদ্য গুদামে ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি জেলা খাদ্য বিভাগ। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বাজারে চালের দাম বেশি হওয়ায় চাল দিতে পারেননি মিলাররা। আর বাজারে ধানের দাম বেশি পেয়ে সরকার নির্ধারিত দামে ধান বিক্রি করতে আগ্রহ হারিয়েছে কৃষকরা। বর্ধিত সময় অনুযায়ী ১৫ সেপ্টেম্বর সংগ্রহ অভিযানের শেষ দিন পর্যন্ত জয়পুরহাটে বরাদ্দের মাত্র ৭০ শতাংশ চাল সংগ্রহ হয়েছে। মিলারদের দাবি, সরকার ধান অপেক্ষা চালের দাম কম নির্ধারণ করায় প্রতি কেজিতে ৬ টাকা লোকসানের কারণে চুক্তি করেও চাল পরিশোধ করতে পারেননি তারা। এছাড়া মৌসুমের শুরু থেকেই করোনা এবং বৃষ্টির কারণেও চাল তৈরির প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বলেন, ‘চুক্তি করেও যারা চাল সরবরাহ করেননি তাদের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’  

বোরো মৌসুমে এবার জয়পুরহাটে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ৭০৯ মেট্রিক টন। ২৬ এপ্রিল থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধান সংগ্রহ হয়েছে প্রায় ৬৯৬ মেট্রিক টন। অর্থাৎ সরকারি বরাদ্দের প্রায় অর্ধেক লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। একইভাবে ২১ হাজার ১৭৫ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ১ হাজার ১৭৮ মেট্রিক টন আতপ চাল সরবরাহের চুক্তি করেন জেলার ৪৬৫ জন মিলার। কিন্তু ৭ মে থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মিলাররা সরকারি খাদ্য গুদামে ১৪ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ৫২০ মেট্রিক টন আতপ চাল সরবরাহ করেছেন। 
মিলারদের অভিযোগ, সরকার ধানের সঙ্গে চালের সামঞ্জস্যপূর্ণ দাম নির্ধারণ না করায় এবার বোরো মৌসুমে তাদের লোকসান হয়েছে। একই সময়ে ধান এবং চাল কেনার পাশাপাশি করোনা ভাইরাস এবং দীর্ঘমেয়াদী বর্ষা ও ঘুর্ণিঝড়ে চালকল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবার বোরো চাল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। তারা বলেন, সরকার ২৬ টাকা কেজি দরে ধান কিনলেও সে অনুযায়ী প্রতি কেজি সিদ্ধ চালের দাম নির্ধারণ করেছে ৩৬ টাকা। আর প্রতি কেজি আতপ চালের দাম  নির্ধারন করেছে ৩৫ টাকা। অথচ দেড় কেজি ধান থেকে সিদ্ধ চাল উৎপাদন হয় এক কেজি। ধানের দামের তুলনায় সে ক্ষেত্রে চালের সর্বনিম্ন দাম হয় ৩৯ টাকা। সংগ্রহ অভিযান চলাকালে চালের দাম কেজি প্রতি চার টাকা বাড়ানো এবং প্রণোদনার জন্য জেলা মিল মালিক সমিতির পক্ষ থেকে আবেদন করা হলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে বাজারে দিন দিন ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় মোটা অঙ্কের লোকসান এড়াতে জেলার মিল মালিকরা চুক্তি করেও খাদ্য গুদামে কোন চাল সরবরাহ করতে পারেননি। 
চাল কলের মালিক আবুল হাসনাত বলেন, ক্যাপাসিটি অনুযায়ী তিনি এবার চাল সরবরাহের বরাদ্দ পেয়েছেন ১৭ মেট্রিক টন। সরকারের কাছে চাল বিক্রির জন্য নির্ধারিত সময়ে জামানত দিয়ে চুক্তিও করেছেন। বর্তমান বাজারে এই চাল সরবরাহ করতে তার লোকসান হবে লাখ টাকার ওপরে। এখন জামানত বাজেয়াপ্ত হলেও এত টাকা লোকসান করে সরকারের কাছে ১৭ মেট্রিক টন চাল বিক্রি করার মত সামর্থ্য তার নেই। একই অবস্থা জানা গেছে জেলার অন্যান্য মিল মালিকদেরও। 

চালের গুদাম
ক্ষেতলাল উপজেলার সাগরামপুরের ‘আল তাহসিন এগ্রো প্রসেসিং’ এর মালিক নুরুল আমিন বকুল বলেন, বোরো মৌসুমে ৭৭৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পেয়ে তিনি সরকারের সঙ্গে চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী ১৩৫ মেট্রিক টন চাল সরবরাহ করলেও মে মাসের শেষ সপ্তাহে দু’দফার প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড়ে তার নিজেরসহ কয়েকটি অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় চালকল লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। ফলে খাদ্যগুদামে অবশিষ্ট চাল সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি।  
জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি কেএম লায়েক আলী বলেন, ‘খাদ্য ক্রয়ে সরকারের ভুল পলিসির কারণেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। লোকসান ছাড়াও করোনা মহামারি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চুক্তি করেও শতভাগ চাল সরবরাহ করতে পারেনি চালকল মালিকরা প্রণোদনা চেয়েও আমরা পাইনি। সবকিছু মিলিয়ে ব্যবসায়ীদের লোকসান দেখেও সরকার যদি চাল সরবরাহ না করার দায় ব্যবসায়ীদের ওপরই চাপায় তাহলে সেটা অন্যায় করা হবে’।   
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ বাবুল হোসেন বলেন, ‘জেলায় লক্ষ্যমাত্রার ৭০ শতাংশ চাল সংগ্রহ হয়েছে। এরজন্য তিনি ধান-চালের অসামঞ্জস্যপূর্ণ দাম এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগকেই দায়ী করেন। তিনি বলেন, চুক্তি করে যারা চাল সরবরাহ করেননি তাদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।  

 

/এসটি/

লাইভ

টপ