যাত্রীবাহী বাসে দরজা-জানালা বন্ধ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ!

Send
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১২:৪৯, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৩৪, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২০

ধর্ষণকুমিল্লায় তিশা প্লাস নামে একটি যাত্রীবাহী বাসে এক যাত্রীকে আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা থেকে কুমিল্লা যাওয়ার সময় বাসের দরজা-জানালা আটকে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাসের চালক ও হেলপারকে গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারকৃত বাসচালক আরিফ হোসেন সোহেল (২৬) কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার নেউরা গ্রামের শরীফ হোসেনের ছেলে। হেলপার বাবু শেখ (২২) ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানার কামিনারবাগ গ্রামের শেখ ওয়াজেদের ছেলে। তারা দুই জনই সদর দক্ষিণ থানার নোয়াবাড়ি (পদুয়ার বাজার) ও মধ্যম আশ্রাফপুর এলাকায় বসবাস করে।

তাদের গ্রেফতারের পর বৃহস্পতিবার আদালতে উভয়ের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। এর আগে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভিকটিমের চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। আদালতে জবানবন্দি নেওয়ার পর বুধবার রাতে তাকে তার মায়ের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে।

তবে অভিযুক্ত অপর ধর্ষক বাসের সুপারভাইজার কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার আটচাইল গ্রামের কবির মিয়ার ছেলে আলমকে (৩২)  গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ, মামলার বিবরণ ও ভিকটিমের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সাহেবাবাদ গ্রামের বাসিন্দা ওই তরুণী (১৬) কিছু দিন আগে ঢাকার আবদুল্লাহপুরে তার চাচাতো বোনের বাসায় যায়। গত সোমবার বিকালে বাড়ি ফেরার উদ্দেশে আবদুল্লাহপুর থেকে লোকাল বাসে করে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে পৌঁছায়। রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার সময় সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে তিশা প্লাস পরিবহনের একটি বাসে উঠে কুমিল্লা শহরের শাসনগাছার উদ্দেশে রওনা করে। রাস্তায় ওই তরুণী বাসের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারকে শাসনগাছা বাস স্টেশনে তাকে নামিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানালে তারা তাকে নামিয়ে দেবে বলে আশ্বস্ত এবং এ বিষয়ে টেনশন করতে নিষেধ করে।

কিন্তু ওই বাসের চালকসহ অন্যরা যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ার পর কৌশলে বাসটি জেলা সদরের অদূরে সদর দক্ষিণ থানাধীন পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের আল-শাকিল হোটেলের সামনে নিয়ে যায়। সেখানে মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে বাসের দরজা-জানালা বন্ধ করে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে হেলপার বাবু শেখ, চালক আরিফ হোসেন সোহেল  ও সুপারভাইজার আলম।

পরে চালক আরিফ হোসেন সোহেল বাস থেকে নেমে চলে গেলে বাসের হেলপার বাবু শেখ ও সুপারভাইজার আলম ভিকটিমকে বাস থেকে নামিয়ে পদুয়ার বাজার এলাকায় বাবু শেখের বাসায় নিয়ে আবার ধর্ষণ করে। সকাল ৬টার দিকে ভিকটিমকে অসুস্থ অবস্থায় ঘর থেকে বের করে দিয়ে চলে যেতে বলে।

ভিকটিম মোবাইল ফোনে বিষয়টি তার মাকে জানালে মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে তার মা পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় এসে ঘটনার বিস্তারিত জানেন এবং ধর্ষকদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করেন। এ বিষয়ে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে ওই রাতে তিন ধর্ষকের বিরুদ্ধে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

বাদী জানান, তার মেয়ে গাজীপুরের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতো। করোনার কারণে পাঁচ মাস আগে বাড়ি চলে আসে। গত শুক্রবার চাকরির সন্ধানে বাড়ি থেকে ঢাকায় গিয়ে চাচাতো বোনের বাসায় ওঠে। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে এ ঘটনার শিকার হয়। কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দুই দিন চিকিৎসার পর বুধবার রাতে তাকে বাড়ি নিয়ে আসা হয়। তিনি তার মেয়ের ওপর নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

এদিকে তিশা প্লাস পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ওই গাড়ির মালিক দুলাল হোসেন অপু জানান, ঘটনার পর আমরা তিশা প্লাস গাড়ির (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-৩৯৮) চালক ও হেলপারসহ দুই আসামিকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কমল কৃষ্ণ ধর বৃহস্পতিবার রাতে জানান, মামলা দায়েরের পর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে চালক বাবু শেখ ও হেলপার আরিফ হোসেন সোহেলকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়। আদালতে উভয়ের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া মামলার ভিকটিম ওই তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে এবং সে আদালতে ঘটনার বিবরণ জানিয়ে জবানবন্দি দিয়েছে। মামলার অপর আসামি আলমকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

 

/এফএস/এমওএফ/

লাইভ

টপ
X