হাটহাজারী মাদ্রাসায় অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব, বাবুনগরী শায়খুল হাদিস

Send
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ২১:০৬, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:২৩, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০

হাটহাজারী মাদ্রাসা

আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে ঝামেলার শুরু হওয়ার পরপরই শতবর্ষী আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুর ঘটনায় সব ধরনের গোলযোগ ঠেকাতে অন্তর্বর্তী মাদ্রাসা পরিচালনা ঘোষণা করা হয়েছে। শুরা কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নায়েবে মুহতামিম মাওলানা শেখ আহমদসহ তিনজনকে মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী আগামী ছয় মাস তারা মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন।

পূর্ব নির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মাদ্রাসায় শুরা কমিটি বৈঠকে বসেন। সেখানেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই বৈঠকে হেফাজত ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে মাদ্রাসার শিক্ষা পরিচালক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাদ্রাসার শুরা কমিটির সদস্য মাওলানা নোমান ফয়জী।

বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, আজ শুরা কমিটির বৈঠকে দুইটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি সিদ্ধান্ত হলো-মাওলানা শেখ আহমদ, মুফতি আব্দুস ছালাম ও মাওলানা ইয়াহিয়াকে আগামী ছয় মাসের জন্য মাদ্রাসার পরিচালক করা হয়েছে। এই ছয় মাস তারা পরস্পর আলাপ আলোচনার মাধ্যমে মাদ্রাসাটি পরিচালনা করবেন। ছয় মাস পর শুরা কমিটি তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবেন। অন্য সিদ্ধান্তটি হলো হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে মাদ্রাসার শিক্ষা পরিচালক করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি এ মাদ্রাসার শাইখুল হাদিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।’

শুরা কমিটির বৈঠকে মাওলানা নোমান ফয়জী, মাওলানা ওমর ফারুক, মাওলানা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী, মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী, মাওলানা শেখ আহমদ, মাওলানা শোহায়েব ও মাওলানা নুর আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিককালের বেশ কিছু ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর সঙ্গে অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠনটির আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মনোমালিন্য ও দূরত্বের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে আহমদ শফীর ছেলে আনাস মাদানীকে নিয়েই ঘটনাগুলো বিতর্কগুলো চলতে থাকে। এসব গত জুলাইয়ে হাসপাতাল থেকে ফিরে মাওলানা বাবুনাগরীকে আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন মাদ্রাসাটির মহাপরিচালক হিসেবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত আল্লামা শাহ আহমদ শফী। এরপর বিতর্ক বাড়তে থাকলে ছেলে ও বাবুনাগরী দুজনকে নিয়ে হেফাজতে ইসলামের পেজ থেকে ভিডিও বার্তা দিয়ে তাদের মধ্যে কোনও ঝামেলা নেই বলে জানান তিনজনেই। কিন্তু, এ বিবাদ ভেতরে ভেতরে আরও বাড়তে থাকে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আনাস মাদানীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর ১৯৮৬ সাল থেকেই এ মাদ্রাসার মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করা আল্লামা শাহ আহমদ শফীও পদত্যাগ করেন। তবে পদত্যাগের পরেই তিনি অসুস্থবোধ করেন। শুক্রবার তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হলে আসগর আলী হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। 

 

/টিএন/

লাইভ

টপ
X