ফাঁস দিয়ে বৃদ্ধের আত্মহত্যা

Send
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০২:৫৬, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:৫৯, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০

আত্মহত্যা

করোনায় আয় নেই, ছেলে বেকার, মেয়ের বিয়ে দিতে হবে। বৃদ্ধা মা ও স্ত্রী দুজনেই অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। ওষুধ কিনতে হবে, পয়সা নেই। বিকশা চালাতেন ঢাকায়। এখন শরীর কুলায় না। ঘরে খাবার নেই। অনেক চাহিদা, উপায় নেই। এমন সমস্যা আর সমস্যায় চেপে ধরা চারপাশ থেকে গভীর রাতে মুক্তির পথ খুঁজলেন সুশীল। ৬৪ বছরের এই বৃদ্ধের মরদেহ পাওয়া গেলো আম গাছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের হংশরাজ ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে বাড়ির আম গাছ থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। কোনও অভিযোগ না থাকায় সৎকারের জন্য পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুরো নাম ছিল তার সুশীল চন্দ্র রায়। ওপরের বর্ণনাটা পুলিশের। পরিবার ও স্থানীয়দের কাছে শুনে এমন ধারণা তাদের। ভিন্ন কিছুর কথা বা হত্যার বিষয়ে সন্দেহ করেনি কেউ। তাই লাশ হস্তান্তর হয়েছে কাটাছেঁড়া ছাড়াই।

পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে ডোমার থানার এসআই কমলেশ রায় জানান, সুশীলের বৃদ্ধা মা ও স্ত্রী দীর্ঘদিন থেকে অসুস্থ। তিন মেয়ে এক ছেলে। এর মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। আর এক মেয়ের বিয়ের আলোচনা চলছে। ছেলেটিও বেকার। আগে বৃদ্ধ সুশীল ঢাকায় রিকশা চালাতেন। এখন করোনার কারণে কয়েক মাস ধরে তিনিও বাড়িতে বেকার ছিলেন। সব চাপ এক সঙ্গে আসায় কিছুদিন ধরে তিনি মানসিক দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন।

তিনি আরও জানান, রবিবার রাতে সুশীল ঘুমানোর জন্য ঘরের ভেতরে যায়। হয়তো রাতের কোনও এক সময় ছাগল বাঁধার দড়ি দিয়ে বাড়ির একটি আমগাছে তিনি ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। সকালে পরিবারের সদস্যরা ঘুম থেকে উঠে আমগাছে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। বাড়ির লোকদের চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে আসে পুলিশে খবর দিলে, পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। কোনও অভিযোগ না থাকায় লাশ সৎকারের জন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ডোমার থানার ওসি মো. মোস্তাফিজার রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

 

/টিএন/

লাইভ

টপ
X