জলাবদ্ধতায় নাকাল পঞ্চগড় পৌরবাসী

Send
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৭:০৬, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:১৩, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০

বর্ষা মৌসুম বা সামান্য বৃষ্টি হলেই চরম দুর্ভোগে পড়েন পঞ্চগড় পৌরবাসী। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা-পানিতে সয়লাব হয়ে যায় পৌর এলাকা। ভারী বর্ষণে অধিকাংশ এলাকায় তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। নিচু এলাকার ঘরবাড়িতেও উঠে যায় পানি। স্থানীয়রা বলছেন ড্রেনেজ ব্যবস্থা কাজ না করায় দুর্গন্ধযুক্ত নোংরা ও ময়লা আবর্জনার পানি সড়কে উঠে যায়। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল ভরাট ও স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

পঞ্চগড় পৌরসভা প্রথম শ্রেণির হলেও সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পৌরবাসী। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা সমস্যা বর্তমানে পৌরবাসীর প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি আকস্মিক বর্ষণে পঞ্চগড় পৌরসভার ইসলামবাগ, কায়েতপাড়া, ডোকরোপাড়া, রামেরডাঙ্গা, রাজনগর, খালপাড়া, নীমনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। হাটবাজারগুলোও কাদা-পানিতে সয়লাব হয়ে পড়ে। পৌরসভা এলাকার ডিসি অফিস, জজকোর্ট, পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল, এম আর সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অফিস জলমগ্ন হয়ে পড়ে। পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে কোথাও কোথাও হাঁটু পানি জমে।

শহরের ইসলামবাগ এলাকার আরিফ হোসেন জানান, পঞ্চগড় পৌরসভার পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়কের দুই পাশে যে যার মতো ঘরবাড়ি, দোকানপাট, অফিস নির্মাণ করায় খালগুলো ভরাট হয়ে গেছে। পানির স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় জলাবদ্ধতা বেড়েছে।

জেলা শহরের ডোকরোপাড়া এলাকার মমিনুল হাসান জানান, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ড্রেনের ওপর অপরিকল্পিতভাবে ব্রিজ নির্মাণ আর ব্রিজের মুখগুলো ছোট হওয়ায় পানির প্রবাহ কমে গিয়েও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

একই এলাকার মশিউর রহমান জানান, ছোট ছোট ড্রেন নির্মাণ করা আর ড্রেনের ওপর স্লাব না থাকায় পলিথিন, বোতলসহ বিভিন্ন ময়লা পড়ে ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে পড়ে। এ কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

পৌর এলাকার নতুনবস্তি খালপাড়া এলাকার দেলোয়ার হোসেন জানান, পৌর এলাকায় পর্যাপ্ত ময়লা-আবর্জনা ফেলার জায়গা না থাকায় স্থানীয়রা ড্রেনে ময়লা ফেলছে। ড্রেনগুলোতে স্ল্যাব না থাকায় সড়কের অন্যান্য ময়লাও ড্রেনে গিয়ে পড়ছে।

পঞ্চগড় পৌরসভার কামাতপাড়া এলাকার হাসনাত হামিদুর রহমান জানান, জলাবদ্ধতার বিষয়গুলো আমরা বার বার পৌর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কিন্তু তারা শুধু আশ্বাসই দিয়েছেন। পৌরসভা প্রতিষ্ঠার ৩৪ বছরও ড্রেনেজ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসেনি।

এমআর কলেজ রোড এলাকার আকতার হোসেন বলেন, বৃষ্টি শুরু হলেই আমাদের এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ঘরবাড়ি রাস্তাঘাটেও পানি জমে যায়। রান্নাবান্না করতে অসুবিধা হয়।

পঞ্চগড় পৌর মেয়র মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, নগর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে বড় বড় কয়েকটি ড্রেন নির্মাণ শেষ হয়েছে।

কিছু ড্রেনের সমস্যার কথা স্বীকার করে তিনি জানান, পৌরবাসীদের মধ্যেও কিছু মানুষ বাড়ির ময়লা-আবর্জনা ড্রেনে ফেলছেন। প্রতিদিন আমাদের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা ড্রেন পরিষ্কার করছেন। তারপরও ড্রেনের ময়লা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হচ্ছে। আমরা পৌর কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছি। অনেক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য প্রকল্পের বরাদ্দ পেলে এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

/টিটি/

লাইভ

টপ