হাসপাতালে রোগী ধর্ষণ: প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত কমিটি

Send
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২১:৪২, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৪৩, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা তরুণীকে হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় মাজিদুল করিম ধর্ষণ করেছে বলে তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দিয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মামুনুর রশিদ জানান, তদন্ত কমিটি অভিযুক্ত মাজিদুলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে।

গত ১১ সেপ্টেম্বর ওই তরুণী ধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার ৯ দিন পর গত ১৯ সেপ্টেম্বর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাত সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে।

হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর জ্বর ও শরীরে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালের তিন তলায় নারী ওয়ার্ডে ভর্তি হন ওই তরুণী। তিনি ধীরে ধীরে অনেকটা সুস্থ হয়ে ওঠেন। ১১ সেপ্টেম্বর রাতে ওই ওয়ার্ডে দায়িত্বে ছিল ওই ওয়ার্ড বয় মাজিদুল। এছাড়া হাসপাতালে ডিউটিতে ছিলেন ডা. স্বপন কুমার সুর এবং নার্স দুলালী ও সুমি আক্তার।

ঘটনার রাতে হাসপাতালের শয্যায় ঘুমিয়ে পড়েন তরুণীর মা। এ সময় তরুণী জেগে ছিলেন। মাজিদুল তাকে ফুঁসলিয়ে হাসপাতালের নিচতলায় নিয়ে যায়। এরপর সেখানে একটি কক্ষে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে মেয়েটি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে বারান্দায় ফেলে সে পালিয়ে যায়। পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে রাতেই তরুণীকে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে তরুণীর ভর্তি ও চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি ঘেঁটে দেখা যায়, ১২ সেপ্টেম্বর সকালে ১৬ বছরের তরুণীকে হাসপাতালের পাঁচতলার নারী ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তার গোপনাঙ্গে মারাত্মক ক্ষত হওয়ায় সেলাই দেওয়া হয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর তাকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে যায় স্বজনরা।

এদিকে ঘটনাটি ফাঁস হওয়ার পর গত ১৯ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ঘটনার তদন্ত করার জন্য কমিটি গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মামুনুর রশীদ জানান, এ ঘটনায় শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. গোলাম সাদিককে প্রধান ও ডা. মুনিরুজ্জামানকে সদস্য সচিব করে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর ওয়ার্ড বয় মাজিদুল ধর্ষণ মামলা থেকে বাঁচতে এবং চাকরি রক্ষা করতে প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকার পরও ছয় লাখ টাকা কাবিন করে ভুক্তভোগী তরুণীকে বিয়ে করে। এ কারণে মেয়েটির পরিবার ধর্ষণের ঘটনাটি এখন অস্বীকার করছে।

এ বিষয়ে সাটুরিয়া থানার ওসি মো. মতিয়ার মিঞা বলেন, ‘মেয়েটি বা তার পরিবার থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ করেনি। মা ও মেয়েকে থানায় আনা হলে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি বলে জানায়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, ‘ওয়ার্ড বয় মাজিদুলের বিরুদ্ধে হাসপাতালে ভর্তি ওই মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করা হয়েছে। গত বুধবার ওয়ার্ড বয় মাজিদুলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে সিভিল সার্জনকে সুপারিশ করা হয়েছে।’

সিভিল সার্জন আনোয়ারুল আমিন আখন্দ বলেন, ‘ওই ওয়ার্ড বয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করা হবে।’

আরও খবর: হাসপাতালের ভেতর রোগীকে ধর্ষণ

 

/এমএএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ