প্রবল বর্ষণে মাটিচাপা পড়ে একই পরিবারের ৪ জন নিহত

Send
বিপুল সরকার সানি, দিনাজপুর
প্রকাশিত : ২২:২৪, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:২৮, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০

গত কয়েকদিন ধরেই প্রবল বর্ষণ। তাই নিজের ফেরি (ভ্যানে করে বিভিন্ন জিনিসপত্র বিক্রি করা) ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হতে পারছিলেন না স্বপন সরকার। বাড়িতে অভাব-অনটন লেগেই থাকে। তাই সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভ্যানটি নিয়ে কুড়িগ্রামে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রবল বর্ষণ কেড়ে নিয়েছে স্বপন, তার স্ত্রী ও দুই শিশুপুত্রের প্রাণ।

গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ঝারপাড়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। একই পরিবারের ৪ জন সদস্যের সবাই মাটির দেয়াল চাপা পড়ে মারা গেছেন। নিহতরা হলেন, স্বপন সরকার (৩৫), তার স্ত্রী সরাজানা বেগম (৩০), শিশুপুত্র হোসাইন (৯) ও হাসিবুল (৬)। হোসাইন একটি কিন্ডার গার্টেন স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র।

স্থানীয়রা জানান, স্বপনের বাড়ি নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলায়। তার বাবার নাম আজাদ আলী। প্রায় ১১ বছর আগে পার্বতীপুরের ঝারপাড়ায় বিয়ে করে ঘরজামাই হিসেবে শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস করতেন। তার শ্বশুর আব্দুল ছাহেদ জামাইকে বাড়ি ছেড়ে দিয়ে পার্শ্ববর্তী ফুলবাড়িতে থাকতেন। শনিবার প্রতিদিনের মতো স্বপন তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে খাটের ওপর ঘুমিয়ে পড়েন। ঘুমের মধ্যে ঘরের দেয়াল ভেঙে চাপা পড়লে তাদের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি কখন ঘটেছে কেউই জানেন না।

সকালে প্রতিবেশী হাফিজা খাতুন ঘরের দেয়াল ভাঙা দেখে সেখানে যান এবং মাটিচাপা পড়া অবস্থায় তাদের দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা এসে তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করেন।

হাফিজা খাতুন জানান, রাতে ঘর ভেঙে দেয়াল চাপা পড়ার কথা কেউ জানতেন না। সকালে দেয়াল ভাঙা দেখে আমি এগিয়ে যাই। দেখি একজনের পা দেখা যাচ্ছে। পরে ডাকাডাকি করলে আশপাশের মানুষ এসে মাটিচাপা পড়া অবস্থায় তাদের মৃত উদ্ধার করে। পরিবারের সবাই একই খাটে পাশাপাশি ঘুমিয়ে ছিল বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় সোলায়মান আলী বলেন, এই এলাকার বেশিরভাগ মানুষ দরিদ্র। তাই এই গ্রামে অনেক মাটির বাড়ি। গত কয়েকদিন ধরে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে মাটির দেয়ালে পানি পড়ে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

স্থানীয় সেলিম রেজা বলেন, শুনেছি কয়েকদিন ধরেই স্বপন বাড়ি থেকে বের হতে পারছিল না বৃষ্টির কারণে। সোমবার তার কুড়িগ্রামে যাওয়ার কথা ফেরি নিয়ে। কিন্তু তার আগেই সে-সহ পরিবারের সবাই না ফেরার দেশে চলে গেলো।

স্থানীয় আবু সুফিয়ান বলেন, স্বপনকে আর ফেরি নিয়ে বাইরে যেতে হবে না। আগে ভ্যান চালাতো। পরে সে সেই ভ্যানে করেই ফেরি করতে শুরু করে। করোনার কারণে ব্যবসা মন্দা ছিল, পাশাপাশি গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টির ফলে সে বাড়ি থেকে বের হতে পারছিল না।

মেহেরুন নেছা বলেন, এই এলাকার মানুষ গরিব। তাই সরকার যদি আমাদের মাটির বাড়ি ভেঙে টিন কিংবা অন্য কোনও উপায়ে বাড়ি তৈরি করে দেয় তাহলে আমরা বিপদের হাত থেকে রক্ষা পাবো। কারণ, এই মাটির বাড়িতে থাকা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

পলাশবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই আমি এখানে এসেছি। খুবই মর্মান্তিক বিষয়। একই পরিবারের ৪ সদস্যের সবাই মারা গেলেন।

পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহনাজ মিথুন মুন্নী জানান, লাশ দাফনের জন্য জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ২০ হাজার ও উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

/আরআইজে/এমওএফ/

লাইভ

টপ