নওগাঁয় সব নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, প্রতিদিনই ডুবছে আমন ক্ষেত

Send
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০১:৪৭, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:৫৮, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০

নওগাঁয় নদীতে বাড়ছে পানি। তাতে শিশুর ভেলা নিয়ে খেলায় মহা মজা হলেও ডুবছে ক্ষেতের ফসল।

গত কয়েক দিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানির কারণে আত্রাই নদীর সব পয়েন্টে বেড়ে গেছে পানি। এখন তা বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে নওগাঁ শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট যমুনা নদীর লিটন ব্রিজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। যার কারণে প্রতিদিনই নিমজ্জিত হচ্ছে জেলার রাণীনগর,আত্রাই ও মান্দা উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলো। বন্যার পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে সদ্য রোপণ করা আমন ধানের ক্ষেত।

 চতুর্থ দফায় পানি বৃদ্ধির এই ঘটনায় জেলার কয়েক লাখ জনগণের মাঝে আবারও বন্যাতঙ্ক দেখা দিয়েছে। টানা দেড় মাসেরও বেশি সময় বন্যার পানির সঙ্গে যুদ্ধের পর জেলার প্রান্তিক কৃষকেরা চাষাবাদের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। কিন্তু, রোপণ শেষ না হতেই  আমন ধানের ক্ষেতে পানি ঢুকতে দেখে কৃষকদের এখন মাথায় হাত।

গত জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে জেলার আত্রাই উপজেলার পাঁচটি স্থানে মান্দা-আত্রাই নদীর বেড়ীবাঁধ ভেঙে ৮টি ইউনিয়নের অর্ধ-শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়। ফলে শত শত পুকরের মাছ ভেসে যায়। হাজার হাজার হেক্টর জমির আমন ফসলের ক্ষতি হয়। দ্বিতীয় দফায় আগস্টের শেষের দিকে আবারও নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা দেখা দেয়। এই অবস্থায় নদীর পানি কমে গেলে এবং লোকালয় থেকে পানি নেমে যাওয়ার পর কৃষকেরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে থাকে।

আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীর পানি কখনও কমছে, ফের কখনও বাড়ছে। পানির এই হ্রাস-বৃদ্ধিতে নদীর অরক্ষিত তীরে ভাঙনের আশঙ্কাও রয়েছে। এ ছাড়া নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের মানুষের মধ্যে বন্যার আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়েছে। বন্যায় ফসল হারানো কৃষক দ্বিতীয় দফায় আবার নতুন ফসল লাগানোর প্রস্তুতি নিলেও তারা এখন আতঙ্কে আছে।

বেশ কয়েক দিন ধরে নদীর পানি বাড়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ফের বন্যার কোনও সতর্কবার্তা দেয়নি বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। তবে এটা শীতকালীন সব্জি চাষের সময়। তবে নদীতে পানি দেখে শীতকালীন সবজির আবাদ শুরু করতে দ্বিধায় ভুগছেন অনেক কৃষক। এ ছাড়া সাম্প্রতিক বন্যায় এখনও বিধ্বস্ত বন্যাদুর্গত এলাকাগুলো। ভেঙে যাওয়া ঘরবাড়ি মেরামত করতে পারেননি নিম্ন আয়ের মানুষেরা।

জেলা কৃষি অফিস সূত্র জানা যায়, জেলার রাণীনগর উপজেলায় এ পর্যন্ত ৭৫০হেক্টর, আত্রাই উপজেলায় ১ হাজার ১৪৫হেক্টর ও মান্দা উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার বিঘা জমির আমন ধান বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। গত বছর আমন চাষের মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে চিনি আতপ ধানের চাষ হয়েছিল। এতে করে কৃষকরা ব্যাপক লাভবানও হয়েছিল। এবারে আগাম বন্যার পানি মাঠে চলে আসায় আমনচাষ ব্যাহত হতে পারে।

উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের কৃষক সুরুজ আলী বলেন, আমাদের বোরো ধান কেটে শেষ না করতেই মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। মাঠ পানিতে ভরে গেছে, জমির পানি একটু কমলেও আবারও বাড়ার কারণে আমন ধানের বীজতলা তৈরি করতেই পারলাম না। কিভাবে আমন চাষ করবো তা নিয়ে হতাশায় রয়েছি।

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফউজ্জামান খান বলেন, নওগাঁর আত্রাই নদীর সকল পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটারের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ছোট যমুনা নদীর পানিও বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আমরা সার্বক্ষণিক ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধগুলো পরিদর্শন করছি। চেষ্টা করছি যতটুকু মেরামত করা যায়। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই-তিন দিন পানি আরও কিছুটা বৃদ্ধি পাবে বলে জানান তিনি। 

/টিএন/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ