গির্জার ফাদারের বিরুদ্ধে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা

Send
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৩:৪৯, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৩:৫১, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০

ধর্ষণ

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৭ম শ্রেণি পড়ুয়া এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তানোর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান। তিনি জানান, গির্জা থেকে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯  সেপ্টেম্বর) রাতে ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আর ওই ছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হবে।

জানা গেছে, রাজশাহীর তানোর উপজেলা মুন্ডুমালা সাধু জান মেরি তিয়ান্নী গির্জার ইনচার্জ ফাদার প্রদীপ গ্যাগরীর বিরুদ্ধে ওই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে । এ ঘটনায় ফাদার প্রদীপ গ্যাগরীকে মুন্ডুমালা গির্জা থেকে ক্লোজ করে রাজশাহী ধর্ম প্রদেশে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি স্বীকার করেছেন গির্জার বর্তমান সহকারী ইনচার্জ ফাদার প্যাটিজ গমেজ।

এর আগে বিষয়টি জানাজানি হলে সোমবার দুপুরে গির্জায় একটি শালিসি বৈঠক বসানো হয়। ওই বৈঠকে ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর পরিবারকে ধর্মের ভয় দেখিয়ে আপস করা হয়।  ছাত্রীকে লেখাপড়া ও ভরণ পোষণসহ বিয়ের আগ পর্যন্ত সকল খরচ বহন করা হবে বলে গির্জার পক্ষে থেকে বলা হয়। সালিসি বৈঠকে রাজশাহী জেলা ধর্ম প্রদেশের তিনজন প্রতিনিধি ও স্থানীয় দুইজন গ্রাম্য প্রধান এবং আদিবাসী তানোর উপজেলার পারগানা পরিষদের সভাপতি ও মুন্ডুমালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামেল মার্ডি উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্রীর ভাই বলেন, ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ি থেকে মাঠে ঘাস কাটতে গিয়ে তার বোন আর বাড়ি ফিরে আসেনি। সারাদিন তাকে খোঁজাখুজি করে না পেয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর তানোর থানায় একটি জিডি করা হয়। জিডি করার একদিন পর ২৮ সেপ্টেম্বর গির্জার ফাদারের ভবনের ছাদে তার বোনকে দেখতে পান স্থানীয়রা।

পরিবারের লোকজন ছাত্রীকে উদ্ধার করতে গেলে ফাদার বাধা দেন। এসময় স্থানীয়রা রাজশাহীর জেলা ধর্ম প্রদেশের ইনচার্জকে বিষয়টি মোবাইলে অভিহিত করেন। তার নির্দেশে সোমবারে দুপুরে রাজশাহী ধর্ম প্রদেশের তিনজন প্রতিনিধি সেখানে আসেন। পরে তারা স্থানীয় গ্রাম্য প্রধান মাইকেল হেমরণ ও  মহেষ মুরমু ও আদিবাসি নেতা কামেল মার্ডিকে নিয়ে সালিসি বৈঠক বসেন। সালিসি বৈঠকে ফাদারের পক্ষে রায় দেন সবাই। এবং ছাত্রীকে ভরণ পোষণসহ যাবতীয় খরচ বহন করা হবে বলে গির্জার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

আদিবাসী পারগানা পরিষদের সভাপতি কামেল মার্ডি বলেন, ছাত্রীর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আপস করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ফাদার প্রদীপ গ্যাগরীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

 

/টিএন/

লাইভ

টপ