পেঁয়াজ রফতানিকারকদের রিটে চাপে ভারত সরকার

Send
হিলি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:৫৬, অক্টোবর ০১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:৩৮, অক্টোবর ০২, ২০২০

বেনাপোল বন্দরে ঢোকার জন্য পেট্রাপোলে দাঁড়িয়ে পেঁয়াজবাহী ট্রাক। (ছবি: বাংলা ট্রিবিউন)বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্তের পর ১৪ সেপ্টেম্বরের আগে খোলা এলসিগুলোর সংখ্যা ও পরিমাণ জানাতে ভারতীয় রফতানিকারকদের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি ভারতের একটি আদালতে পেঁয়াজ রফতানির বিষয়ে রফতানিকারকদের করা একটি রিটের পর বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

কোনও ঘোষণা ছাড়াই বাংলাদেশে হুট করে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়ে এদেশের পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছিল ভারত। কূটনীতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত এ ঘোষণায় বাংলাদেশ সাময়িক বেকায়দায় পড়লেও সরকার দ্রুত তা সামলে ওঠার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এতে যে আর্থিকভাবে বাংলাদেশের আমদানিকারকদের শুধু একক ক্ষতি হয়েছে তা নয়, বরং বিশাল অঙ্কের ক্ষতির মুখে পড়েছেন ভারতীয় রফতানিকারকরাও। শত শত ট্রাক পেঁয়াজ রফতানির জন্য পাঠিয়েও তা সীমান্ত পার করতে না পারায় অনেকের পুঁজি খুইয়ে বসার ও দেউলিয়া হওয়ার অবস্থা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সম্প্রতি দেশটির আদালতে ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিট করেছেন তারা। আর তাতেই হয়েছে কাজ। ‘দেখবো না,’ ‘শুনবো না’ অবস্থান থেকে রিটের খোঁচায় নড়ে উঠেছে ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়। আদালত বড় সড় সিদ্ধান্ত দিলে হিতে বিপরীত হতে পারে এ আশঙ্কায় এবার তারা পেঁয়াজ রফতানিকারকদের কথায় মন দিয়েছেন।

ভারতের রফতানিকারক অনিল ঠাকুর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সম্প্রতি ভারতের আদালতে পেঁয়াজ রফতানির বিষয়ে করা একটি রিটের ঘটনায় গতকাল ৩০ সেপ্টেম্বর ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত বাণিজ্য মহাপরিচালক বিজয় কুমার স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সেই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বরের আগে যে সমস্ত এলসি খোলা হয়েছে, তাতে কী পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে তার পরিমাণ নির্ধারণ করতে ও ট্রানজিশনাল ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে রফতানিকারকদের অনুরোধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে পেঁয়াজ রফতানির জন্য সকল এলসির কপি ভারতের আঞ্চলিক বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা ইতোমধ্যে আমাদের আমদানিকারকদের খোলা পেঁয়াজের এলসিগুলোর কপি জমা দিয়েছি। একইসঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া এলসির কপিগুলো কেবল এ বিষয়ে গৃহীত যেকোনও সিদ্ধান্তের জন্য বিবেচিত হবে বলেও বলা হয়েছে। আগামী ৭ অক্টোবর এসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে নির্দেশনায় জানিয়েছেন তারা।

তিনি বলেন, এ চিঠির পরিপ্রেক্ষিতেতে আশা করা যাচ্ছে, হয়তো বা কিছু পেঁয়াজ রফতানির বিষয়ে সরকারিভাবে অনুমোদন আসতে পারে।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক মোবারক হোসেন ও মোজাম হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গতকাল ভারতীয় রফতানিকারকরা আমাদের জানিয়েছেন যে ১৪ সেপ্টেম্বরের আগে হওয়া এলসি ও তার পরিমাণ সম্পর্কে ও এলসির কপিগুলো জমা দিতে বলেছে ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে রফতানিকারকরা সে এলসিগুলোর কপি নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছেন। এতে করে শুধুমাত্র আমাদের হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকদের করা এলসির পরিমাণ ৪/৫ হাজার হতে পারে। সব বন্দর মিলিয়ে যার পরিমাণ ২৫ হাজারের মতো হতে পারে। রফতানিকারকরাও আমাদের আশ্বস্ত করছেন, পেঁয়াজ রফতানি হতে পারে। আগামী ৭ অক্টোবর থেকে আবারও ভারত থেকে আগের এলসির পেঁয়াজ আমদানি হওয়ার একটা সম্ভাবনা আছে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করে ভারত সরকার আমাদের কোনও কিছু না জানিয়ে পেঁয়াজ রফতানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এতে করে দেশে প্রবেশের অপেক্ষায় সীমান্তের ওপারে ২৫০টি পেঁয়াজবাহী ট্রাক আটকা পড়ে যায়। একইসঙ্গে এই সময়ে আমদানির জন্য নতুন করা এলসিগুলোর কার্যক্রমও বন্ধ করে দেয় ভারত। এর পাঁচদিন পর ১৩ সেপ্টেম্বর টেন্ডার সম্পন্ন হওয়া ১১টি ট্রাকে ২৪৬ টন পেঁয়াজ গত ১৯ সেপ্টেম্বর রফতানি করে ভারত সরকার। তবে কয়েকদিন ট্রাকে আটকা থাকায় রফতানিকৃত পেঁয়াজের বেশিরভাগই পচা ও নষ্ট হওয়ায় অনেক পেঁয়াজ ফেলে দিতে হয়েছে। 

/টিএন/এমওএফ/

লাইভ

টপ