কিস্তির চাপে আত্মহত্যা: ছয় এনজিও’র ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা

Send
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০:৫৯, অক্টোবর ০১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৫৯, অক্টোবর ০১, ২০২০

বেলাল হোসেনবগুড়ার শাজাহানপুরে এনজিও’র কিস্তির চাপ সহ্য করতে না পেরে ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি বেলাল হোসেন (২৮) ইলেকট্রিক শান মেশিন দিয়ে গলাকেটে আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় থানা মামলা না নেওয়ায় তার স্ত্রী হাসিনা খাতুন ১৫ দিন পর বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। এজাহারে ছয়টি এনজিও’র ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আসামি করা হয়েছে। বিচারক খালিদ মাহমুদ এ ব্যাপারে তদন্ত করে আগামী বছরের ১০ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।

আসামিরা হলেন—সাজেদা ফাউন্ডেশনের মাঝিড়া শাখার ম্যানেজার মনিরুজ্জামান ও মাঠকর্মী মাজেদুল ইসলাম, রিয়েল সেভিংস অ্যান্ড ক্রেডিট কো অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড এর দুবলাগাড়ী শাখার ম্যানেজার ফরহাদ হোসেন ও মাঠকর্মী জেসমিন আকতার, সোসাইটি ফর সোস্যাল সার্ভিসের নয়মাইল শাখার ম্যানেজার আমিরুল হাসান ও মাঠকর্মী মুঞ্জুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ এক্রটেনশন এডুকেশন সার্ভিসেস এর মাঝিড়া শাখার ম্যানেজার সাইদুর রহমান ও মাঠকর্মী লাকী খাতুন, সোসিও ইকোনোমিক ব্যাংকিং অ্যাসোসিয়েশনের মাঝিড়া শাখার ম্যানেজার হেলাল উদ্দিন এবং টিএমএসএস এর মাঝিড়া শাখার ম্যানেজার আব্দুল মান্নান ও মাঠকর্মী নাহার।

বাদী পক্ষের অ্যাডভোকেট রাশেদুর রহমান মরিস ও অন্যরা জানান, বেলাল হোসেন শাজাহানপুর উপজেলার চোপিনগর দক্ষিণপাড়া গ্রামের কৃষক লুৎফর রহমানের ছেলে। উপজেলার খোর্দ বৃ-কুষ্টিয়া এলাকায় তার ওয়েল্ডিং ওয়ার্কশপ রয়েছে। তিনি উল্লিখিত ছয়টি এনজিও থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়ে এ কারখানা করেন। করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে অন্যদের মতো বেলালের ব্যবসায়ও মন্দা দেখা দেয়। সরকার ১ অক্টোবর পর্যন্ত কিস্তি আদায় না করতে এনজিওগুলোকে নির্দেশ দেন। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনও প্রচারণা চালায়। এরপরও এনজিওগুলোর কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীরা ঋণ গ্রহীতাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে কিস্তি আদায় অব্যাহত রাখেন। মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেলে আসা কিস্তি আদায়কারীদের দেখে অনেক ঋণ গ্রহীতা বাড়ি থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন। কিস্তি না পাওয়ায় এনজিওকর্মীরা নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। প্রতিদিনই তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, ব্যবসা মন্দা হওয়ায় বেলাল হোসেন তার কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে পারছিলেন না। এনজিওগুলোর লোকজন তার ওপর চাপ সৃষ্টি করে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর কিস্তি পরিশোধের দিন ছিল। তিনি গ্রামের বিভিন্ন জনের কাছে গিয়েও কিস্তির টাকা সংগ্রহ করতে পারেননি। বেলাল হোসেন দুপুরে চোপীনগর দক্ষিণপাড়ার বাড়িতে প্রথমে বিষপান করেন। এরপর রড কাটার ইলেকট্রিক শান মেশিন দিয়ে গলায় আঘাত করেন। এতে তার গলাকেটে যায়। স্বজনরা টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মারা যান তিনি।

শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন জানান, ওই ঘটনায় কেউ মামলা করতে থানায় আসেননি।

/আইএ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ