খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: ৫৩ বিভাগে পড়তে পারবে ৫ হাজার শিক্ষার্থী

Send
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৭:৫৭, অক্টোবর ১৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:১৪, অক্টোবর ১৮, ২০২০




খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়প্রতিষ্ঠার পর থেকে ভাড়া করা ভবন আর অতিথি শিক্ষক দিয়ে চলছে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ৩০ জন শিক্ষক যোগদান করেছেন। উচ্চ শিক্ষার এ প্রতিষ্ঠানটিকে আধুনিক কৃষি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ইতোমধ্যে চার কোটি ৯৩ লাখ টাকার একটি সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্প পাস হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে এক হাজার ৫০০ একর ভূমি অধিগ্রহণের সম্ভাব্যতা যাচাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি স্বল্প মেয়াদি ও দীর্ঘ মেয়াদি মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন এবং খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প (ডিপিপি) তৈরিসহ প্রয়োজনীয় জরিপ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য তিন হাজার ১৬৮ জনবল সম্বলিত একটি অর্গানোগ্রাম প্রণয়ন করে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। অর্গানোগ্রামটি অনুমোদিত হলে সাতটি অনুষদে ৫৩টি বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে এবং বছরে প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী কৃষি শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করণের জন্য বিভিন্ন নীতিমালাও প্রণয়ন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শহীদুর রহমান খান বলেন, গত দুই বছরে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি অনুষদে শিক্ষার্থী ভর্তিসহ বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কৃষিশিক্ষা ও কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে তিনি বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার মূল চালিকাশক্তি হলো শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনি জটিলতা কাটিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় সংবিধি প্রণয়নের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ সংক্রান্ত সব নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে।

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ সার্বিক অগ্রগতির জন্য রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, কেসিসি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সব সদস্য, বিভাগীয় কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ স্থানীয় রাজনীতিবিদ, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ইউজিসি কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন উপাচার্য।

 বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. খন্দকার মাজহারুল আনোয়ার বলেন, এখানে শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবহন ও আবাসন সুবিধাসহ অন্যান্য সুবিধা বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায় নিশ্চিত করা হয়েছে। অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের ফলে করোনাকালেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

উল্লেখ্য, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাশ হয় ২০১৫ সালের ৫ জুলাই। এরপর উপাচার্য নিয়োগ হয় ২০১৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৯ সালের ৪ এপ্রিল। দৌলতপুর কলেজিয়েট স্কুলের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার ৮টি কক্ষ ভাড়া নিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। শুরুতে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব শিক্ষক ছিল না। সে কারণে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অভিজ্ঞ অতিথি শিক্ষক এনে ক্লাস করানো হয়। তবে বর্তমানে বিভিন্ন বিভাগে নিজস্ব ৩০ জন শিক্ষক রয়েছেন। করোনাকালেও চলছে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম। ভাড়া করা তিনটি বাড়িতে চালু করা হয়েছে উপাচার্যের দফতর এবং ছাত্র ও ছাত্রী হল। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরুর দুই বছরের মধ্যে পাঁচটি অনুষদের শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

 

/টিটি/

লাইভ

টপ