দেড় কোটি টাকার রাস্তা ৫ মাসেই শেষ!

Send
নয়ন খন্দকার, ঝিনাইদহ
প্রকাশিত : ১৮:০১, অক্টোবর ১৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:১৯, অক্টোবর ১৮, ২০২০

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে দেড় কোটি টাকা দিয়ে রাস্তা সংস্কারের পাঁচ মাসের মাথায় এখন বেহাল দশা এটির।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬ কিলোমিটার কার্পেটিং রাস্তা নির্মাণের ৫ মাসের মাথায় নষ্ট হয়ে গেছে। নিম্নমানের ইট বালি ও পিচ দেওয়ার কারণে অধিকাংশ স্থানে গর্তসহ রাস্তা ধসে ও দেবে গেছে। গ্রামীণ সড়ক সংস্কারের মাসে এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, রাস্তা নির্মাণের কয়েকদিন পর বিভিন্ন স্থান গর্ত হয়ে দেবে গেছে। অনেক স্থান উঁচু-নিচু হয়ে গেছে। তাদের অভিযোগ রাস্তায় কাজ করার সময় ঠিকাদার নতুন ইট ও বালি দেননি। রাস্তার পুরাতন ইট তুলে তার ওপরেই পিচ ঢেলে রোলার টেনেছেন। যার কারণে রাস্তা দেবে সরকারের সব টাকা গচ্ছা  গেছে। অনেক স্থানে পিচ উঠে রাস্তা ভেঙে গেছে।

দেড় কোটি টাকায় সংস্কার হওয়া সড়কের এই হাল

কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, কালীগঞ্জ বাবরা রোড মিলগেট থেকে রাখালগাছি ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার কার্পেটিং (মেরামত) এর কাজটি করেছেন উজ্জ্বল নামে ঝিনাইদহের একজন ঠিকাদার। মেসার্স হান্নান এন্টারপ্রাইজের লাইসেন্সে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি থেকে কাজটি শুরু করার কথা থাকলেও ঠিকাদার গত ২৬ মে থেকে গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায়  রাস্তার কার্পেটিং এর কাজটি শুরু করেন। ১ কোটি ৩২ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ব্যয়ে রাস্তা মেরামতের কয়েকদিন পরই তা উঠে যেতে থাকে। পর্যায়ক্রমে প্রায় ৫ মাসে রাস্তার অধিকাংশ স্থান নষ্ট হয়ে গেছে। কোথাও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থান ভেঙে গেছে।  আবার কোথাও রাস্তার ওপর থেকে পিচ উঠে গেছে। এ রাস্তার বাবরা, মনোহরপুর, মোল্লাকোয়া গ্রামের অধিকাংশ অংশ বর্তমানে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে।

স্থানে স্থানে এভাবেই ভেঙে গেছে সদ্য সংস্কার করা কালীগঞ্জ সড়কটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মনোহরপুর বাজারের একাধিক ব্যক্তি জানান, ঠিকাদার রাস্তায় কোনও নতুন ইট ও বালি দেয়নি। পুরাতন ইট তুলে সেটাই আবার রাস্তা রোলার দিয়ে ডলে দিয়ে গেছেন। এর কয়েকদিন পর থেকেই রাস্তার বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে যায় ও গর্তের সৃষ্টি হয়।  আবার কোথাও উঁচু-নিচু হয়ে যায়। বর্তমানে এ রাস্তা  গাড়ি চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

রাস্তার পাশে মাছ ধরতে আসা মনোহরপুর গ্রামের প্রান্তিক চাষী আব্দুর রহমান জানান, রাস্তা সম্পর্কে কিছু বললে তো আমাদের দোষ হবে। সরকার তো রাস্তা তৈরি করতে যথেষ্ট পরিমাণ টাকা দিচ্ছেন। কিন্তু ঠিকাদাররা তো ফাঁকি দিচ্ছেন। তারা নিম্নমানের ইট বালি পিচ দিয়ে রাস্তা করেছেন। যার কারণে কয়েকদিন পর সব ভেঙে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমরা কৃষক, আমাদের সমস্যা সবসময়ই বিরাজমান। এই ভাঙা ও উঁচু-নিচু রাস্তা দিয়ে আমাদের গাড়ি ঠেলে কৃষিপণ্য নিয়ে যেতে হবে।

তবে ঠিকাদারের পাশেই যেন দাঁড়ালেন কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী সানাউল হক। মোবাইল ফোনে করা প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কোথাও পিচ উঠেনি। তবে রাস্তায় কাজ করার পর বৃষ্টি হয়েছিল এবং তখন বেশ কিছু ভারী যানবাহন চলাচলের জন্য কিছু কিছু জায়গা বসে গেছে। আমি রাস্তাটি ভিটিজ করে দেখবো।

সংস্কার করা সড়কের পাঁচ মাসেই এই হাল

রাস্তা নির্মাণের কয়েক মাসের মাথায় তা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান বা ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের কোনও জবাব না দিয়ে তিনি বলেন, ‘অফিসে আসেন, সাক্ষাতে কথা বলবো।’ 

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুবর্ণা রানী সাহা জানান, ‘বিষয়টি আমার অজানা। সরেজমিন দেখে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেবো।’

সংস্কারের নামে লুটপাট করায় প্রায় পুরো সড়কেই এমন ঢালু বা উঁচু নিচু অবস্থা দেখা যায়। আর সংস্কারের পর পরই দেখা দিয়েছে পিচে ফাটল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার নাসের আলম সিদ্দিকী উজ্জল জানান,  আমরা নতুন রাস্তা নির্মাণের কাজ করিনি। পুরানো রাস্তা মেরামতের কাজ করেছি। ওপরের অংশ খুঁড়ে রোলার টেনে কার্পেটিং করেছি। রাস্তার নিচে ইট বালি কী আছে সেটা আমি জানি না বা জানার বিষয় না। সিডিউল অনুযায়ী কাজ করেছি। কাজ করার দু’দিন পর বৃষ্টি হয়েছিল এবং তখন ওই রাস্তা দিয়ে ১০ চাকার বেশ কিছু ভারী গাড়ি চলাচল করায় বিভিন্ন স্থান বসে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়। তারপরও উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারের অনুরোধে আমি দেড় লাখ টাকা ব্যয় করে বসে যাওয়া বা ডিপ স্থানগুলো মেরামত করে দিয়েছি।  এখন যদি ওই রাস্তা দিয়ে ১০ চাকার গাড়ি চলাচল করে এবং রাস্তা নষ্ট হয়ে যায় তার জন্য তো আমি দায়ী থাকবো না।

/টিএন/

লাইভ

টপ
X