কাফনের কাপড় পেঁচিয়ে বিএনপি’র চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রচারণা

Send
বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০০:৪৩, অক্টোবর ১৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:১৪, অক্টোবর ১৯, ২০২০

বরিশালে কাফনের কাপড় পরে নিজ নির্বাচনি অফিসে বসে আছেন বিএনপির প্রার্থী

সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠীতে ইউনিয়ন পরিষদ উপনির্বাচনে কাফনের কাপড় পেঁচিয়ে নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছেন বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী শওকত হোসেন হাওলাদার। রবিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তিনি একাই ধানের শীষের নির্বাচনি কার্যালয়ে অবস্থান করে এ প্রচারণা চালান। এরপর ওই কাপড়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যান।

বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগ, গত শনিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কলসকাঠী বিএনপির নির্বাচনি অফিসে দফায় দফায় হামলা ও ভাঙচুরের পর আওয়ামী লীগ প্রার্থীর লোকজন একই স্থানে থাকা আওয়ামী লীগের নির্বাচনি অফিসও ভাঙচুর করে। এরপর বিএনপি’র শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়। এ কারণে গ্রেফতার ও হামলার ভয়ে বিএনপির কর্মী-সমর্থক কেউ এলাকায় নেই।
এ কারণে শওকত হোসেন একাই নির্বাচনি কার্যালয়ে অবস্থান করে ভোট চাচ্ছেন। নির্বাচন পর্যন্ত তিনি এভাবে একাই প্রচারণা চালিয়ে যাবেন বলে জানান।

বিএনপি প্রার্থী শওকত হোসেন হাওলাদার বলেন, ২০ অক্টোবর কলসকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন। এ উপনির্বাচনে ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে তিনি চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন। তার বিশ্বাস, কলসকাঠী ইউনিয়নবাসী এ নির্বাচনে তাকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবেন। তার এই জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ফয়সাল ওয়াহিদ মুন্না তালুকদার ও তার কর্মী-সমর্থকরা দিশেহারা। যে কারণে শনিবার উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়ার নেতৃত্বে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বহিরাগত ২/৩ শতাধিক নেতা-কর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে কলসকাঠী বাজারে বিএনপির প্রধান নির্বাচনি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে তাদের ৫ নেতা-কর্মী আহত হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, তারা শুধু বিএনপির নির্বাচনি কার্যালয়ে হামলা করেই ক্ষান্ত হয়নি। কলসকাঠী ইউনিয়ম বিএনপির ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মনির তালুকদারের ঔষধের ফার্মেসি, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক খোকন আকনের দোকান, বিএনপি নেতা হারুনের মুরগির দোকান, তৈয়বের চালের দোকান, যুবদল নেতা লিটনের চায়ের দোকান ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাট করে।

তিনি দাবি করেন, এরপর এ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নিজেদের দলীয় অফিস ভাঙচুর করে বিএনপি নেতা-কর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়ার অপচেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থীর হামলা-ভাঙচুরের কারণে আমার কর্মী-সমর্থকরা এলাকা ছাড়া। তারপরও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবো।

তিনি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানান।

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ফয়সাল ওয়াহিদ মুন্না তালুকদার তাদের বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শনিবার বিএনপির লোকজন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অফিস ভাঙচুর করেছে। সবকিছু মিলিয়ে বাকেরগঞ্জের কলসকাঠীতে উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যে কোনও মুহূর্তে ফের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

 

/টিএন/

লাইভ

টপ