নৌযান ধর্মঘটেও চলছে যাত্রীবাহী লঞ্চ

Send
বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৬:৫৩, অক্টোবর ২০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৫৪, অক্টোবর ২০, ২০২০

শ্রমিক ধর্মধটের কারণে পণ্যবাহী নৌযান চলাচল বন্ধনৌপথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বন্ধ, বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ ১১দফা দাবিতে রাত ১২টা ১মিনিট থেকে শুরু হয়েছে নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট। নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য এই ধর্মঘট ডাক দিয়েছে। তবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে যাত্রীবাহী নৌযান এই ধর্মঘটের বাইরে রয়েছে। কর্মসূচি অনুযায়ী পণ্যবাহী সব নৌযান চলাচল বন্ধ রেখেছেন শ্রমিকরা। নৌপথে পণ্য ও জ্বালানী পরিবহন বন্ধ থাকায় বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

১১ দফা দাবিতে গত দেড় বছরে তিন বার ধর্মঘট করেন নৌযান শ্রমিকরা। সর্বশেষ গত অক্টোবরেও লাগাতার ধর্মঘট করেছেন তারা। শ্রমিক নেতারা বলছেন, প্রতিবার দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত তাদের কোনও দাবি মেনে নেয়নি সরকার কিংবা নৌযান মালিক পক্ষ। এ কারণে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের আহ্বানে সোমবার দিনগত মধ্যরাত থেকে ফের নৌযান শ্রমিক ধর্মঘট শুরু হয়।

ধর্মঘটের কারণে সব ধরনের পণ্য ও জ্বালানীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। গন্তব্যে যেতে না পেরে বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে নোঙর করে রয়েছে অর্ধশতাধিক পণ্য ও জ্বালানীবাহী জাহাজ।

ধর্মঘটে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা জানান, মৌখিক ভিত্তিতে চাকরি করছেন তারা। তাদের চাকরির কোনও নিশ্চয়তা নেই। এ কারণে নিয়োগপত্র ও খাদ্যভাতা প্রদান, নৌ পথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভারতগামী জাহাজের শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাস প্রদান এবং নৌপথে নাব্য বাড়ানোসহ ১১ দফা যৌক্তিক দাবি তুলেছেন তারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

এদিকে ধর্মঘট সফল করতে কীর্তনখোলা নদীতে নোঙর করা বিভিন্ন জাহাজে গিয়ে দাবি লেখা লিফলেট বিতরণ করেন নৌযান শ্রমিক নেতারা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নৌযান শ্রমিকরা নগরীর চাঁদমারী ঘাট এলাকায় বিক্ষোভ করেন।

নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শেখ আবুল হাসেম জানান, দুর্গা পূজার কারণে সাময়িক সময়ের জন্য যাত্রীবাহী জাহাজ ধর্মঘটের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। অবিলম্বে তাদের দাবি মেনে নেওয়া না হলে পণ্যবাহী জাহাজের মতো যাত্রীবাহী জাহাজেও যে কোনও সময় শ্রমিক ধর্মঘট শুরুর হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এ ব্যাপারে যাত্রীবাহী লঞ্চ মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, ‘শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল ২০১৬ সালের আগে যে তারা আর আন্দোলনে যাবে না। এ জন্য তাদের গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো পূরণ করা হয়। দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্যই তারা চুক্তি ভঙ্গ করে আবারও আন্দোলন ডেকেছে।’

 

/এফএস/

লাইভ

টপ