নরসিংদীতে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ২

Send
নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৮:০৮, অক্টোবর ২০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:১৫, অক্টোবর ২০, ২০২০

ধর্ষণনরসিংদী সদর উপজেলার শীলমান্দিতে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই ঘটনায় সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে দুই জনের নাম উল্লেখসহ তিন জনকে আসামি করে নরসিংদী সদর মডেল থানায় মামলা করেন। ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয় একটি টেক্সটাইল মিলের শ্রমিক।  

এর আগে গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১০টার দিকে কাজের উদ্যেশ্যে টেক্সটাইল মিলে যাওয়ার সময় ওই কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে সোমবার সকালে নরসিংদীর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সাহায্য চান। দুপুরে অভিযুক্ত দুই ধর্ষককে আটকের পর রাতে নরসিংদী মডেল থানায় মামলা করেন কিশোরীর বাবা।

এই ঘটনায় গ্রেফতারকৃতরা হলেন-সদর উপজেলার শীলমান্দির দক্ষিন শীলমান্দি এলাকার মো. আমীর হোসেনের ছেলে মো. জামান মিয়া (৩০) এবং আব্দুল মান্নান ভূইয়ার ছেলে উসমান ভূইয়া (৩২)। সোমবার দুপুরে পিবিআই এর পরিদর্শক (প্রশাসন) মো. মনিরুজ্জামান শীলমান্দি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করেন।  

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৭ অক্টোবর রাত পৌনে ১০টার দিকে রাতের পালায় কাজ করতে টেক্সটাইল মিলের দিকে রওনা হন ওই কিশোরী। পাঁচ মিনিট হাঁটার পর জামান মিয়া ও উসমান ভূইয়া তাকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে অন্য একটি টেক্সটাইল মিলের ফাঁকা জায়গায় বাঁশবাগানের ভেতর ধর্ষণ করেন। এ সময় অজ্ঞাতনামা আরও এক আসামি তাদের পাহারা দেন। ধর্ষণের পর আসামিরা চলে যাওয়ার সময় হুমকি দেয়, ঘটনা জানাজানি হলে কিশোরীকে হত্যা এবং তার বড় বোনকেও ধর্ষণ করা হবে। পরে ওই কিশোরী আর কাজে না গিয়ে বাসায় চলে যায় এবং কান্নাকাটি শুরু করে। এ সময় পরিবারের সদস্যরা তার পরনের কাপড় ছেঁড়া কেন জানতে চাইলে সে ভয়ে আরও কান্নাকাটি করে কিন্তু আসামিদের নাম প্রকাশ করেনি। তবে পরদিন তার ফুফু ও এক বান্ধবীর কাছে ধর্ষণের ঘটনা এবং আসামিদের নাম প্রকাশ করে।

মামলার বাদী ও কিশোরীর বাবা জানান, ১৮ অক্টোবর রাত ১১টার পর আমার বড় ছেলের স্ত্রী আমাকে ফোন করে একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানায়। দ্রুত বাড়ি আসার পর ঘটনাটি জানতে পারি। পর দিন প্রতিবেশী মো. মোর্শেদকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি আসামি উসমান ভূইয়াকে ডেকে আনেন। এ সময় জানতে চাইলে উসমান ধর্ষণের ঘটনাটি স্বীকার করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি নরসিংদীর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) জানানো হলে তাদের একটি দল এসে উসমানকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। উসমানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত মো. জামান মিয়াকে আটক করা হয়।

নরসিংদীর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের পরিদর্শক (প্রশাসন) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ধর্ষণের ঘটনাটি শনিবারের হলেও আমরা খবর পেয়েছি সোমবার সকালে। পরে দুপুরেই জামান মিয়া ও উসমান ভূইয়াকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এ নিয়ে গত ১০ দিনে নরসিংদী জেলায় মোট ৫টি ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, শহরের চৌয়ালায় একটি স্পিনিং মিলে কাজ করা ১৪ বছরের এক কিশোরী শ্রমিককে চার জন মিলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, শহরের নাগরিয়াকান্দিতে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে তিন জন মিলে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ, মাধবদীতে ৩০ বছর বয়সী এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষণ এবং পলাশে ১৭ বছর বয়সী এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে মোট ১২ জনকে। পুলিশ গ্রেফতার করেছে ৬ জনকে। 

/আরআইজে/

লাইভ

টপ