নির্বাচন কমিশন আ. লীগের অঙ্গ সংগঠন হিসেবে কাজ করছে: মির্জা ফখরুল

Send
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:৫৫, অক্টোবর ২০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:২১, অক্টোবর ২০, ২০২০

ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় আবারও এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আবারও প্রমাণ করলো যে আওয়ামী লীগের অধীনে ও দলীয় সরকারের অধীনে এদেশে কখনোই সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন সম্ভব নয়। বিশেষ করে বর্তমান নির্বাচন কমিশন যারা পুরোপুরি সরকারের ও আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন হিসেবে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে তাদের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে ঠাকুরগাঁওয়ের কালীবাড়ির নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ২০১৪ তে একটা নির্বাচন হয়েছে। যেখানে কেউ ভোট দিতে যায়নি। ১৫৪ টা সিটে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয় তারা। তখন থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এখন এই প্রক্রিয়া আরও তীব্র হয়েছে। বাংলাদেশের নির্বাচনি ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে পড়েছে। কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি নেই বললেই চলে। তবে বিএনপি মনে করেছিল, জাতীয় নির্বাচন বাদে স্থানীয় সরকার ও ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে হয়তো ভোটাররা ভোট দিতে আসবে। কিন্তু এখানেও তারা ভোট দিতে আসেননি। এটার জন্য দায়ী নির্বাচন কমিশন ও বর্তমান সরকার। ৯টি উপজেলা ও ৪২ টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল ৪ টার সময় একটা খবর পেয়েছি, প্রায় সবগুলো কেন্দ্রে একই ঘটনা ঘটেছে। যাত্রাবাড়ি ও নওগাঁয় একই কায়দায় নির্বাচন হয়েছে। পাবনা-৪ এ একই চেহারা লক্ষ্য করা গেছে। যে চেহারা ছিল ২০১৮ তে। নির্বাচনের আগের দিন রাতেই ব্যালট ভরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটের ফলাফলটা তাদের মতো করে তৈরি করে নেওয়া আর কি!

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপির মহাসচিবসহ নেতাদের পদত্যাগ চেয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তার জবাবে মির্জা আলমগীর বলেন, তিনি তো আমাদের পদত্যাগ চাইবেনই। কারণ, আমরা যে তাদের পদত্যাগ চেয়েছি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আমাদের কথা পরিষ্কার, আমরা নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতার পরিবর্তনে বিশ্বাস করি। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি হিসেবে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করলে অবশ্যই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে। আপনারা লক্ষ্য করেছেন, ঢাকায় নির্বাচন হলো সেখানে ১০ শতাংশ ভোট পড়েছে। কিন্তু, ভোটারের সংখ্যা যেটা দেখানো হয়েছে সেটা আর কী বলবো! মজার ব্যাপার হলো প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা সেদিনও বলেছেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। এর ওপরে আর কী বক্তব্য থাকতে পারে। এটা প্রহসন ছাড়া কিছুই নয়।

জোর দিয়ে বলতে চাই নির্বাচন কমিশন যদি পরিবর্তন না হয়, নির্বাচনকালীন সরকার যদি পরিবর্তন না হয় তাহলে দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। ইতোমধ্যে যে ভোট ডাকাতি, কারচুপির নির্বাচন হয়েছে তার প্রতিবাদে প্রথমে জেলা পর্যায়ে পরে ইউনিয়ন পর্যায়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবো আমরা।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মির্জা ফয়সল আমীন, সহ-সভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদসহ বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা ।

 

/টিএন/

লাইভ

টপ