রান্নার এলপিজি ব্যবহৃত হচ্ছে পরিবহনে!

Send
জসিম উদ্দিন মজুমদার, খাগড়াছড়ি
প্রকাশিত : ১০:৫৪, অক্টোবর ২৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৪, অক্টোবর ২৩, ২০২০

খাগড়াছড়িতে রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি সিলিন্ডার হতে গ্যাস নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে তা ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন পরিবহনে। জেলার  মাটিরাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে চলছে  এমন কার্যক্রম। স্থানীয়  প্রশাসন এসব কার্যক্রম সম্পর্কে জানলেও কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের।

সরজমিনে খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়কের রসুলপুর, মাটিরাঙ্গা-তবলছড়ি সড়কের চৌধুরী পাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার থেকে দেশীয় প্রযুক্তির চাপ যন্ত্র ব্যবহার করে গ্যাস বের করে আনা হচ্ছে। মাটিরাঙ্গা ও গুইমারা উপজেলা থেকে প্রতিদিন শত শত থ্রি হুইলার (সিএনজি) এসব অবৈধ ফিলিং স্টেশন থেকে এলপিজি জ্বালানি নিচ্ছে। কোনও প্রকার নিরাপত্তা বলয় ছাড়া দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিবহনে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। এতে করে যেকোনও সময় বিস্ফোরণ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
মাটিরাঙ্গার রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. ইসমাইল ও এরশাদ আলী জানান, বিগত কয়েক বছর ধরে মাটিরাঙ্গা বাজারে গ্যাস পাম্প মেশিন বসায় ব্যবসায়ী খায়েরুজ্জামান বিটু। জানাজানি হওয়ার পর কয়েক মাস ধরে মাটিরাঙ্গা বাজার থেকে সরিয়ে গ্রামের মধ্যে নিয়ে আসে। চারপাশে বসতবাড়ি, মসজিদ ও খামার রয়েছে। যেকোনও মুহূর্তেই বড় দুর্ঘটনায় ভয়ে থাকি।

মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র শামছুল হক জানান, উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় এ ব্যাপারে একাধিকবার কথা বলেছি। তারপরও কিভাবে এসব কারবার চলে তা আমি বুঝি না। রাজনৈতিক ইন্ধন ও কর্তৃপক্ষকে হাত করে এমন কাজ চলছে বলেও জনমুখে শুনেছি।

চৌধুরীপাড়াস্থ অবৈধ গ্যাস পাম্পের মালিক ও তবলছড়ি ইউনিয়নের সদস্য আসাদুজ্জামান বকুল জানান, এলপিজি পাম্প স্থাপনের জন্য লাইসেন্স করতে আবেদন করা হয়েছে। করোনার জন্য লাইসেন্স দেওয়া হয়নি। স্থানীয়  চালক ও মালিকরা অনুরোধ করায় পাম্প করার জন্য কেনা যন্ত্রপাতি দিয়ে সেবা দিচ্ছি।

তবে মাটিরাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তা আশিকুর রহমান জানান, জ্বালানি তেল বা গ্যাস পাম্প করতে ফায়ার সেফটির যে ছাড়পত্র নিতে হয় তা কেউ গ্রহণ করেনি।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস জানান, অনুমতি ছাড়া এলপিজি সিলিন্ডার বিপণন নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কেউ যদি আইনের ব্যত্যয় ঘটায় তবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ি সদরের খবংপুড়িয়া এলাকার একটি গুদামে এক এলপিজি সিলিন্ডার থেকে অন্যটিতে গ্যাস নেওয়ার সময় বিস্ফোরণে ৭ জন দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে ৩ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

 

/এমআর/

লাইভ

টপ