দুই বছরেও শেষ হয়নি চার কোটি টাকার প্রকল্প

Send
হিলি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:৪১, অক্টোবর ২৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৫১, অক্টোবর ২৪, ২০২০

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে দীর্ঘ দুই বছরেও শেষ হয়নি জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া চার কোটি টাকার প্রকল্প। যার কারনে হালকা বৃষ্টি হলেই ময়লা পানিতে রাস্তা থই থই করে। পুরো ঘোড়াঘাট পৌরসভার চিত্র একই। শহরের রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে গ্রামের অলিগলি চারদিক ডুবে যায় ময়লা পানিতে।

ঘোড়াঘাট পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পৌর এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে গত ২০১৮ সালের জুন মাসে ১ কোটি ৯৯ লাখ ৭৭ হাজার ৯২৯ টাকা বরাদ্দে শহরের কালিতলা গোলচত্বর থেকে করতোয়া নদী পর্যন্ত আরসিসি ড্রেন নির্মাণ কাজ শুরু করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রুনা এন্টারপ্রাইজ। একই সালের এপ্রিল মাসে ১ কোটি নিরানব্বই লাখ ৭১ হাজার ৮০৮ টাকা বরাদ্দে ঘোড়াঘাট বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে কালিতলা পৌরভবন পর্যন্ত আরসিসি ড্রেন নির্মানের শুরু করেছিল একই প্রতিষ্ঠান। এরপর দুই বছর পার হয়ে গেলেও এখনও ড্রেনের কাজ পুরোপুরি শেষ করতে পারেনি তারা। প্রকল্পের চুক্তি অনুযায়ী, কালিতলা থেকে করতোয়া নদী পর্যন্ত চেইনেজ ৭৫০-১+৪৮৫.০০ মিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প ১৮ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছিল জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টি বোর্ড। অপর দিকে বাসস্ট্যান্ড থেকে কালিতলা পর্যন্ত ০.০০-৭৮৭.০০ মিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ১৯ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত সময় দিয়েছিল।

সরেজমিন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দ্বিতীয় পর্যায়ের বরাদ্দে বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে কালিতলা পর্যন্ত ড্রেনটির পুরোপুরি শেষ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে রাস্তা থেকে ড্রেনের উচ্চতা তুলনামূলক বেশি হওয়ায়, রাস্তার পানি ড্রেনের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। অপরদিকে এই ড্রেনটি কালিতলা থেকে করতোয়া নদী পর্যন্ত নির্মাণকৃত ড্রেনের সঙ্গে যুক্ত হওয়া কথা। কিন্তু তা যুক্ত না করেই ওই ড্রেন থেকে প্রায় তিনশ গজ আগেই ড্রেনটির কাজ শেষ করে দেয়। এর ফলে এই ড্রেনের পানি বের হতে পারছে না। তাই হালকা বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় বাসস্ট্যান্ডসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামে। অপরদিকে কালিতলা থেকে পৌরভবনের সামনে দিয়ে নির্মাণকৃত ড্রেনে এসপির মাঠ সংলগ্ন জায়গায় কোনও কাজই করা হয়নি। মাটি খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে।

পৌর এলাকার নয়াপাড়া গ্রামের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী জোবায়ের হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'আমাদের এলাকায় ড্রেন আছে! কিন্তু এখন পর্যন্ত ড্রেনগুলোর সংযোগ এবং পানি প্রবাহিত হয়ে কোথায় গিয়ে পড়বে তা ঠিক করতে পারেনি পৌরসভা। এর ফলে ড্রেনগুলো দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে পারছে না।'

পৌরসভার কালুপুকুর গ্রামের আদিবাসী স্কুল শিক্ষক ডেনিস মূর্ম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'এই ড্রেন করার কাজে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। যার কারণে ড্রেন নির্মাণের কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ করতে পারেনি পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ড্রেন নির্মাণের পর থেকে আজ পর্যন্ত পৌরসভার পক্ষ থেকে কোনও পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে ড্রেন পরিষ্কার করতে দেখিনি।'

ঘোড়াঘাট পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ার পারভেজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'বাসস্ট্যান্ড থেকে কালিতলা পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণের কাজ ৭০ ভাগ এবং কালিতলা থেকে করতোয়া নদী পর্যন্ত ড্রেনের কাজ ৫০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে প্রকল্পের কাজ বেশ কিছুদিন ধরে বন্ধ ছিল। যার কারণে পুরো কাজ শেষ করা সম্পন্ন হয়নি। আমাদের টাইম এক্সটেনশনের আবেদন জয়বায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টি বোর্ড অনুমোদন দিয়েছে। সেই সঙ্গে প্রকল্প সমাপ্তির মেয়াদ ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে বাড়িয়ে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করে দিয়েছে।'

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রুনা এন্টারপ্রাইজের মালিক নজরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'টাইম এক্সটেনশন জটিলতার কারণে কাজ স্থগিত করে রাখা হয়েছিল। আমাদের বেশ কিছু কাজ বাকি আছে। আগামী বছরের ভেতর পুরো কাজ শেষ করা যাবে বলে আশা করছি।'

 

/এএইচ/

লাইভ

টপ