ধর্ষণের অভিযোগ থেকে বাঁচতে ভুয়া কাবিননামা, গ্রেফতার ৩

Send
ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২২:৩৭, অক্টোবর ২৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:০৫, অক্টোবর ২৫, ২০২০

গ্রেফতারকৃতরা ফরিদপুরের সালথায় এক তরুণীকে (১৮) কৌশলে উঠিয়ে নিয়ে টানা ৫ দিন ধর্ষণের পর নিজেকে বাঁচাতে ভুয়া কাবিননামায় বিয়ে করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে রবিবার (২৫ অক্টোবর) সালথা থানায় অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা করেছেন ওই তরুণীর বাবা। পুলিশ ধর্ষক ও ভুয়াকাজীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।

মামলার এজাহার ও ধর্ষিতার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ওই তরুণীর বাড়ি উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে। সম্প্রতি মুঠোফোনে তার সঙ্গে একই উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া গ্রামের এনায়েত হোসেন মৃধার (৪২) পরিচয়। গত ২ অক্টোবর বিকালে ওই তরুণীকে স্থানীয় বাহিরদিয়া বাজার এলাকা থেকে কৌশলে গাড়িতে উঠিয়ে ঢাকার আশুলিয়ায় নিয়ে যায় এনায়েত। সেখানে বাসা ভাড়া নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই তরুণীকে টানা ৫ দিন ধর্ষণ করে সে।

এরপর ধর্ষণের অভিযোগ থেকে নিজেকে বাঁচাতে গত ৮ অক্টোবর ঢাকার আশুলিয়া থেকে সালথার পার্শ্ববর্তী বোয়ালমারী উপজেলায় এসে এক ব্যক্তিকে ভুয়া কাজী ও ওই ভুয়া কাজীর ভাইকে ভুয়া সাক্ষী বানিয়ে তরুণীর কাছ থেকে কৌশলে স্বাক্ষর নিয়ে একটি সাজানো কাবিননামা তৈরি করে এনায়েত। পরে তরুণীকে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে নিজ বাড়িতে যান। বাড়িতে যাওয়ার পর তরুণীকে তার বাবার বাড়িতে দিয়ে আসে এনায়েতের পরিবার।

বাড়িতে ফিরে পরিবারের কাছে সব ঘটনা খুলে বলে ওই তরুণী। এরপর ভুয়া কাবিননামা ও এনায়েতের পূর্বের একাধিক বিয়ের ঘটনা জানতে পেরে থানায় অভিযোগ দেয় তরুণীর বাবা। জানা যায়, মো. এনায়েত হোসেন মৃধা একজন মাংস ব্যবসায়ী। তিনি এ পর্যন্ত ৫টি বিয়ে করেছেন। তার প্রত্যেক স্ত্রীরই ছেলেমেয়ে রয়েছে।

এজাহার পেয়ে সালথা থানার পুলিশ রবিবার সকালে বোয়ালমারী উপজেলার ময়েনদিয়া বাজার এলাকা থেকে এনায়েতকে গ্রেফতার করে। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বোয়ালমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের চালিনগর গ্রাম থেকে কথিত কাজী বসিরুল ইসলাম (৪০) ও তার ভাই হোসাইন মোল্লাকে (২৭) গ্রেফতার করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ওই তরুণীর সঙ্গে মুঠোফোন পরিচয় হয় এনায়েতের। এর আগে সে এনায়েতকে দেখেনি বা তার সম্পর্কে কিছু জানতো না। মামলা হওয়ার পর এনায়েত, কথিত কাজী ও ভুয়া কাবিননামার সাক্ষী  কাজীর ভাইকে গ্রেফতার করা হয়। ভুয়া ওই কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে আরও দুইজনের নাম রয়েছে। তাদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। 

/আরআইজে/এমওএফ/

লাইভ

টপ