হিলি সীমান্তে এবার দুর্গাপূজায় শূন্যরেখায় যাওয়ার অনুমতি নেই

Send
হিলি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০২:৪৭, অক্টোবর ২৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:৫৫, অক্টোবর ২৬, ২০২০

হিলি সীমান্তে আসা হিন্দু নারী-পুরুষ 

সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে দিনাজপুরের হিলি সীমান্তের দু’পাশে স্বজনদের সঙ্গে আলোচনার জন্য ভারত ও বাংলাদেশের দর্শনার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে করোনার কারণে এবার যেমন সীমান্তের শূন্যরেখায় কাউকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এছাড়া এবছর অতীতের তুলনায় দর্শনার্থীর সংখ্যাও কম ছিল। এদের কেউ পূজা দেখতে, আবার কেউবা তাদের আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন।

দুর্গাপূজা শুরু হওয়ার পর প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে দর্শনার্থীরা আসছেন হিলি সীমান্তে। অপরদিকে, ভারতের অভ্যন্তরেও তাদের দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা আসেন বাংলাদেশের পূজা দেখার ছুঁতোয় নিকট আত্মীয় স্বজনের দেখা করতে। তবে এবারে করোনার কারণে সীমান্তের শূন্যরেখায় যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছে না বিজিবি। একইসঙ্গে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী পারাপার বন্ধ রয়েছে। ফলে সীমান্তের দুপাড়ে দাঁড়িয়ে ছবি উঠিয়ে নিজ বাড়ি ফিরছেন তারা।

হিলি সীমান্তে আসা দর্শনার্থী পুষ্পরানী ও অনুপ বসাক বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আমার বাবার চাকুরির সুবাদে হিলির চন্ডিপুর গ্রামে দশ বছর ধরে আমরা ছিলাম। যার কারণে এখানে আমাদের বেশ কিছু স্মৃতি রয়েছে, তেমনি ভারতেও আমাদের অনেক আত্মীয়-স্বজন রয়েছে। তাই দুর্গাপূজাকে ঘিরে বগুড়া থেকে হিলিতে এসেছিলাম দুর্গা মায়ের দর্শন করতে। আগে সীমান্তের শূন্যরেখায় দাঁড়িয়ে দু’দেশের মানুষের সাথে কথা বলার সুযোগ দিতো  আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। এই জন্যই আসছি ভারত অংশে। সঙ্গে আমার মামাতো ভাই এসেছে। কিন্তু, এবার করোনার কারণে বিজিবি আমাদের সীমান্তের শূন্যরেখায় যেতে দিচ্ছে না। তাই এখান থেকে দাঁড়িয়ে চোখের দেখা দেখে চলে যাচ্ছি।

একই উদ্দেশ্যে আসা শিল্পী রানী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রতিবছর আমরা এইদিনের অপেক্ষায় থাকি। এই দিনে সীমান্তের কাছে দাঁড়িয়ে ভারতীয় প্রতিমার কিছু অংশ যেমন দেখা যায় তেমনি আমাদের আত্মীয়-স্বজনদের সাথে দেখাসাক্ষাৎ করার সুযোগ পাই। কিন্তু, করোনার কারণে আমাদের উৎসব তেমনভাবে না হলেও মনের টানে ভারতে থাকা আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাবো এই আশায় হিলি সীমান্তে আসলাম। কিন্তু আমাদের দেখা করার সুযোগ দিচ্ছে না বিজিবি। যার কারণে সীমান্তের এই পাড় থেকেই ইশারার মাধ্যমে ভালো-মন্দ খোঁজ-খবর নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি।

অনুমতি থাকলে দুর্গাপূজায় শূন্যরেখা ভরে যায় হিন্দু নারী পুরুষে । করোনার কারণে এবার অনুমতি নেই।

হিলি সীমান্তে আসা নির্মল চন্দ্র বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাদের অনেক আত্মীয়-স্বজন রয়েছে ওপারে, যার কারণেই হিলি সীমান্তে আসা। দুইবাংলার মাঝখানে তারকাঁটার বেড়া দিয়ে দুই বাংলাকে ভাগ করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের মনকে তো আর ভাগ করতে পারেনি, আগে তো দুই বাংলা একই ছিল। তাই ভালোবাসার টানে, প্রাণের টানে ছুটে আসা সীমান্তে। এখানে যদি সবাইকে যদি দুঘণ্টার জন্য প্রতিমা দর্শন ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দিতো তাহলে অনেক ভালো হতো।

বিজিবির হিলি আইসিপি ক্যাম্প কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) নায়েব সুবেদার ইয়াসিন আলী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, শারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষজন হিলি সীমান্তে আসছেন। তবে করোনার কারণে অন্যান্যবারের মতো শূন্যরেখায় কাউকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।

 

 

/টিএন/

লাইভ

টপ