কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে ফের

Send
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০:২৬, অক্টোবর ২৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:২৬, অক্টোবর ২৬, ২০২০






কাঁচা মরিচ নীলফামারীতে কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে দাম ২০ টাকা বেড়েছে ফের। গতকাল রবিবার (২৫ অক্টোবর) কাঁচা মরিচ পাইকারি বাজারে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) তা বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা কেজি দরে। ওই মরিচ খুচরা বাজারের বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়।
জেলা শহরের বড় বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী ও শিহাব ভান্ডারের মালিক রুহুল আমিন বলেন, রবিবার কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকা কেজি দরে। সেখানে আজ সোমবার প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ২০ টাকা। একদিনের ব্যবধানে এমন মূল্য বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছে স্থানীয় ভোক্তারা। এছাড়া সবজিসহ পেঁয়াজ, আদা, রসুন, আলু এবং শুকনো মরিচের দামও বেড়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে ওই বাজার ঘুরে দেখা যায়, একদিনের ব্যবধানে মরিচসহ সবজির দাম বেড়েছে তিন গুন। পাইকারি দোকানে প্রকারভেদে মরিচ প্রতি কেজি ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর খুচরা দোকানে বিক্রি হয়েছে ২০০ টাকা দরে।
ওই বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী আলম মিয়া বলেন, রবিবার আড়তে প্রতি মন মরিচের দাম ছিল ৬ হাজার ৪০০ টাকা থেকে ৬ হাজার ৬০০ টাকা। সোমবার তা বেড়ে প্রতি মন ৬ হাজার ৮৫০ টাকা। তিনি বলেন, মরিচ আর আলু পচনশীল হওয়ায় আড়তের দামের চেয়ে সামান্য লাভ করে দ্রুত বিক্রি করতে হয়। এভাবে খুচরা ব্যবসায়ীরাও গ্রাহকের কাছে বিক্রি করেন। গতকালের তুলনায় আজ পাইকারিতে প্রতি কেজি মরিচ বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী আবু তাহের বলেন, গতকাল প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা দরে বিক্রি করলেও আজ আমদানি কম হওয়ায় তা ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। দুর্গা পূজা উপলক্ষে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি বন্ধ হওয়ায় বাজারে দাম বেড়েছে। এছাড়া স্থানীয়ভাবেও কাঁচা মরিচের উৎপাদন বন্ধ। তাই চড়া দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আমরা আলু, কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজ এই তিনটি পণ্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল। ওইসব পণ্য আমাদের খুচরা বিক্রি করতে হয়। দোকানের কেনা মরিচ, পেঁয়াজ বিক্রি না হলে পুরো টাকা লোকসান গুনতে হয়।
জেলা সদরের পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের বগুলাগাড়ী গ্রামের রাজমিস্ত্রি মিন্টু ইসলাম বলেন, গতকাল খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি হয়েছে ১৮০ টাকায়, আজ সকালে ওই মরিচ কিনতে হলো ২০০ টাকায়। আমাদের আয়ের ওপর নির্ভর করে বাজার করতে হয়। বাড়তি দাম দিয়ে সবজিসহ কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ আলু কেনায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আজ প্রকারভেদে আলু ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দামে বিক্রি হচ্ছে।

একই এলাকার রাজের হেলপার মুছা মিয়া বলেন, বৃষ্টি, করোনা, আর ভারত থেকে আদা, রসুন, পেঁয়াজ ও মরিচ না আসার অজুহাতে সবজির বাজারও ঊর্ধ্বমুখি। ফলে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষের অবস্থা নাজুক।
এদিকে, খুচরা বাজারে আদা (পুরাতন) ৪০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকা, প্রকারভেদে আলু কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা। কচুর বই ১০ টাকা বেড়ে ৩৫, পোটল ২০ টাকা বেড়ে ৫০, বরবটি ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০, ঝিঙ্গা ১৫ টাকা বেড়ে ৪৫, বেগুন ১০ টাকা বেড়ে ৪০, চিচিঙ্গা ১০ টাকা বেড়ে ৫০, করলা ১০ টাকা বেড়ে ৪০, পাতাকপি ১০ টাকা বেড়ে ৬০, ফুলকপি ১০ টাকা বেড়ে ৮০ এবং ধনিয়া পাতা ২০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
শুকনো মরিচ ৩০ টাকা বেড়ে ৩০০ টাকা, শশা ২০ টাকা বেড়ে ৫০ টাকা, লেবু হালিতে ১০ টাকা বেড়ে ৩০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৩০, কাঁচকলা প্রতি হালি ২৫, পেঁপে কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ২৫ এবং আকার ভেদে কুমড়া প্রতি পিস ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের মাকেটিং কর্মকর্তা এরশাদ আলম খান বলেন, আমরা নিয়মিত জেলা শহরসহ উপজেলা পর্যায়ে বাজার মনিটরিং করছি। তবে দুর্গা পূজা উপলক্ষে দুই-চার দিন হিলি স্থলবন্দর দিয়ে এসব কাঁচা পণ্য আমদানি বন্ধ হওয়ায় সাময়িকভাবে দাম খানিকটা বেড়েছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ওই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে। এই সমস্যা দুই একদিনের মধ্যে কেটে যাবে।

/আরআইজে/

লাইভ

টপ