ভাঙন আতঙ্কে ইন্দুরকানীর নদী তীরবর্তী লোকজন

Send
পিরোজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৮:৫৮, অক্টোবর ২৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৫৯, অক্টোবর ২৮, ২০২০

নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধনদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার বেড়িবাঁধ। টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকায চরম ঝুঁকিতে রয়েছে এ উপজেলার বাসিন্দারা।   ফলে বর্ষা মৌসুমসহ সারা বছর ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটে নদী তীরবর্তী মানুষগুলোর।

ইন্দুরকানী উপজেলায় ৯৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। বিভিন্ন প্রাকৃতির দুর্যোগে সেসব ক্ষতিগ্রস্থ হলেও ঠিকমতো মেরামত করা হয়নি। উপজেলার টগড়া, খোলপটুয়া, পূর্ব চন্ডিপুর, পূর্ব চরবলেশ্বর, কালাইয়া ও সাইদখালী এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোয় দেড় থেকে দুই বছর আগে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলেও অতিরিক্ত জোয়ারের পানির চাপে তা কচা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

টগড়া গ্রামের কচা নদীর পাড়ে বসবাসরত শাহজাহান মৃধা, মিজানুর রহমান, আব্দুল হক জানান, নদীর তুফানের শব্দে আমাদের রাতে ঘুম হয় না। বেড়িবাঁধ না থাকায় আমাদেরকে সবসময় আতঙ্কের মধ্য দিন কাটাতে হয়।

নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধ

ইন্দুরকানীর পাড়েরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার বাবুল জানান, ঘূর্ণিঝড়  বুলবুল, আম্পানের আঘাতে টগরা ও উমেদপুর এলাকার অনেক স্থানের বেড়িবাঁধ বিলীন হয়েছে। ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে অনেকের। স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন মঞ্জু চেষ্টা করছেন ভাঙন কবলিত এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের।

টগড়া গ্রামের শাওন তালুকদার বলেন, টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকায় গ্রামের বিশেষ করে নদী তীরবর্তী শতশত পরিবারকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হতে হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মুহাম্মদ আল মুজাহিদ জানান, বিভিন্ন দুর্যোগে ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের পিরোজপুর নির্বাহী প্রকৌশলীকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া টেকসই বাঁধ নির্মাণের ব্যাপারে পানি সম্পদ প্রতি মন্ত্রীকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধ

ইন্দুরকানীর চেয়ারম্যান এম মতিউর রহমান জানান, নদী তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে অচিরেই ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পিরোজপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, ইন্দুরকানীতে বিভিন্ন সময়ে খোলপটুয়া, কালাইয়া, সাউদখালী বাজার, পূর্ব চরবলেশ্বর, পূর্ব চন্ডিপুর গ্রামের বাঁধ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ভেঙে যাওয়া এসব বাঁধ সংস্কার করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে বাঁধগুলো পুনরায় নির্মাণ করা হবে।

 

/এসটি/

লাইভ

টপ