ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামিকেই আদালতে হাজির করেনি পুলিশ

Send
রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১০:৩১, অক্টোবর ২৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩১, অক্টোবর ২৮, ২০২০

আদালতে দুই নারী আসামি

রংপুরে স্কুলছাত্রী সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় দুই নারীকে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আদালতে হাজির করা হলেও  প্রধান আসামি ডিবি পুলিশের এএসআই রায়হানুল ইসলামকে হাজির করা হয়নি। ঘটনার পর ৪৪ ঘণ্টা পার হলেও পুলিশ তাকে কেন আদালতে হাজির করছে না তা নিয়ে পিবিআই বা রংপুর মেট্রোপলিটান পুলিশের কোনও কর্মকর্তাই কথা বলতে নারাজ। ফলে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিয়ে জনমনে সংশয় দেখা দিয়েছে।

আটক আলেয়া বেগম মেঘলা ও শম্পাকে মূল অভিযুক্ত বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। অথচ স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে যে মামলা করেছেন সেখানে এএসআই রায়হানকে প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তারপরেও কেন পুলিশ তাকে আদালতে হাজির না করে পুলিশ লাইনে রেখেছে এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন মহল। 
মেট্রোপলিটান পুলিশ বলছে,  রায়হান তাদের হেফাজতে আছে। তাকে পুলিশ লাইনে রাখা হয়েছে। আর পিবিআই বলেছে, মেট্রোপলিটান পুলিশ তাদের হেফাজতে হস্তান্তরের পর তাকে পুলিশের জিম্মাতেই সেখানে রাখা হয়েছে।

এ ব্যাপারে পিবিআই রংপুরের পুলিশ সুপার জাকির হোসেন বলেন, ‘আমরা মেট্রোপলিটান পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি এএসআই রায়হান যেন কোথাও চলে যেতে না পারে। সেজন্য আপাতত তাদের জিম্মায় তাকে রাখতে। তার ব্যাপারে আমরা পুরো বিষয় খতিয়ে দেখছি।’  

পিবিআই মঙ্গলবার আরও দুজনকে লালমনিরহাট থেকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলো, বাবুল হোসেন ও আবুল কালাম আজাদ। পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার জাকির হোসেন বলেছেন, বুধবার তাদের আদালতে পাঠানো হবে। 

ধর্ষণবিরোধী মানববন্ধন
এদিকে রায়হানকে আটকের বিষয় নিয়ে রয়েছে ধোয়াশা। রবিবার রাতে হারাগাছ থানা পুলিশ তাকে আটক করে। এরপর থেকে পুলিশ একবার বলে, তাকে আটক করা হয়েছে। আবার বলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে রায়হানের সম্পৃক্ততার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, রায়হান এই ঘটনায় জড়িত নয় বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার মেঘলা ও শম্পার সঙ্গে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফা ইয়াসমিন মুক্তা কথা বলেন। আধা ঘণ্টা কথা বলার পর বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালত আগামী ২১ নভেম্বর মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করেন। ওই দু’জনের পক্ষে কোনও আইনজীবী না থাকায় জামিন আবেদন করা হয়নি বলে আদালতের জিআরও মমতাজ উদ্দিন জানিয়েছেন। এমনকি পিবিআই দুই নারীকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনও করেনি।

স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় মঙ্গলবার রংপুর প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ ও নারী মুক্তি পরিষদ।

প্রসঙ্গত, নবম শ্রেণির ওই ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এএসআই রায়হান। সম্পর্কের সূত্র ধরে রবিবার মেয়েটিকে রায়হান ডেকে নেয় হারাগাছ ক্যাদারের পুল এলাকার  শহিদুল্লাহ মিয়ার ভাড়াটিয়া আলেয়া বেগমের বাড়িতে। সেখানে রায়হান তাকে ধর্ষণ করে। পরে তার পরিচিত কয়েকজন যুবককে দিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণ করায়। এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে ৩ জনের নাম উল্লেখ করে ধর্ষণ মামলা করেন। মেয়েটি রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন আছেন। 

/এসটি/

লাইভ

টপ