দুর্নীতির বিচার চাইলেন রাবির উপাচার্যপন্থী শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা

Send
রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:২২, অক্টোবর ২৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:২৪, অক্টোবর ২৯, ২০২০




রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানপন্থী শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিগত উপাচার্যের সময়ে একটি নির্মাণকাজের দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে ‘ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্যমঞ্চ’ ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে তারা এ দাবি জানান।

কর্মসূচিতে বক্তারা সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মিজান উদ্দীনের সময় শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক নির্মাণে দুর্নীতি ও স্মৃতিফলকে বঙ্গবন্ধুকে অবমাননার অভিযোগ তুলেছেন। এর সঙ্গে জড়িত শিক্ষকদের চাকরি থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলকের রিলিফ ভাস্কর্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ছিল না। মূল কাজে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। ভাস্কর্যে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের বাম পাশে এবং নিচে বঙ্গবন্ধুর রিলিফ ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে জাতির পিতাকে অবমাননা করা হয়েছে। যেটি কোনও প্রগতিশীল শিক্ষকদের কাজ হতে পারে না।

বক্তারা আরও বলেন, স্মৃতিফলকটি নির্মাণে ১৪০০ কেজি তামার ব্যবহার করার কথা ছিল। যার মূল্য ধরা হয়েছিল ১৪ লাখ টাকা। অথচ সেখানে মাত্র ৪৯২ কেজি তামা ব্যবহার করা হয়েছে। বক্তারা নির্মাণকাজের সঙ্গে জড়িত শিক্ষকদের দুর্নীতিবাজ আখ্যা দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে এদের চাকরিচ্যুত করার দাবি জানান।

ব্যাবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. শামীম হোসেনের সভাপতিত্বে ও শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রভাষক এ এন এম ফয়সাল আহমেদের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী, ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক ড. গোলাম সারওয়ার, ফলিত গণিত বিভাগের শিক্ষক আসাদুজ্জামান, চারুকলা অনুষদের শিক্ষক ড. হুমায়ুন কবির, হল প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহবায়ক ড. রবিউল ইসলাম প্রমুখ।

এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও দফতরের শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে সাবেক ভিসি অধ্যাপক মিজানউদ্দিনের আমলে রাবিতে শহীদ তিন শিক্ষকের স্মরণে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ফলকটির নির্মাণ কাজ শুরুর পর কমিটির বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। স্মৃতিফলকের মূল নকশা এড়িয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়। এরপর থেকেই বঙ্গবন্ধুকে অবমাননাসহ এটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের ৩১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭৩তম সিন্ডিকেট সভায় ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের প্রশাসন। পরে অনিয়ম ও দুর্নীতির সত্যতা পাওয়ার তথ্যযুক্ত করে প্রতিবেদন দেয় তদন্ত কমিটি।

বছরজুড়ে রাবির বর্তমান ভিসি অধ্যাপক আব্দুস সোবহান ও সাবেক ভিসি অধ্যাপক মিজানউদ্দিনের অনুসারী শিক্ষকরা একে অপরের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ করে আসছিলেন।

এরই মধ্যে অধ্যাপক মিজানউদ্দিনের অনুসারী শিক্ষকদের করা বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা পায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। এরপর থেকে অধ্যাপক মিজানউদ্দিনের অনুসারী শিক্ষকদের মধ্যে অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত থাকা শিক্ষকদের বহিষ্কার দাবি জানিয়ে আসছে অধ্যাপক আব্দুস সোবহানের অনুসারীরা।

/টিটি/

লাইভ

টপ