১৪০ কোটি টাকার লোকসান পুষিয়েও লাভ করেছে ১৪ কোটি

Send
মেহেদী হাসান, চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশিত : ১৩:০০, নভেম্বর ২১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:১৪, নভেম্বর ২১, ২০২০

কেরু অ্যান্ড কোম্পানি

সেই ব্রিটিশ আমল থেকেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে পুরাতন লাল ইটের গাঁথুনির বেশ কয়েকটা বড় বড় স্থাপনা। বর্তমান বয়স ৮২ বছর। ভবনের মধ্যে রয়েছে বিরাট বিরাট মরিচা ধরা যন্ত্রপাতি। একবার চালু করলে কয়েকবার মেরামত করা লাগে। এভাবেই জোড়াতালি দিয়ে চলছে বছরের পর বছর। তবুও প্রতিবছরই দেশকে দিয়ে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকা মুনাফা। করোনাকালে হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদন করে সাড়া ফেলে। বলা হচ্ছে চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনায় অবস্থিত কেরু অ্যান্ড কোম্পানির কথা। সারাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো একের পর এক লোকসান দিচ্ছে, সে সময়ও ১৪০ কোটি টাকা লোকসান পুষিয়ে প্রায় ১৪ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে কোম্পানিটি।

কেরু অ্যান্ড কোম্পানি

প্রতিবছর আখ মাড়াই মৌসুমে জোড়াতালি দিয়ে কাজ শুরু হয়। কাজ শুরুর পর থেকেই লাগাতার যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এভাবেই  খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে আখ মাড়াই মৌসুম শেষ করে চিনিকলটি। ২০১৮-১৯ রোপণ মৌসুমে আখ মাড়াইয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল তার ধারে-কাছেও পৌঁছুতে পারেনি কোম্পানির চিনি উৎপাদন বিভাগ। ৩ মাসে ৭ হাজার ৩৭৫ একর জমির আখ মাড়াই করে ৮০২৫ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে সক্ষম না হওয়ায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে চিনি উৎপাদন বিভাগে লোকসান গুনতে হয়েছে প্রায় ৭০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। কেরু অ‌্যান্ড কোম্পানিতে রয়েছে ৯টি খামার। খামারগুলোতে নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে এই অর্থবছরে লোকসান গুনতে হয়েছে ৪ কোটি ২২ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫টি বিভাগের মধ্যে চিনি উৎপাদন, সার কারখানা ও বাণিজ্যিক খামারে লোকসান গুনতে হয়েছে প্রায় ৭৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

কেরু অ্যান্ড কোম্পানি
কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ডিস্টিলারি ও বায়োফার্টিলাইজার বিভাগ থেকে ৪৮ লাখ ৬৬ হাজার প্রুফ লিটার দেশি ও বিদেশি মদ উৎপাদন করে মুনাফা অর্জন করেছে ১৫৩ কোটি টাকা। বায়োফার্টিলাইজারে ভিনেগার উৎপাদনে মুনাফা অর্জিত হয়েছে ৩২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। আর হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদনে ১ কোটি ২ লাখ টাকা লাভ করেছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব খাতে ভ্যাট ও শুল্ক খাতে জমা দিতে হয়েছে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা। অবশিষ্ট মুনাফার ৮৮ কোটি ৩৯ লাখ ২৯ হাজার টাকার মধ্যে চিনি উৎপাদন বিভাগ, সার কারখানা ও বাণিজ্যিক খামারের লোকসান গুনতে হয়েছে ৭৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

কেরু অ্যান্ড কোম্পানির তৈরি করা হ্যান্ড স্যানিটাইজার
সরকারের খাতায় রাজস্ব এবং তিনটি বিভাগের লোকসান মেটানোর পর ২০১৯-২০ অর্থবছরে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি মুনাফা অর্জন করেছে ১৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা। 
কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সাঈদ জানান, এ অঞ্চলের অন্যতম অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি কেরু অ‌্যান্ড কোম্পানি। এ প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখতে আখ চাষ বাড়ানো প্রয়োজন। প্রতিনিয়ত চাষিদের আখ চাষের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনাগুলো নিরূপণ করে নিরসনের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সবাই নিজ নিজ স্থানে দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন ও কর্মদক্ষতার পরিচয় দিলে কেরু কোম্পানিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

/এসটি/এমএমজে/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ