দুই মাসেও উদঘাটিত হয়নি শহিদুল্লাহ হত্যা রহস্য

দুলাল আব্দুল্লাহ, রাজশাহী
০৬ জুলাই ২০১৬, ১৬:২৩আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৬, ১৯:৪৩

ইমাম মেহেদীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত নিহত শহিদুল্লাহ চলতি বছরের ৬ মে রাজশাহীর তানোর উপজেলার জুমারপাড়া গ্রামের আমবাগানে ইমাম মেহেদীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত শহিদুল্লাহকে কুপিয়ে হত্যা করেছিল দুর্বৃত্তরা। কিন্তু দুই মাস পার হলেও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তাও বলছেন, তিনটি গ্রুপ এই হত্যার কারণ উদঘাটনে ব্যর্থ হয়েছে। এখনও এই মামলার কোন কূল-কিনারা করতে পারেনি কেউ।
এর আগে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকীর মতো একই কায়দায় ইমাম মেহেদীর অনুসারী শহিদুল্লাহকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল বলে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দিয়েছিলেন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক এনামুল হক।
ময়নাতদন্ত শেষে বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি জানিয়েছিলেন, রেজাউল ও শহিদুল্লাহকে হত্যার ক্ষেত্রে প্রায় একই ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রেজাউল করিমের মতো শহিদুল্লাহকেও ঘাড়ের ডান পাশে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। অথচ শিক্ষক রেজাউল করিম হত্যা মামলার অগ্রগতি হলেও শহিদুল্লাহ হত্যার কোন সুরাহা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন তার বড় ছেলে ও মামলার বাদী রাসেল আহমেদ।

রাসেল বলেন, দুই মাস হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত আমার বাবার হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা হয়নি। অথচ হত্যার পর এই মামলা নিয়ে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী বেশ তৎপরতা দেখিয়েছিল। কিন্তু একমাস ধরে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের কাছে খোঁজ খবর নিলেও তারা ব্যস্ততা দেখায়। এখন আমরা কী করবো?

তানোর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর বলেন, জঙ্গি, ভক্ত ও জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়কে সামনে রেখে মামলার তদন্ত কার্যক্রম করেছিলাম। কিন্তু মামলা হওয়ার পর থেকে আমাকে তদন্ত কর্মকর্তা করে পুলিশ বাহিনীর তিনটি গ্রুপ কাজ করে। কে কার আগে তথ্য উদ্ঘাটন করতে পারবে। এই নিয়ে তারা মাঠে নেমে পড়লো। আইজি স্যার পুরস্কার দিবেন। কিন্তু তিনটি গ্রুপ ব্যর্থ হলো।

তিনি আরও বলেন, এরপর এসপি স্যার আমাকে ডিবিতে মামলা দিতে বললেন। তারা যদি কিছু উদ্ধার করতে পারে। কিন্তু এই মামলার কোন কূল-কিনারা করতে পারেনি কেউ। এখন ডিবিতে ফোন করলে তারা বলে তথ্য আছে। কিন্তু তাদের কাছে কোনও তথ্যই নেই।

নিহত শহিদুল্লাহর মেজো ছেলে ইকবাল হোসেন বলেন, আমার বাবা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন না, রোজাও রাখতেন না। তিনি গভীর রাতে নামাজ পড়তেন। আমাদেরকেও কখনো নামাজ পড়া থেকে বিরত রাখতেন না। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি হবে, এমন কথাবার্তাও তিনি বলতেন না।

পবা উপজেলার নওহাটা কলেজ রোড় এলাকায় নিহত শহিদুল্লার পাশের দোকানি বর্ষা আর্টের মালিক আজিজুল হাকিম বলেন, তিনি নামাজ পড়তেন না। কিন্তু নামাজ প্রতিষ্ঠা করার কথা বলতেন। আগে নামাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জমিজমা সংক্রান্ত নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৬ মে (শুক্রবার) দুপুরে তানোর উপজেলার জুমারপাড়া আবুল হাসানের আমবাগানে দুর্বৃত্তরা শহিদুল্লাকে গলা কেটে হত্যা করে।

আরও পড়ুন: ভিডিওতে বার্তা প্রেরকদের দুজনের পরিচয় নিশ্চিত 

/এমও/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
বিএসইসির চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ ও ৪ কমিশনারের পদত্যাগ
বিএসইসির চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ ও ৪ কমিশনারের পদত্যাগ
দাম বৃদ্ধির একদিন পরই লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য রিভিউ আবেদন
দাম বৃদ্ধির একদিন পরই লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য রিভিউ আবেদন
ফোনালাপ ফাঁসের পর বদলি করা হলো জেল সুপারকে
ফোনালাপ ফাঁসের পর বদলি করা হলো জেল সুপারকে
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম