রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের নবনির্মিত ভবনের কক্ষ বরাদ্দ নিয়ে ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ফিশারিজ, এগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের মধ্যে অসন্তোষ ও বিরোধ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রবিবার সকাল ৯টায় ক্রপ সায়েন্স বিভাগের বরাদ্দকৃত কক্ষে তালা মেরে দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষকদের কয়েকটি নামফলক (নেমপ্লেট) ভাঙচুর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কৃষি অনুষদ সূত্র জানিয়েছে, কয়েক মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ডিনদের সমন্বয়ে গঠিত কক্ষ বরাদ্দ কমিটি ভবনের নবনির্মিত দোতলার দক্ষিণ ব্লক এবং পূর্ব ব্লকের অর্ধেক ক্রপ সায়েন্স বিভাগকে বরাদ্দ দেয়। আর তিনতলায় এগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন ও ফিশারিজ বিভাগকে কক্ষ দেওয়া হয়। কিন্তু কক্ষ বরাদ্দ হওয়ার পর থেকেই এগ্রোনমি এবং ফিশারিজ বিভাগের শিক্ষকদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রবিবার সকালে এগ্রোনমি এবং ফিশারিজ বিভাগের শিক্ষকরা কৃষি অনুষদের অফিস কক্ষ এবং দোতলার দক্ষিণ ব্লকের ক্লাসরুমগুলোতে তালা দিয়ে অনুষদ অফিসের সামনে অবস্থান নেয়।
ক্রপ সায়েন্স বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দীন বলেন, ‘এই ভবনের (কৃষি অনুষদ) নিচতলার অর্ধেক এগ্রোনমী বিভাগের, বাকি অর্ধেক ফিশারিজ বিভাগের। আর ক্রপ সায়েন্স বিভাগের মাত্র একটি ক্লাসরুম ছিল। তাই নবনির্মিত দোতলা এবং তিনতলার মধ্যে দোতলার দক্ষিণ ব্লকে চারটি ক্লাসরুম এবং পূর্ব ব্লকের অর্ধেক বিভাগের অফিসরুম ও শিক্ষকদের কক্ষ হিসেবে বরাদ্দ দেয় কমিটি। আমাদের শিক্ষার্থীরা সে অনুযায়ী বরাদ্দকৃত নতুন কক্ষে ক্লাস করতে গেলে এগ্রোনমি বিভাগের অধ্যাপক ড. আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা চারটি ক্লাসরুমেই তালা দেয় এবং শিক্ষকদের কক্ষের নেমপ্লেট ভাঙচুর করে।’
এগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আমিনুল হক বলেন, ‘আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী অপেক্ষাকৃত বেশি হওয়ার পরও অনুষদ অধিকর্তা অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম নিজ ক্ষমতাবলে ক্রপ সায়েন্স বিভাগকে বেশি জায়গা দিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দোতলার সিড়ির পাশের কক্ষটিতে সাময়িকভাবে ক্লাস নিতে কয়েকটি চেয়ার টেবিল আনা হয়েছিল। কিন্তু ক্রপ সায়েন্স আমাদের না জানিয়ে চেয়ার টেবিল বের করে দেয়।’
ফিশারিজ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আফজাল হোসাইন বলেন, ‘কক্ষ বরাদ্দের বিষয়টি অনুষদের চার বিভাগের সম্মতিতে করার কথা থাকলেও অনুষদ অধিকর্তা অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম কারও সঙ্গে কথা না বলে নিজ ক্ষমতাবলে বণ্টন করেছেন।’
ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কক্ষ বরাদ্দ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্যসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন ব্যক্তিরা। কিন্তু এগ্রোনমি ও ফিশারিজ বিভাগ বেশ কিছুদিন থেকেই আমাকে চাপ প্রয়োগ করছে কক্ষ পুনরায় বরাদ্দ দেওয়ার জন্য।’
কক্ষ বরাদ্দ কমিটির আহবায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, ‘প্রতিটি বিভাগকেই সমানভাবে কক্ষ দেওয়া হয়েছিল। কৃষি অনুষদের ডিনসহ ওই বিভাগকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমস্যা সমাধান করতে বলা হয়েছে।’
/এআরএল/








