জয়পুরহাটের কালাইয়ে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে দুর্বৃত্তদের কোপে জখম হওয়া সেই স্কুলছাত্রীর মাথায় সফল অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তার সফল অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর ৭২ ঘন্টার মধ্যে মেয়েটির জ্ঞান ফেরার কথা বলে চিকিৎসকরা তার স্বজনদের জানিয়েছেন।
অন্যদিকে ঘটনার পর থেকে স্কুলছাত্রীর বাড়ি এলাকায় পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তবে নারকীয় এই ঘটনার তিন দিন পার হলেও এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি।
গত শনিবার রাত প্রায় দেড়টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই স্কুলছাত্রীকে বগুড়ার শহীদ জিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকার আগারগাঁওয়ের নিউরো সায়েন্স ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দিনভর চিকিৎসার পর রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার দুপুর ১টার পর ঢাকা ঢামেকেরর নিউরো সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. অশিদ চন্দ্র সরকার মেয়েটির মাথায় সফল অস্ত্রোপচার করেন।
মেয়েটির ফুফা জাকারিয়া আল মামুন দুলাল জানান, অস্ত্রোপচারের পর ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে মেয়েটির জ্ঞান ফিরতে পারে।
তিনি আরও জানান,উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে ক্ষত-বিক্ষত মাথায় সেলাই দেওয়ার পর তার পুরো মুখ ফুলে গেছে। তিনি মেয়েটির জন্য সকলের দোয়া কামনা করেন।
এদিকে ঘটনার পর থেকে পুলিশের একাধিক টিম ওই এলাকায় নজরদারি অব্যাহত রেখেছেন। রবিবার জয়পুরহাট জেলা পুলিশ সুপার রশীদুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এর আগে ঘটনার পর থেকে কালাই থানা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) অশোক কুমার পাল।
কালাই উপজেলা চেয়ারম্যান মিনফুজুর রহমান মিলন জানান, কালাই থানার বানদিঘী গ্রামের স্কুলছাত্রীর ওপর হামলার ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি মেয়েটির সুস্থতা কামনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত খুঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের নিশ্চয়তা দিয়ে জয়পুরহাট পুলিশ সুপার রশীদুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, মেয়েটির জ্ঞান ফিরলেই তাদের পক্ষে ঘটনাটির সঠিক রহস্য উদঘাটন করা সহজ হবে। পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে ঘরে ঢুকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে কালাই থানার বানদিঘী গ্রামের নবম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে শনিবার ভোরে বগুড়ার শহীদ জিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে রবিবার রাত দেড়টার দিকে ঢাকার আগারগাঁও নিউরো সায়েন্স হাসপাতাল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
/এআর/








