বগুড়া থেকে সদ্য বদলি হওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ডা. তায়েব-উর-রহমান আশিক বিভিন্ন সময়ে বগুড়ার ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে অভিযান চালিয়েছেন। এসব অভিযানে তিনি নানা অনিয়মের কারণে বড় অঙ্কের জরিমানাও করেছেন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষকে। অনেক ক্লিনিক কর্তৃপক্ষই বলছেন, এসব ভ্রাম্যমাণ আদালত সঠিক নিয়ম মেনে পরিচালিত হতো না। ম্যাজিস্ট্রেট আশিকের বিরুদ্ধে নিয়ম না মেনে রোগী দেখার অভিযোগও করেছেন তারা। এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ম্যাজিস্ট্রেট আশিক।
জানা গেছে, গত বছরের ৩১ মার্চ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ডা. তায়েব-উর-রহমান আশিক অভিযান চালান শহরের ঠনঠনিয়া ভাইপাগলা মাজার লেনের আস্থা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এক শিফটে এমবিবিএস ডাক্তার ও লাইসেন্স না থাকায় এক লাখ টাকা জরিমানা ও ক্লিনিক সিল করে দেন তিনি। একই বছরের ২২ এপ্রিল ম্যাজিস্ট্রেট আশিক অভিযান চালান পিটিআই এলাকার একতা জেনারেল হাসপাতালে। ভবন ড্যাম থাকায় ৬ ঘণ্টা অভিযানের হাসপাতালটিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন তিনি।
এছাড়াও গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর বগুড়া শহরের মফিজ পাগলার মোড়ে বগুড়া ডিজিটাল ক্লিনিক, ১৯ ডিসেম্বর দত্তবাড়ি এলাকার মোমেনা নার্সিং হোম ও ২৫ ডিসেম্বর বিসিক ফুলবাড়ি এলাকার শাপলা ক্লিনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে অভিযান চালান ম্যাজিস্ট্রেট আশিক। প্রতিটি অভিযানেই তিনি হাসপাতাল বা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে বড় অঙ্কের জরিমানা বা কারাদণ্ডাদেশ দেন।
সর্বশেষ চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি শহরের কানুচগাড়ি এলাকার ফাতেমা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালান আশিক। ক্লিনিকটির পার্টনার ফজলে রাব্বী জানান, অভিযানে লাইসেন্সে ভুল থাকায় দুর্ব্যবহার ও সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ড দিয়ে পার্টনার মামুনুর রহমান বাবু ও মেডিক্যাল অ্যাসিন্ট্যাট ওমর ফারুককে জেলে পাঠানোর আদেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযানে জরিমানার শিকার ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষের অনেকেই বলছেন, ম্যাজিস্ট্রেট আশিক যথাযথ নিয়ম মেনে অভিযানগুলো পরিচালনা করেননি। এসব অভিযানের অনেকগুলোতেই সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকায় অভিযানগুলো সঠিক ছিল না বলে তারা দাবি করছেন। এছাড়া, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ধার্য করা জরিমানার অঙ্ক মাত্রাছাড়া ছিল বলে অভিযোগ তাদের।
ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষরা বলছেন, ম্যাজিস্ট্রেট আশিকের এসব অভিযান ছিল ‘উদ্দেশ্যমূলক’। বড় ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকে সুবিধা দিতেই তিনি এসব অভিযান পরিচালনা করতেন।
তবে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষদের আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ম্যাজিস্ট্রেট আশিক। নিয়ম না মেনে রোগী দেখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে শুধু ছুটির দিন সহকর্মী, অফিস স্টাফ ও স্বজনদের চিকিৎসা দিতাম আমি।’
বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিচালিত অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চিকিৎসক না থাকা, খোলাস্থানে এক্সরে করাসহ নানা অপরাধে ওইসব প্রতিষ্ঠানকে জেলা-জরিমানা করা হয়েছে। এসব করা হয়েছে বগুড়াবাসীর স্বার্থে। এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনও স্বার্থ ছিল না।’
আরও পড়ুন-
/টিআর/








