বগুড়ায় ক্লিনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান নিয়ে অভিযোগ

বগুড়া প্রতিনিধি
১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১১:৪৫আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ২৩:১৪

বগুড়া বগুড়া থেকে সদ্য বদলি হওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ডা. তায়েব-উর-রহমান আশিক বিভিন্ন সময়ে বগুড়ার ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে অভিযান চালিয়েছেন। এসব অভিযানে তিনি নানা অনিয়মের কারণে বড় অঙ্কের জরিমানাও করেছেন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষকে। অনেক ক্লিনিক কর্তৃপক্ষই বলছেন, এসব ভ্রাম্যমাণ আদালত সঠিক নিয়ম মেনে পরিচালিত হতো না। ম্যাজিস্ট্রেট আশিকের বিরুদ্ধে নিয়ম না মেনে রোগী দেখার অভিযোগও করেছেন তারা। এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ম্যাজিস্ট্রেট আশিক।
জানা গেছে, গত বছরের ৩১ মার্চ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ডা. তায়েব-উর-রহমান আশিক অভিযান চালান শহরের ঠনঠনিয়া ভাইপাগলা মাজার লেনের আস্থা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এক শিফটে এমবিবিএস ডাক্তার ও লাইসেন্স না থাকায় এক লাখ টাকা জরিমানা ও ক্লিনিক সিল করে দেন তিনি। একই বছরের ২২ এপ্রিল ম্যাজিস্ট্রেট আশিক অভিযান চালান পিটিআই এলাকার একতা জেনারেল হাসপাতালে। ভবন ড্যাম থাকায় ৬ ঘণ্টা অভিযানের হাসপাতালটিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন তিনি।
এছাড়াও গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর বগুড়া শহরের মফিজ পাগলার মোড়ে বগুড়া ডিজিটাল ক্লিনিক, ১৯ ডিসেম্বর দত্তবাড়ি এলাকার মোমেনা নার্সিং হোম ও ২৫ ডিসেম্বর বিসিক ফুলবাড়ি এলাকার শাপলা ক্লিনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে অভিযান চালান ম্যাজিস্ট্রেট আশিক। প্রতিটি অভিযানেই তিনি হাসপাতাল বা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে বড় অঙ্কের জরিমানা বা কারাদণ্ডাদেশ দেন।
সর্বশেষ চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি শহরের কানুচগাড়ি এলাকার ফাতেমা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালান আশিক। ক্লিনিকটির পার্টনার ফজলে রাব্বী জানান, অভিযানে লাইসেন্সে ভুল থাকায় দুর্ব্যবহার ও সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ড দিয়ে পার্টনার মামুনুর রহমান বাবু ও মেডিক্যাল অ্যাসিন্ট্যাট ওমর ফারুককে জেলে পাঠানোর আদেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযানে জরিমানার শিকার ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষের অনেকেই বলছেন, ম্যাজিস্ট্রেট আশিক যথাযথ নিয়ম মেনে অভিযানগুলো পরিচালনা করেননি। এসব অভিযানের অনেকগুলোতেই সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকায় অভিযানগুলো সঠিক ছিল না বলে তারা দাবি করছেন। এছাড়া, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ধার্য করা জরিমানার অঙ্ক মাত্রাছাড়া ছিল বলে অভিযোগ তাদের।
ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষরা বলছেন, ম্যাজিস্ট্রেট আশিকের এসব অভিযান ছিল ‘উদ্দেশ্যমূলক’। বড় ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকে সুবিধা দিতেই তিনি এসব অভিযান পরিচালনা করতেন।
তবে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষদের আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ম্যাজিস্ট্রেট আশিক। নিয়ম না মেনে রোগী দেখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে শুধু ছুটির দিন সহকর্মী, অফিস স্টাফ ও স্বজনদের চিকিৎসা দিতাম আমি।’
বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিচালিত অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চিকিৎসক না থাকা, খোলাস্থানে এক্সরে করাসহ নানা অপরাধে ওইসব প্রতিষ্ঠানকে জেলা-জরিমানা করা হয়েছে। এসব করা হয়েছে বগুড়াবাসীর স্বার্থে। এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনও স্বার্থ ছিল না।’

আরও পড়ুন-

‘চোরগুলোর যেন শাস্তি হয়’

মেঘে ঢাকা সাগর-রুনির মেঘ!

/টিআর/

 

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
হবিগঞ্জে নারীর মুখে এসিড নিক্ষেপ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ
হবিগঞ্জে নারীর মুখে এসিড নিক্ষেপ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ
বগুড়ায় দই বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনলেন ব্যবসায়ী 
বগুড়ায় দই বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনলেন ব্যবসায়ী 
৩৮ বছর বাড়ি ফিরে বিপদে জবেদ, স্ত্রী বললেন স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়
৩৮ বছর বাড়ি ফিরে বিপদে জবেদ, স্ত্রী বললেন স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়
বিপর্যয়ের মুখে সুন্দরবন
বিপর্যয়ের মুখে সুন্দরবন
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি