বগুড়াসহ সারাদেশের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের চলমান আন্দোলনে একাত্মতা ও সংহতি জানিয়েছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ও স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদ (স্বাচিপ)। অবিলম্বে চার ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা না হলে পরবর্তী সময়ে বগুড়া জেলার সব চিকিৎসকের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ রাখাসহ পর্যায়ক্রমে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়ার হুমকি দিয়েছে সংগঠন দুইটি। রবিবার (৫ মার্চ) বিকালে দু’টি সংঠনের কার্যকরী পরিষদের জরুরি বর্ধিত সভায় নেওয়া এ সিদ্ধান্ত সন্ধ্যায় ই-মেইলে পত্রিকা অফিসগুলোতে পাঠানো হয়েছে।
বিএমএ বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের উপাধ্যক্ষ ডা. রেজাউল আলম জুয়েল প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, রবিবার বিকালে বিএমএ ভবনে জেলা শাখার সভাপতি ডা. মোস্তফা আলম নাননুর সভাপতিত্বে জরুরি বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিতে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি শজিমেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে সংঘটিত অপ্রীতিকর ঘটনার প্রেক্ষিতে চার জন ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে একতরফা, অযৌক্তিক ও অন্যায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এ আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। সভায় বগুড়াসহ সারাদেশের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ও সংহতিও প্রকাশ করা হয়।
বিএমএর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সারাদেশে নারী চিকিৎসকদের ইভটিজিং ও অন্যান্য চিকিৎসকদের ওপর সংঘটিত সকল হামলা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও সকল চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া, অবিলম্বে চার ইন্টার্নের বিরুদ্ধে গৃহীত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার না করা হলে বগুড়া জেলার সব চিকিৎসকের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ রাখাসহ পর্যায়ক্রমে বৃহত্তর কর্মসূচি গ্রহণ করার হুমকিও দেওয়া হয়।
শজিমেকের ঘটনায় ইন্টার্নদের বিরুদ্ধে গৃহীত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে স্বাচিপও। স্বাচিপ বগুড়া শাখার সভাপতি ডা. শামীর হোসেন মিশুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংগঠনটির এক সভা শেষে সংগঠনটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শজিমেক হাসপাতালের প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও সহনশীল ও সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার আহবান জানিয়েছে। কোনও কুচক্রী মহল যেন ঘোলা পানিতে মাছ শিকার ও ফায়দা লুটতে না পারে তা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছে স্বাচিপ। শজিমেকের ইন্টার্নদের শাস্তি প্রত্যাহার করা না হলে বিএমএ’র মতো কর্মবিরতিসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে সংগঠনটি।
উল্লেখ্য, বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে এক রোগীর স্বজনদের মারধর ও কান ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় জড়িত চার শিক্ষানবিস চিকিৎসকের শাস্তি দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তাদেরকে ৬ মাসের জন্য ইন্টার্নশিপ স্থগিত করা হয়েছে। পরে তাদের চারটি ভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ শেষ করার আদেশও দেয় মন্ত্রণালয়।
/টিআর/আপ-এআর/







