বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ঘুষ ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ‘শ্রান্তি বিনোদন’ ভাতা পায় না বলে অভিযোগ উঠেছে। যারা ভারপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষককে দুই হাজার ২০০ টাকা করে ঘুষ দিচ্ছেন শুধু তাদেরকেই এ ভাতা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতে হাসপাতালের ভুক্তভোগীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তবে ভারপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষক মরিয়ম বেগম ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ দৃঢ়তার সঙ্গে অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, এটা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।
জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতি তিন বছর পর পর বেসিকের সমপরিমাণ টাকা শ্রান্তি বিনোদন ভাতা হিসেবে পেয়ে থাকেন। অন্যান্য অফিসের মতো বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের ২০০ নার্সসহ প্রায় ৩০০ জন এ ভাতা পেয়ে থাকেন। সবাই সর্বশেষ ২০১৩ সালের ভাতা পেয়েছেন। তবে ২০১৬ সালের ভাতা এখনও সবাই পাননি।
কয়েকদিন আগে সরেজমিন মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে গেলে এ ঘুষ দেওয়ার ব্যাপারে কয়েকজন নার্স তাদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। গত সপ্তাহে এ ভাতাপ্রাপ্ত ১৪ জন নার্সের মধ্যে কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, সততার কোনও মূল্য নেই। সেবা পরিদফতরের দেওয়া শ্রান্তি বিনোদন ভাতা তুলতে ভারপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষক মরিয়ম বেগমকে ২ হাজার ২০০ টাকা করে ঘুষ দিতে হয়েছে। ঘুষ না দিলে তিনি চাহিদা পাঠান না। ঘুষ দেননি এমন অন্তত ৫০ জন এখনও ভাতা পাননি।
হাসপাতালের কয়েকজন নার্স, ওয়ার্ডবয় ও আয়া জানান, গত বছরের অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এটা শুরু হয়েছে। তারা এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষক মরিয়ম বেগ ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি এ জন্য হাসপাতালের নার্স নেত্রীদের দায়ী করে বলেন, ‘তারাই এ ভাতা এনে দেওয়ার নামে জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে আদায় করেছেন।’
বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বিধান চন্দ্র মজুমদার জানান, শ্রান্তি বিনোদন ভাতা আনতে ঢাকার নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াই ফেরির মহাপরিচালকের কার্যালয়ে ঘুষ দিতে হয়। এর সঙ্গে তার হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষক বা অন্য কেউ জড়িত নন।
/এআর/








