জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার তুলশীগঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর টানানো নৌকার তোরণ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর নেতা-কর্মীদের আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার পর জয়পুরহাট জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মামুনুর রশিদ ক্ষেতলাল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় সাধারণ ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
মামলা ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, ক্ষেতলালের তুলশীগঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৬ এপ্রিল। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী সহ মোট তিনজন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
গত ৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দাশড়া ফকিরপাড়া এলাকার নির্বাচনি অফিসে আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকরা খিচুরি রান্না করে খাওয়া দাওয়া শেষে রাত ৩টার দিকে যে যার মতো বাড়ি যায়। সকালে তারা জানতে পারেন ওই অফিসের সামনে থাকা নৌকার তোরণ কে-বা কারা আগুন লাগিয়ে দিয়ে পালিয়ে গেছে। এ ঘটনার ১৮ ঘন্টা পর তুলশীগঙ্গা ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় নৌকা পোড়ানোর অভিযোগে ক্ষেতলাল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় আনারস প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হাইকুল ইসলাম ওরফে লেবু মোল্লার ১০ কর্মী সমর্থকের নাম সহ অজ্ঞাত ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পর থেকে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী লেবু মোল্লার কর্মী সমর্থকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হাইকুল ইসলাম ওরফে লেবু মোল্লা অভিযোগ করেন, নির্বাচন শুরুর পর থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নেতা-কর্মীদের নানা ভয়ভীতি উপেক্ষা করে তারা গণসংযোগ চালিয়ে আসছেন। কিন্তু হঠাৎ করে নৌকার তোরণ পুড়ে দেওয়ার অভিযোগ এনে তার কর্মী সমর্থকদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে নৌকায় আগুন দিয়ে তার কর্মী সমর্থকদের নামে মামলা করা হয়েছে। তিনি এ মামলার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
চেয়ারম্যান প্রার্থী লেবু মোল্লার বড় ভাই মাহবুব ইসলাম ওরফে বাবু মোল্লা জানান, ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে তারা দুজনে শুক্রবার রাতে ওই ইউনিয়নের কাজিপাড়া এলাকায় গণসংযোগ করেন। ফেরার পর গভীর রাতে ওইসব বাড়িতে ধাক্কাধাক্কি করে হুমকি-ধামকি দিয়েছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নেতা-কর্মীরা। এ অবস্থায় তারা নির্বাচনে গণসংযোগ চালাতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জিল্লুর রহমান খাঁন। তিনি উল্টো অভিযোগ করে বলেন, ‘স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভাই মাহবুব ইসলাম ওরফে বাবু মোল্লা পুলিশের ভয় দেখিয়েছে মামলার বাদী দেলোয়ার হোসেনকে। এতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ধাওয়া করেছে। ওই সময় ঘটনাস্থলে আমি ছিলাম না। তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট কথা বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘মামলার পর শুক্রবার রাতে সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মামুনুর রশিদ এর সঙ্গে ঘটনাস্থল গেছি। সেখানে মামলার বাদীর সঙ্গে কথা হয়েছে। বাদী লিখিতভাবে আমাদের জানিয়েছেন নৌকা পোড়ানোর সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। পরে শুনেছেন। ওই সময় তিনি কাউকে দেখতেও পাননি। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের পর এ ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অযথা কোনও পক্ষ যেন হয়রানিতে না পড়েন সে বিষয়টিও দেখা হবে বলে তিনি জানান।’
/এফএস/
আরও পড়ুন-







