স্কুল ছাত্রকে আটকের কথা স্বীকার করেছে রংপুর র‌্যাব

নাটোর প্রতিনিধি
৩১ মে ২০১৭, ১৮:৪১আপডেট : ৩১ মে ২০১৭, ১৮:৪১

স্কুল ছাত্রকে আটকের কথা স্বীকার করেছে রংপুর র‌্যাব

জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার এক স্কুল ছাত্রকে আটকের কথা স্বীকার করেছে রংপুর র‌্যাব। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে রংপুর র‌্যাব-১৩ এর এএসপি আলমগীর হোসেন আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

রংপুর র‌্যাব-১৩ এর এএসপি আলমগীর হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আটক মোবারক জঙ্গি সংগঠনের সদস্য। তার বিরুদ্ধে রংপুর কোতয়ালী থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা রয়েছে। আটক মোবারক হোসেন বড়াইগ্রাম পশ্চিমপাড়া এলাকার আব্দুস সাত্তারের ছেলে এবং স্থানীয় আগ্রাণা উচ্চ বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখার ১০ম শ্রেণীর ছাত্র।

এরআগে মোবারককে র‌্যাব পরিচয়ে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু র‌্যাবের পক্ষ থেকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই এনিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় সময় পার করছিলেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকরা। মঙ্গলবার দুপুরে প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে ছাত্রটিকে ডেকে তাকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়।

আগ্রাণা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, প্রথমে গত রবিবার দুপুরে একটি মাইক্রোবাসে করে ৪-৫ জন লোক  বিদ্যালয়ে আসেন। এসময় তারা নিজেদের বোর্ডের প্রজেক্টের লোক বলে পরিচয় দেন। তারা বলেন, বিদ্যালয়ের ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর ৪-৫ জন শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি দেওয়া হবে। তারা বিদ্যালয়ে ভর্তি রেজিস্ট্রি দেখে পরে আসবেন বলে চলে যান। মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে সেই একই দল আবার বিদ্যালয়ে আসে। এসময় তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। বিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিভাগের ইন্সট্রাক্টর ইউনুস আলীর ফোন পেয়ে তিনি বিদ্যালয়ে পৌঁছলে তাকে দিয়ে মোবারকসহ ৫জন শিক্ষার্থীকে ইন্টারভিউ নেওয়ার কথা বলে বিদ্যালয়ে আসতে বলা হয়। মোবারক বিদ্যালয়ে পৌঁছার পর তারা মোবারকের মোবাইল ফোন চেক করেন। এসময় তার ফোনে বেশ কিছু জিহাদী লিখা ও মেসেজ বের করার পর তারা নিজেদেরকে রংপুরের র‌্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে মোবারককে নিয়ে চলে যান।

বিষয়টি সম্পর্কে যোগাযোগ করা হলে মঙ্গলবার বিকেলে নাটোর র‌্যাব অফিসের এএসপি আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত এবং রংপুর র‌্যাব অফিস স্কুল ছাত্রকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে। তবে রাত ১০টার দিকে যোগাযোগ করা হলে রংপুর র‌্যাব-১৩ এর এএসপি আলমগীর হোসেন মোবারককে আটকের সত্যতা স্বীকার করেন (০১৭৭৭৭১১৩০৭)।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, যেহেতু মোবারককে তিনিই ডেকে এনেছিলেন তাই মোবারককে আটকের পর পরিবারের সদস্যরা তার ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল। মোবারককে আটকে র‌্যাবের স্বীকার করার পর তিনি এই চাপ থেকে মুক্ত হয়েছেন পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরাও কিছুটা হলেও উৎকণ্ঠা থেকে বেরিয়ে এসেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, মোবারকের বাবা স্থানীয় একটি মসজিদের মোয়াজ্জিন। মোবারক মাঝে মাঝে ক্লাস করত। তবে সে জঙ্গি সংগঠনের সদস্য কিনা তা তারা জানেন না।

/জেবি

আরও পড়তে পারেন: কুমিল্লায় লরি চাপায় কাস্টমস কর্মকর্তা নিহত


সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বাংলাদেশ সফরের ব্যাখ্যা দিলো আইসিসি
বাংলাদেশ সফরের ব্যাখ্যা দিলো আইসিসি
বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে সহযোগীদের সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে সহযোগীদের সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
বিশ্বকাপের আগে খেলোয়াড়দের নিয়ে সতর্ক ফ্রান্স কোচ
বিশ্বকাপের আগে খেলোয়াড়দের নিয়ে সতর্ক ফ্রান্স কোচ
এক দিনেই ৭০০ তিমি ও ডলফিন হত্যা
এক দিনেই ৭০০ তিমি ও ডলফিন হত্যা
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান