প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুনর্বাসন প্রকল্পের ৩০ লাখ টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ নাজমুল হকের (ইউএনও) বিরুদ্ধে। তবে চেয়ারম্যান ও ইউএনও দু’জনই দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই প্রকল্পের টাকা দেওয়া হয়েছে। এমনকি প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তের বদলে অনুদানের অর্থ ভাগ-বাটোয়ারা করেছে চেয়ারম্যানের অনুসারী নেতাকর্মী ও স্বজনরা। অ্যাকাউন্ট-পে চেকের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তা দেওয়া হয়েছে বেয়ারার চেকে। ফলে বরাদ্দকৃত টাকা থেকে ৪০ শতাংশ টাকা উৎকোচ হিসাবে কেটে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওয়া হয়নি কোনও নথিপত্র।
উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান জানান, নাচোল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের এত বড় বরাদ্দের বিষয়ে মাসিক সভায় এজেন্ডা না রেখে তার নিজস্ব, দলীয় ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এমন প্রতিষ্ঠানের নামে তালিকা তৈরি করে অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান একক ক্ষমতা বলে এ তালিকা তৈরি করেছেন। আর এ প্রকল্পের মঞ্জুরিকৃত অর্থ ৩০ জুনের মধ্যে ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলেও এক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। শুধু তাই নয়, কিছু প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনও কাজ না করে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে টাকা তুলে নিয়েছে। আর মিষ্টি খাওয়ানোর কথা বলে কেটে নেওয়া হয়েছে বরাদ্দের ৪০ শতাংশ টাকা।
উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জান্নাতুল নাইম মুন্নি বলেন, ‘উপজেলা চেয়ারম্যান নিজে একক সিদ্ধান্তে স্বজনপ্রীতি করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এসব অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন। তাই অনিয়মের দায়-দায়িত্ব তাকেই বহন করতে হবে।’
এ ব্যাপারে নাচোল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের জানান, প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ নিয়ম মেনে তালিকা তৈরি করে চেকের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। কোনও দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়নি। তবে বেয়ারার চেকে নিজ ও ইউএনও’র যৌথ স্বাক্ষরের মাধ্যমে লেনদেনের বিষয়টি স্বীকার করেন এবং এ প্রকল্পে দুর্নীতি প্রমাণিত হলে প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ফেরত নেওয়া হবে বিতরণকৃত অর্থ।
নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ নাজমুল হকও দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং বাস্তবে কাজ না করলে অনিয়মের অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
/এমও/








