বগুড়া সরকারি শাহ্ সুলতান কলেজে শিক্ষকের সঙ্গে অসদাচরণের অপরাধে ছাত্রলীগের এক কর্মীকে পরীক্ষার হল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর প্রতিবাদে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বিশ্বজিৎ কুমার সাহার নেতৃত্বে ছাত্রলীগকর্মীরা অধ্যক্ষের কক্ষে হামলা ও ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরের এ ঘটনার সময় তারা অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেছেন। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অধ্যক্ষ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে এ হামলার অভিযোগ করলেও কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি বিশ্বজিৎ দৃঢতার সঙ্গে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘কোনও শিক্ষককে লাঞ্ছিত বা কক্ষে ভাঙচুর করা হয়নি। সাধারণ শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার ফরম পূরণে আইসিটি খাতে রশিদ ছাড়া অতিরিক্ত ৩০০ টাকা আদায়ের প্রতিবাদ করছিলেন। অধ্যক্ষ তাদের রুম থেকে বের করে দেওয়ার সময় চেয়ার উল্টে ও টেবিলের কাঁচ ভেঙে যায়।’
কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এজাজুল হক জানান, ‘ছাত্রলীগ সভাপতি বিশ্বজিৎ কুমার সাহা তার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী না হলেও মাঝে মধ্যোই ১০-২০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে থাকে। গত রবিবারও জোড়পূর্বক ১৫ হাজার টাকা নিয়ে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগকর্মী দ্বাদশ বিজ্ঞানের ছাত্র জোবায়ের হোসেন জয় গত ২৬ আগস্ট সমাজবিজ্ঞান বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক নিলুফার রহমানের সঙ্গে অসদাচারণ করে। এ ঘটনার জন্য শিক্ষকরা গত ২৮ আগস্ট কলেজে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেছিলেন। জয় সেখানে এসেও ওই শিক্ষককে মারধর করার চেষ্টা করেছিল। সোমবার কলেজে জীববিজ্ঞানের প্রাক্টিক্যাল পরীক্ষা চলছিল। নকল করতে না পেরে জয় দায়িত্বে থাকা শিক্ষক রেজাউল করিমের সঙ্গে অসদাচারণ করে। তখন জয়কে পরীক্ষা হল থেকে বের করে দেওয়া হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ এ ঘটনায় দুপুর ২টা ৫ মিনিটে ছাত্রলীগ সভাপতি বিশ্বজিৎ কুমার সাহার নেতৃত্বে ২০-২৫ জন নেতাকর্মী আমার অফিসে এসে হামলা চালিয়ে টেবিল, চেয়ার, টেলিফোন সেট ভাঙচুর করে। বাধা দিলে আমিসহ কয়েকজন শিক্ষককে ধাক্কা দেয় তারা।’
অধ্যক্ষ বলেন, ‘এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যায়।’
শাজাহানপুর থানার ওসি জিয়া লতিফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, অধ্যক্ষের কক্ষে হামলার খবর পেয়ে সরকারি শাহ্ সুলতান কলেজে তিনি গিয়েছিলেন। এর আগেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। অধ্যক্ষ মৌখিকভাবে তার কক্ষে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ দিলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগ ক্যাডারদের অত্যাচারে তারা অতিষ্ট। তাদের কারণে কলেজের কোন উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছেনা। কলেজের পরিবেশ ধ্বংসের পথে। সবকিছুতেই তাদের চাঁদা দিতে হয়। ক্যাম্পাসে একটা গাছের চারা লাগালেও টাকার ভাগ নেয়। সর্বশেষ কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতির নেতৃত্বে সোমবার দুপুরে অধ্যক্ষের কক্ষে ভাঙচুর এবং অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
এ ব্যাপারে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বিশ্বজিৎ কুমার সাহা জানান, ‘তিনি এ কলেজ থেকেই অনার্স পাশ করেছেন, মাস্টার্সে ভর্তি হবেন।’
তিনি বলেন, ‘আইসিটি খাতের নামে রশিদ ছাড়া ৩০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছিল। সোমবার পরীক্ষা চলাকালে অধ্যক্ষ এসে কে কে ফি দেয়নি তা জানতে চাইছিল। তার সংগঠনের কর্মী জোবায়ের হোসেন জয় ও সাধারণ ছাত্র মুক্তাদুর ইসলাম মিম প্রতিবাদ করলে অধ্যক্ষ তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এরপর জয়কে পরীক্ষার হল থেকে বহিষ্কার করা হয়।’
তিনি দাবি করেন, অধ্যক্ষের কক্ষে ভাঙচুর বা কাউকে লাঞ্ছিত করা হয়নি। অধ্যক্ষ সাধারণ শিক্ষার্থীদের তার কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার জন্য ধাক্কা দিলে টেবিলের কাঁচ পড়ে ভেঙে যায়।’
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাইমুর রাজ্জাক তিতাস জানান, তার সংগঠন ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস, শিক্ষকদের মারধর বা অন্য কোনও অপরাধে বিশ্বাস করে না। তিনি মৌখিকভাবে বিষয়টি শুনেছেন। তার সংগঠনের কেউ এ ঘটনায় জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






