বগুড়ায় দুদকের মামলায় সোমবার (২৩ অক্টোবর) আদালতে আত্মসমর্পণ করতে এসে ফিরে গেছেন সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম গত ১৭ অক্টোবর আদমদীঘি থানায় লতিফ সিদ্দিকী ও জাহানারা রশিদ নামে এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে সরকারের সাড়ে ৪০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি করায় মামলা করেন।
দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট এসএম আবুল কালাম আজাদ এবং কোর্ট জিআরও মাহবুবুর রহমান জানান, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী আদালতে আত্মসমর্পণ করতে সোমবার বগুড়ায় আসেন। তার আইনজীবীরা এ ব্যাপারে প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন। কিন্তু এ মামলায় তার জামিন পাওয়ার সম্ভাবনা কম ছিল। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে তিনি (লতিফ সিদ্দিকী) আত্মসমর্পণ না করেই ফিরে যান।
এ প্রসঙ্গে বগুড়ার সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টু জানান, সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী দুদকের মামলার ব্যাপারে তার সঙ্গে পরামর্শ করতে এসেছিলেন। আলোচনা শেষে ফিরে গেছেন।
তিনি আত্মসমর্পণ করলে তার জামিনের সম্ভবনা কম ছিল কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টু বলেন, ‘জামিন দেওয়া না দেওয়া আদালতের এখতিয়ার।’
মামলা সূত্র ও স্থানীয়রা জানান, বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার রানীনগর বাজারে ২ একর ৩৮ শতকের জমিতে বাংলাদেশ জুট করপোরেশনের পাট ক্রয় কেন্দ্র ছিল। বগুড়া শহরের কালিতলা এলাকার মৃত হারুন-অর-রশিদের স্ত্রী জাহানারা রশিদ ২০১০ সালের ১৩ মে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় থেকে জমিটি তিন বছরের জন্য লিজ নেন। প্রতি বছর লিজ মানি ধার্য ছিল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। জাহানারা রশিদ এক বছর লিজ মানি পরিশোধ না করেই ওই জমি কেনার জন্য ২০১১ সালের ২৩ নভেম্বর পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। সরকারি জমি স্থায়ীভাবে বরাদ্দ দিতে বা বিক্রি করতে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের নিয়ম থাকলেও সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী তা করেননি। তিনি তার পরিচিত জাহানারা রশিদের কাছে দরপত্র ছাড়াই জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। তার একক সিদ্ধান্তে ৬৪ লাখ ৬৩ হাজার ৭৯৫ টাকা মূল্যের জমিটি মাত্র ২৩ লাখ ৯৪ হাজার ৭৭৪ টাকায় বিক্রি করেন সাবেক পাটমন্ত্রী। এতে সরকারের ৪০ লাখ ৬৯ হাজার ২১ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়। এ ঘটনায় নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন হেলাল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজ উদ্দিন ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইসমাইল হোসেন হাইকোর্টে রিট করেন। পরে জাহানারা রশিদ সুপ্রিম কোর্টে রিট করলে তার আবেদন খারিজ হয়ে যায়। দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০১৪ সাল থেকে তদন্ত শুরু করেন। সর্বশেষ গত ১৭ অক্টোবর দুদকের সহকারী পরিচালক আদমদীঘি থানায় লতিফ সিদ্দিকী ও জাহানারা রশিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের ২নং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা করেন।
আরও পড়ুন:
দিয়াজের মৃত্যু: হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ আদালতের








